চমেক অধ্যক্ষকে ‘জামায়াতের মদতপুষ্ট’ আখ্যা দিয়ে পদত্যাগ দাবি

76


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: মারামারির ঘটনায় ৩১ ছাত্রকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সাহেনা আক্তারের পদত্যাগের দাবি তুলেছে ছাত্রলীগের একাংশ। বহিষ্কৃতদের অধিকাংশকে নির্দোষ উল্লেখ করে ছাত্রলীগ নেতারা বলেছেন, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ ফয়সল ইকবাল চৌধুরীর ‘প্রেসক্রিপশন’ অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চমেকের অধ্যক্ষকে ‘ছাত্রলীগবিদ্বেষী’ ও ‘জামায়াতের মদতপুষ্ট’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন তারা।

বুধবার (২৪ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে সংবাদ সম্মেলনে আসেন চমেক ছাত্রলীগ নেতারা। এতে লিখিত বক্তব্য পড়েন ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ চমেক শাখার সভাপতি কে এম তানভীর। সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া ছাত্রলীগ নেতারা শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

এর আগে, গত ২৯ ও ৩০ অক্টোবর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের প্রধান ছাত্রাবাস ও ক্যাম্পাসে পৃথকভাবে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার পর ৩০ অক্টোবর চমেক অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় ২৭ নভেম্বর চমেক খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া সর্বশেষ মারামারিসহ গত দুই বছরের সংঘাত ও শৃঙ্খলাবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩১ ছাত্রকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়।

চমেক একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চমেকের একাডেমিক কাউন্সিল বৈধ নয়। তারা ছাত্র বহিষ্কারের নামে ভণ্ডামি করেছে। অধ্যক্ষ দূরভিসন্ধিমূলকভাবে চমেক হাসপাতালের পরিচালককে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় আমন্ত্রণই জানাননি।

আরও পড়ুন- ৩১ চমেক শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাখ্যান ছাত্রলীগের একাংশের

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ এনে বক্তব্যে বলা হয়, চমেকের ছাত্র মাহাদি জে আকিবের ওপর হামলাকারীরা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজে চিহ্নিত হলেও এবং এই ফুটেজ ফেসবুকে ভাইরাল হলেও অধ্যক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। বরং অধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসে গিয়ে মাহাদি হামলার শিকার হয়েছেন। হামলাকারী ছিল ১৬ জন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে নির্দোষ ছাত্রদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

বহিষ্কৃত ৩১ জনের মধ্যে ২৩ জনকে কোনো ধরনের সাক্ষ্যপ্রমাণ ছাড়া কেবল মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়।

চমেক অধ্যক্ষকে ‘জামায়াতের মদতপুষ্ট’ আখ্যা দিয়ে পদত্যাগ দাবি

অধ্যক্ষকে ‘জামায়াতে ইসলামীর মদতপুষ্ট’ উল্লেখ করে বলা হয়, অধ্যক্ষের স্বামী জামায়াতের অর্থায়নে পরিচালিত আইআইএমসি’র অধ্যক্ষ। তিনিই মূলত চমেক পরিচালনা করছেন। স্বাধীনতাবিরোধী জামায়তপন্থি কয়েকজন শিক্ষককে চমেকের বিভিন্ন বিভাগের প্রধান করা হয়েছে। জামায়াতপন্থি অনেককে বিভিন্ন পরীক্ষায় পরীক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করেছেন। এভাবে তিনি জামায়াত-শিবিরের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বিতর্কিত ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।

একাডেমিক কাউন্সিলের আজ্ঞাবহ জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের অবৈধভাবে উপস্থিত রেখে অধ্যক্ষ সাহেনা আক্তার ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বহিষ্কার করার ঔদ্ধত্য দেখিয়েছেন এবং শিবির নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাসে অবস্থান মসৃণ করে দেওয়ার অপচেষ্টা করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

অধক্ষের সঙ্গে বসে একজন ঠিকাদার নেতা ও তার দুই সঙ্গী বহিষ্কারাদেশের তালিকা প্রণয়ন করেছেন অভিযোগ করে বলা হয়, ১৯৯৩ সালে ক্যাম্পাসে সংঘটিত ট্রিপল মার্ডারের মূল হোতা নিজের ঠিকাদারি ও সরবরাহ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করতে চাইছেন। দুদকের তদন্তে কোণঠাসা হয়ে পড়া এই ঠিকাদার চিকিৎসকই ক্যাম্পাসে কতিপয় ছাত্রকে বিভ্রান্ত করছেন। অধ্যক্ষের সঙ্গে বসে তার দুই ছায়াসঙ্গী বহিষ্কারাদেশের তালিকা প্রণয়নের পর একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় নাটক মঞ্চস্থ করেছেন। ছাত্রলীগ এ সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না।

আরও পড়ুন- চমেকের ৩১ ছাত্র বহিষ্কার, খুলছে ২৭ নভেম্বর

ঠিকাদার নেতার পরিচয় জানতে চাইলে ছাত্রলীগ নেতা কে এম তানভীর বলেন, ‘বিএমএ নেতা ফয়সল ইকবাল চৌধুরীর প্রেসক্রিপশনে বহিষ্কারাদেশের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ছাত্র সংসদের দু’জন প্রতিনিধি একাডেমিক কাউন্সিলে আছেন। আমরা বারবার অধ্যক্ষকে ছাত্র সংসদ বিলুপ্ত করার কথা বললেও তিনি এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেননি।’

উল্লেখ্য, বিএমএ নেতা ডা. মোহাম্মদ ফয়সল ইকবাল চৌধুরী চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক। চট্টগ্রামের রাজনীতিতে তিনি নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। চমেক ছাত্র সংসদ নিয়ন্ত্রণকারীরাও নাছিরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

অধ্যক্ষ সাহেনা আক্তার জামায়াত-শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, তিনি চমেক ক্যাম্পাসে জাতীয় শোক দিবস পালনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। স্বরস্বতী পূজায় বাধা দেন। জঙ্গিবাদবিরোধী ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে বাধা দেন। তার মদতে ক্যাম্পাসে জামায়াত-শিবির ছদ্মবেশে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে চমেক অধ্যক্ষের পাশাপাশি প্রধান ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মিজানুর রহমানেরও পদত্যাগ দাবি করা হয়। এসময় চমেক ছাত্রলীগ নেতা খোরশেদুল ইসলাম এবং মো. ফয়েজ উল্লাহও উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/আরডি/টিআর





Source link