জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি করণীয় নির্ধারণে ৪ সদস্যের কমিটি

34


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে করণীয় নির্ধারণে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। জলাবদ্ধতার প্রকোপ নিরসনে করণীয় নির্ধারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুন) বিকেলে নগরীর টাইগারপাসে চসিক মেয়রের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী।

এসময় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর, ওয়াসা, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী জানিয়েছেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরিভিত্তিতে করণীয় নির্ধারণ করতে গঠিত চার সদস্যের কমিটির প্রধান করা হয়েছে সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামসকে। সদস্য হিসেবে আছেন চসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর মোবারক আলী ও প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম। এছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালককেও কমিটির সদস্য করা হয়েছে।

কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জলাবদ্ধতা বেড়ে অতীতের চেয়ে ভোগান্তি বাড়ার কথা স্বীকার করে সিটি মেয়র সাংবাদিকদের বলেন, ‘এবার জলাবদ্ধতার প্রকোপ বেড়েছে, জনগণের ভোগান্তিও বেড়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। যেকোনো প্রকল্পের কাজ করতে গেলে কিছু সমস্যা তৈরি হয়। এই প্রকল্পের কাজের কারণেও জনগণের ভোগান্তি বেড়েছে। কিছু বাঁধ আছে, আরও কিছু প্রতিবন্ধকতা আছে। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই আমরা খালের বাঁধ অপসারণ করেছিলাম।’

‘এরপরও কেন পানি জমেছে, জলাবদ্ধতার প্রকোপ কেন বেড়েছে, সেটা নির্ধারণ করার জন্য আমরা একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করেছি। তারা এক সপ্তাহের মধ্যে সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখবে— কোথায় বাঁধ আছে, কোথায় কী প্রতিবন্ধকতা আছে। যেখানে বর্জ্য আছে, সেগুলো অপসারণ করা হবে। যেখানে বাঁধ আছে, সেটা অপসারণ করা হবে। পানিপ্রবাহে যেন প্রতিবন্ধকতা তৈরি না হয়, জনগণের ভোগান্তি যেন লাঘব হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই কমিটিটা করা হয়েছে। ইনশল্লাহ, জনগণের ভোগান্তি কমে যাবে।’

সিএমপি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, বন্দর, ওয়াসা, জেলা প্রশাসনসহ সব সেবা সংস্থা এই কমিটিকে সহযোগিতা দেবে বলে জানান মেয়র।

তিনি বলেন, ‘বারবার বলছি, পানি উঠবে। কিন্তু সেটি যেন দ্রুত নিষ্কাশিত হয়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। এবার বৃষ্টিপাত বেশি হয়েছে, জলাবদ্ধতাও বেশি হয়েছে, ভোগান্তিও বেশি হয়েছে। মানুষের ধৈর্যের একটা সীমা আছে। মানুষের ভোগান্তি আমাদের সবাইকে নাড়া দিয়েছে। তাই আমরা সব সংস্থা একযোগে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভোগান্তি নিরসনে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

সারাবাংলা/আরডি/টিআর





Source link