‘চাহিদাপত্র’ পেয়েছেন এমন গ্রাহকদের গ্যাস সংযোগ দেয়ার দাবী

0
431

রাজধানীতে যেসব গ্রাহক ইতিপূর্বে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে টাকা-পয়সা জমা দিয়ে চাহিদাপত্র পেয়েছেন তাদের অবিলম্বে গ্যাস সংযোগ দেয়ার দাবী জানিয়েছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ সভাপতি এম.এ. জলিল।
তিনি বলেন, ২০১৮ সালের ৯ মে সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু গ্রাহদের গ্যাস সংযোগের সরকারি সিদ্ধান্তের কথা জানালেও এতসময় পরও তা বাস্তবায়ন না করে গ্রাহকদের সাথে প্রতারনা করছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারী) নয়াপল্টনের একটি মিলনায়তনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট ঢাকা শহরের বাসাবাড়ীতে গ্যাসলাইন পাওয়ার জন্য অর্থ জমাদানকারীদের পক্ষ থেকে দাবী জানিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ আয়োজিত এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বৈধ চাহিদাপত্র নিয়ে সংযোগের অপেক্ষায় আছেন প্রায় দেড় লাখ গ্রাহক। তিতাস গ্যাস কোম্পানির গ্রাহক ২৭ লাখ; চাহিদাপত্র আছে তবে সংযোগ পায়নি এমন গ্রাহকের সংখ্যা ৮০ হাজার। এ অবস্থায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া এ সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করেন না গ্রাহকরা। তাই তারা অবিলম্বে এই সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংগঠনের সভাপতি এম.এ জলিলের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান স্বপন কুমার সাহা, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ নেতা আ স ম মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশ জাসদ নেতা মো. শাহাবুদ্দিন, রাজনীতিক মো. শহীদুননবী ডাবলু, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সমির রঞ্জন দাস, সরকারী অর্থ জমা দিয়ে চাহিদাপত্র পেয়েছেন এমন গ্রাহকদের মধ্যে জামাল হোসেন, মোস্তফা কামাল, ডা. হাসমত প্রমুখ।

বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ দেয়া নিয়ে এক প্রকার লুকোচুরি করছে সেবাদানকারী সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। বাসাবাড়িতে নতুন করে গ্যাস সংযোগ দেয়া হবে না সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও পেট্রোবাংলার এমন মৌখিক নির্দেশেই বন্ধ রাখা হয় নতুন গ্যাস সংযোগ প্রদান। অথচ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাসাবাড়িতে নতুন করে গ্যাস সংযোগ দেয়া হবে না এ মর্মে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় বা পেট্রোবাংলার তরফে দেয়া হয়নি কোনো লিখিত নির্দেশনা। জারি করা হয়নি কোনো প্রজ্ঞাপন। অন্যদিকে সংযোগ পেতে আগ্রহী গ্রাহকদের গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে বলে নতুন সংযোগ দেয়া হচ্ছে না।

তিনি বলেন, রাজধানীর আশপাশে বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ গ্রাহক বা সংযোগ আছে প্রায় ৫ লাখ। এসব গ্রাহকরা নিয়মিত গ্যাস ব্যবহার করলেও সরকার বিল পাচ্ছে না। এবার এসব গ্রাহকও বৈধতার দাবি তুলতে পারেন। অথচ চাহিদাপত্র থাকা গ্রাহকদের গ্যাস সংযোগ প্রদান করা হবে সরকারের এমন সিদ্ধান্ত থাকার পরও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। যা নাগরিকদের হতাশ ও ক্ষুব্ধ করছে।

তিনি আরো বলেন, দুর্মুখেরা বলছে, এলপিজির ব্যবসাকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার জন্যই আবাসিকে গ্যাস সংযোগ বন্ধ করা হচ্ছে। জ্বালানিসংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে এলপিজির ব্যবসায়ীদের বিশেষ ধরনের বোঝাপড়ার বিষয়টিও আলোচিত হচ্ছে। জ্বালানি খাতের কিছু নামধারী বিশেষজ্ঞকে দিয়ে মাঝে মাঝেই এলপিজি ব্যবহার বাড়ানো এবং আবাসন খাতে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রাখা, এমনকি বিদ্যমান আবাসিক সংযোগে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পরামর্শ দিয়ে প্রবন্ধ-নিবন্ধ লেখানো এবং গণমাধ্যমে তা প্রকাশের ব্যবস্থা করা হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে। এতে অনেকখানি সাফল্যও পেয়েছে এলপিজি ব্যবসায়ীরা। গত কয়েক বছরে এলপি গ্যাসের চাহিদা বেড়েছে ব্যাপক হারে। জাতীয় অর্থনৈতিক প্রয়োজনে নয়, গোষ্ঠীবিশেষের ব্যবসায়িক স্বার্থে এলপি গ্যাস চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে এক ধরনের জিম্মি করে ফেলা হয়েছে গ্রাহকদের। এলপিজি সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে যখন তখন দাম বাড়িয়ে ফায়দা লোটা হচ্ছে প্রশাসনের প্রচ্ছন্ন সহায়তায়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে