চলার পথে আপাকে যেমন দেখেছি

0
74

শামসুন্নাহার রহমান পরাণ

 

স্মৃতি চৌধুরী :: সর্বপ্রথমে স্মরণ করি স্বামী বিবেকানন্দের বাণী –
“ জীবে প্রেম করে যেইজন
সেইজন সেবিছে ঈশ্বর”

তিনি ছিলেন মানব কল্যাণ হিতৈষী, সমাজসেবী, সর্বজন প্রিয়, সুন্দরের পূজারী, মমতাময়ী মা ও নারী উন্নয়ণের অগ্রদূত। আমার সাথে প্রথম পরিচয় সেই লালখানবাজার অফিসে; কর্মীদের সর্াটিফিকেট বিতরনের সময়। সেই থেকে আপাকে চিনি ও জানি। ছোট্ট তিনটি অক্ষর ‘পরাণ আপা’ নামে। পরাণ আপার অস্তিত্ব সর্বদায় তৃণমূল সম্প্রদায়ের মাঝে বিস্তৃত ও বিরাজমান। এমনকি আর্ন্তজাতিক পর্যায়েও তাঁর পদচারনায় অবিস্মরণীয়।

তিনি সর্বদা নিপীড়িত মানুষের জন্য কাজ করেছেন ও সাহায্যের হাত বাড়াতেন। তাঁর সাহায্যের হাত কমতি ছিল না। তিনি যে এত বড় মহীয়সী নারী, ঘরের গৃহবধু ও সংসারী হয়ে আজ একটি সৃজনশীল কাজ করে গেছেন তা অবিস্মরণীয়। তাঁর উদ্যোগে ইচ্ছায় আজ প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান ‘ঘাসফুল’। আজ এই প্রতিষ্ঠানে নারী-পুরুষ মিলে কাজ করে যাচ্ছেন ৬০০-৭০০ কর্মী। এতজন মানুষের জন্য যিনি আজ এতবড় কাজ করে গেছেন তা চিরদিনই অবিস্মরণীয় থাকবে। তাঁর চিস্তাধারায় দিন দিন এক একটা করে নতুন কাজের ধারা সৃষ্টি হত। তিনি প্রথমে পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করলেও চিন্তা করেছেন মা, শিশু, শিক্ষা পরিবারকে স্বাবলম্বী করে তোলা ইত্যাদি নতুন নতুন কাজ।

সেই ছোট ছোট তাঁর চিন্তাধারা থেকে আজকে জাতীয় পর্যায়ে ‘ঘাসফুল’। তাঁর গুনের শেষ ছিল না। যখনই কেউ নিজের কষ্ট, দূর্দশা নিয়ে তাঁর কাছে আসতেন তৎক্ষনাৎ তাকে সাহায্য করতে পিছুপা হতেন না। তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আছে, তার মধ্যে ঘাসফুল সংস্থার ড্রাইভার ইসমাইল এর ছেলের পড়ার খরচ, সাপোর্ট স্টাফ আবদুল ওয়াদুদ এর মেয়ের পরীক্ষার ফরম ফিলাপ এর টাকা, এমন কি ইন্টার পরীক্ষার ফরম ফিলাপ করতে পারছিল না এমন একজন মেয়েকে টাকা দিয়ে ফরম ফিলাপের মাধ্যমে পরীক্ষা দেবার সুযোগ করে দেওয়া এবং সেই মেয়ের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থারে দেন ‘ঘাসফুল প্রতিষ্ঠানে’।

প্রথমে শিক্ষিকা হিসেবে ঘাসফুল এডুকেয়ার কেজি স্কুলে বর্তমানে মাইক্রোক্রেডিট এ মাদারবাড়ি ৬নং শাখায় হিসাবরক্ষক পদে। এ ধরনের অনেক অনেক দৃষ্টান্ত তাঁর রয়েছে। পরাণ আপার মত মহৎ ব্যক্তিত্ব বর্তমান সমাজে খুবই বিরল। তিনি সবসময় হাসিমুখে সবার খোঁজ খবর নিতেন। অফিসে আসলে জড়িয়ে ধরে হাসিমুখে জিজ্ঞেস করতেন কেমন আছো। আমার কাছে ওনার একটা আবদার ছিল রবীন্দ্র সংগীতের ক্যাসেট। মৃত্যুর কিছু মাস আগেও আমাদের অফিসের সহকর্মী রহমানের মাধ্যমে দুটি ক্যাসেট পাঠিয়েছিলাম পাওয়ার পর ফোনে আমাকে বলেছিল স্মৃতি তোমার ক্যাসেট পেয়েছি কিন্তু শুনতে পারছি না এখানে টুপিছ ক্যাসেট নাই তবে আমার মেয়ে মুন্নী গান শুনার জন্য মোবাইল ফোনে ব্যবস্থা করে দিয়েছে। চিটাগং আসলে তোমার ক্যাসেটের গানগুলো শুনব। ক্যাসেট দুইটির একটি ছিল রবীন্দ্র সংগীতের আর একটি বাবাকে নিয়ে গানের ক্যাসেট।

বলছিল সারা জীবন মাকে নিয়ে গান শুনেছি তবে বাবা নিয়ে গান শুনেছি কম। তুমি আমাকে বাবাকে নিয়ে গানের ক্যাসেট জোগাড় করে দিবে। তবে খুঁজে খুঁজে বের করেছি বেশী করে দিতে পারি নাই। এই ছিল আমার সাথে শেষ কথা । তারপর তো তিনি চলে গেলেন অনেক দূরে যারে খুঁজে পাবনা, তাঁকে কিন্তু স্মৃতি হিসাবে রেখে গেছেন তাঁর অনেক কথা। সর্বশেষ আমি তাঁর আত্নার শান্তি কামনা করি।

 

 

লেখক: সহকারি পরিচালক, হিসাব বিভাগ, ঘাসফুল।

 

The post চলার পথে আপাকে যেমন দেখেছি appeared first on Unitednews24.com.

Source link