চট্টগ্রামে ১৫ মার্চ ২০২০ বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস উদযাপন

0
322

১৫ মার্চ বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস-২০২০ চট্টগ্রাম বিভাগে বর্ণ্যাঢ্যভাবে উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উদযাপনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ হতে বেলুন উড়িয়ে শুভ সুচনা করা হয়। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করে “মুজিববর্ষের অঙ্গীকার-সুরক্ষিত ভোক্তা-অধিকার” নির্ধারণ করা হয়েছে। দিবসটির প্রতিপাদ্য এবং ভোক্তা অধিকারের গুরুত্বের উপর আলোকপাত করে সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে মুখ্য আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডীন প্রফেসর এবিএম আবু নোমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এডভোকেট আবুল হাশেম, ‍সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুর রউফ, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, আনসার ও ভিডিপি, চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক ও অধিনায়ক এএসএম আজিম উদ্দিন, বিএসটিআই’র পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার সেলিম রেজা, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ প্রমুখ। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

ক্যাব চট্টগ্রামের সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরীর সঞ্চালনায় ভোক্তা অধিকার আইন নিয়ে পাওয়ার পয়ে উপস্থাপনা করেন ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হোমাম্মদ হাসানুজ্জমান। আলোচনায় অংশনেন সাউর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা অনুষদের অধ্যাপক ড. মোঃ সিরাজুল ইসলাম, পরিবেশবিদ মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ইদ্রিস আলী, বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের মাহবুব রানা, ক্যাব নেতা আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, হাজী আবু তাহের, রেস্তোরা মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক আবদুল হান্নান, দোকান মালিক সমিতির সালেহ আহমদ সোলেমান, বনফুলের জিএম আনামুল হক, চট্টগ্রাম ড্রিংকিং ওয়াটার ম্যানুফ্যাকচার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক ফয়সল আবদুল্লাহ আদনান, ক্যাব নেতা ডাঃ মেজবাহ উদ্দীন, তুহিন, চৌধুরী কেএনএম রিয়াদ, নোমান উল্লাহ বাহার,হুমায়ুন কবির, সালাহউদ্দীন, জানে আলম প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন যে, সমাজে ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে সবার আগে প্রয়োজন সাধারণ ভোক্তা ও ব্যবসায়ীবৃন্দের সচেতনতা। সবাই সচেতন হলে খাদ্যে ভেজাল, ভোক্তা অধিকার বিরোধী অপরাধ দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ভোক্তা অধিকার লংগনের ঘটনা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হটলাইন ও অভিযোগের নাম্বারগুলি দ্রুত জনপ্রিয় ও জনগনের মাঝে প্রচার করতে হবে।

মুখ্য আলোচকের বক্তেব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুষদের ডীন প্রফেসর এবিএম আবু নোমান বলেন যে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২009 একটি যুগোপযোগী আইন। এ আইনের প্রতারিত ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ করতে পারেন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলো আদায়কৃত জরিমানার ২৫% অভিযোগকারীকে প্রদান করা হয়। তবে তা অভিযোগকারীর ক্ষতিপূরণ নয়, বরং প্রণোদনা হিসেবে প্রদান করা হয়। অভিযোগকারী চাইলে ফৌজদারি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পরেও তাঁর আর্থিক ক্ষতির ৫ গুণ ক্ষতিপূরণ দাবি করে দেওয়ানী প্রতিকার চাইতে পারেন।

ক্যাবের কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন তাঁর বক্তব্যে বলেন যে, ভোক্তা অধিকার বলতে একজন মানুষের জীবন ও জীবিকার সাথে জড়িত সবগুলি মৌলিক অধিকার খাদ্য, ভোগ্য পণ্য, সেবা, সবই বোঝাই। শিক্ষা সেবা, চিকিৎসা, গনপরিহন, বাক-স্বাধীনতা থেকে শুরু করে চাকুরীর নিরাপত্তা ইত্যাদিও ভোক্তা অধিকারের আওতাভুক্ত করা প্রয়োজন। কিন্তু সরকার ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষার জন্য যাদের উপর দায়িত্ব ন্যস্ত করেছেন তাদের সক্ষমতা সীমিত। বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন একটি অধিদপ্তর হিসাবে সেভাবে গুরুত্ব না পাবার কারনে বারবার উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। সেকারনে মুজিববর্ষের অঙ্গীকার সুরক্ষিত ভোক্তা অধিকারকে সত্যিকারে রূপান্তর করতে হলে ভোক্তা অধিকার বিষয়ক পৃথক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া বিকল্প নাই।

উপ-পরিচালক জনাব মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ, তাঁর বক্তব্যে বলেন এই অধিদপ্তর ভোক্তাগণের নিকট হতে অভিযোগ গ্রহণের জন্য 16121 নম্বর চালু করেছে। এ ছাড়াও ৩৩৩ নম্বরে কল করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করা যায়। তিনি আরো বলেন, তাঁর দপ্তর আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সততার সাথে কাজ করে যাচ্ছে, ভোক্তা অধিকার বিষয়ক প্রচারণা চলছে, ভোক্তাগণের নিকট হতে প্রাপ্ত অভিযোগ আন্তরিকতার সাথে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে এবং নিয়মিত বাজার তদারকি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সভায় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, সুধীসমাজ, ক্যাব নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশনেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে