চালের বাজারে উত্তাপ নিম্ন আয়ের মানুষ দিশেহারা : বাংলাদেশ ন্যাপ

0
354

দেশে হঠাত করেই চালের বাজারে বাড়ছে উত্তাপ, ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ দিশেহারা পড়ছে বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ বলেছে, মাসখানেক আগে চালের মূল্য কিছুটা কমে উচ্চমূল্যে স্থিতিশীল হয়েছিল। তবে ভারতে চালের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে দেশে আবারও মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে। আড়ৎদার মজুদদার সিন্ডিকেটের কারণে চালের মূল্য দফায় দফায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারের বাজার মনিটরিং সেলের এ ব্যাপারে কোন ভূমিকা নেই। ফলে উচ্চ মূল্যে চাল কিনতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে উঠছে মানুষ।

সোমবার (২ মার্চ) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবতিতে পার্টির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এসব কথা বলেন।

নেতৃদ্বয় বলেন, রাজধানীসহ সারা দেশের পাইকারি ও খুচরা বাজারে চালের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্তে¡ও মোটাচালসহ সব ধরনের চাল ৩ থেকে ৮ টাকা মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। কোনো কারণ ছাড়াই রমযানের আগে দেশে বৃদ্ধি পাচ্ছে চালের মূল্য। আর চালের মূল্যনিয়ন্ত্রণে মনে হচ্ছে নির্বিকার সরকার। আবার মূল্যবৃদ্ধির এ বিষয়টিও সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় ও কর্তৃপক্ষ মানতেই চাচ্ছেন না। তাদের দাবি, চাহিদার কারণে চিকন চালের দাম বাড়লেও, কোথাও মোটা চালের দাম বাড়েনি। কিন্তু বাজারের তথ্য এর সম্পূর্ণ বিপরিত। সমাপ্রতি বাজারে সব ধরনের চালের মূল্যই বৃদ্ধি পেয়েছে।

তারা বলেন, পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরেও কেন চালের মূল্যবৃদ্ধি পাচ্ছে ? এ বিষয়ে সরকার এবং ব্যবসায়ীরাও একে অপরকে দোষারোপ করছে। বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী উভয়েরই অভিযোগ, মিল মালিকরা কারসাজি করে অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের উদ্দেশ্যে সব ধরনের চালের দাম বাড়িয়েছে। আবার মিল মালিকরা বলছেন তারা কোনও ধরনের চালের দাম বাড়াননি। দাম যা বাড়ানোর তা বাড়িয়েছেন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। আর সরকার যতই অস্বীকার করুক, যে কারণেই হোক বাড়তি দাম দিয়েই ক্রেতাদের কিনতে হচ্ছে সব ধরনের চাল। তবে, এসব থেকেই প্রমানিত হচ্ছে সরকারের ব্যর্থতা ও অতি মুনাফালোভী সিন্ডিকেটের কারণেই চালের বাজারে আগুন লেগেছে।

নেতৃদ্বয় বলেন, চালের মূল্যবৃদ্ধির ফলে নিম্নবিত্ত তো বটেই, মধ্যবিত্তেরও সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। পুরনো সেই শক্তিশালী কারসাজি চক্রই এ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিংয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় অধরাই থেকে গেছে চক্রটি। এটি স্বাভাবিক নয়। চালের বাজার নিয়ন্ত্রনের দায়িত্ব সরকারের। কোনো কারসাজি হলে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতা কোনভাবেই জনগন মেনে নেবে না।

তারা বলেন, চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রনে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা জরুরি। চাহিদা ও সরবরাহে সামঞ্জস্য রাখতে হবে। এসবের জন্য বাজার মনিটরিং যথাযথ হতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, ব্যবসায়ী যেন সিন্ডিকেট করতে না পারে। সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের অবশ্যই মাঠ পর্যায়ে যেতে হবে। পাশাপশি পণ্যবাহী ট্রাক থেকে পুলিশের বখরা আদায় ও পথে পথে মাস্তানদের চাঁদাবাজিও বন্ধ করতে হবে। একই সাথে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মনিটরিং করে অসাধু ব্যবসায়ীদের শাস্তির ব্যবস্থা হলে সরকার বাজারে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে