চট্টগ্রামে ডিএমআই : সমালোচনার তীব্র জবাব দিলেন শর্মা

চট্টগ্রাম খুলশীর নাসিরাবাদ এলাকার দীর্ঘদিন চলমান মিশন ভাঙনের সুরে এবার দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিলেন আর. শর্মা।

★★★ডিএমআই নিয়ে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কামরুজ্জামান চৌধুরী, এষা মজুমদার বনাম ডিএমআইয়ের প্রাক্তন সদস্য আর. শর্মা(এম. ডিভ)★★★

!-- Composite Start -->
Loading...

★প্রশ্নঃ কেমন আছেন?

★উত্তরঃ ভালো, আপনারা ভালোতো?

★প্রশ্নঃ হ্যাঁ, আমরা ভালো আছি। আমরা একটা দুঃখজনক সংবাদ শুনলাম ডিএম আই কে নিয়ে।রহস্যটা কী?

★উত্তরঃ রহস্য কিছুই না। বরং সুখবর বলতে পারেন। যা শুনছেন, সব তথ্য ভিত্তিহীন।

★প্রশ্নঃ তাহলে কী আমরা মিথ্যা বলছি?

★উত্তরঃ বুঝিয়ে বললে হয়তো বুঝতে পারবো।

★প্রশ্নঃ এই যে ডিএমআই নাই। না থাকা স্বত্ত্বে ও আপনারা জেলা প্রশাসকের অনুদান নিয়ে অনুষ্টান পালিত হলো, এতে আপনার মন্তব্য কী?

★উত্তরঃ আমি যতটুকু জানি, সাধারণত ডিএমআই মিশন চালু হয় প্রায় তিন বছর। প্রতিষ্টানটির পরিচালক এবং প্রধান পুরোহিত ছিলেন ড. রেভা. পলেন পাড়ৈ(পিএইচডি)। তিনি নিজ প্রচেষ্টায় তিন বছর ধরে প্রতিষ্টানের ঘরভাড়া, বিদ্যুৎবিল, বিভিন্ন আনুষ্টানিক খরছাদি নিজেই বহন করেন। ভালোভাবে বুঝার চেষ্টা করুন আমার কথা। কিন্তু প্রতিষ্টানের আমি মূল ৭ জন কমিটির ৩নং সদস্য ছিলাম। বিগত ২২ অক্টোবর শুনতে পাই যে তিনি চট্টগ্রাম থেকে চলে যাবেন। হঠাৎ শুনার পর আবেগ ও দুঃখ পেলাম তবু জানতে চেয়েছিলাম, কেন চলে যাচ্ছেন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি মোটেই চলে যাচ্ছি না। আমি শুধুমাত্র ধর্মপ্রচার করতে বিভিন্ন জেলার একটি পরিকল্পনা করি। যদিও তা একবার চেষ্টা করা। তবে বিশ্বাস রাখুন আমি যাচ্ছি না। এরপর ২৬ অক্টোবর বিকাল ৫ টায় সদস্যদের নিয়ে একটি বৈঠক ডাকি উক্ত বৈঠকে ডিএমআইয়ের দায়িত্ব দেন ভাইস- চেয়ারম্যান সাইমন ব্যানার্জী ও সম্পাদক রেবিকা বাড়ৈ কে। একই দিনে ডিএমআই যেন চট্টগ্রামে থাকেন তার জন্য একটি লিখিত প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই ডিএমআইয়ের দায়িত্ব সাইমন ব্যানার্জী ও রেবিকা বাড়ৈ নিয়েছেন এবং কোষাধ্যক্ষ পদে নিপর্না দাশের স্থানে ডেল আশা রায়কে দায়িত্ব দিয়ে মৌখিকভাবে নতুন কমিঠি গঠন করা হলেও পুরোহিত ড. পাড়ৈ চলে যাওয়ার দুঃখে এবং কিছু তুচ্ছ বিষয় শুনলে ২২ তারিখ ড. পাড়ৈ থেকে মৌখিক বিদায়, ২৬ শে অক্টোবর সন্ধ্যে ৬ টায় যাবতীয় কার্যাবলী থেকে অব্যাহতি নিয়েছি। কারণ যেখানে ড. পাড়ৈ নেই, সেখানে আমার থাকতে ইচ্ছে ছিল না। তবুও ড. পলেন পাড়ৈ ও ওনার স্ত্রী আমাকে ছোট ভাইয়ের মত জানেন। তারা বলেন, আপনি এমনি নিয়মিত কাজের চাপে আসেন না, তবু আমরা যেদিন চট্টগ্রামে আসবো, সেদিন আসবেন। আমি এতে বলছি অবশ্যই আসবো। এরপর ২৩ শে নভেম্বর ড. পলেনের বিদায় অনুষ্টানের শেষ সহভাগিতা লাভ করি। তবে ড. পলেন আমার দৃষ্টিতে প্রতি বুধবার ক্লাস, গসপেল নিউজ, স্ক্রিপ্ট দিয়ে সুন্দর ক্লাস, ফোরাম, শুক্রবার প্রচারসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেন।যা প্রশংসনীয়। একতরফা কথা বলা যায় না। উনার মেয়েকে চট্টগ্রামেরর এক স্কুল থেকে বিতাড়িত করলেও কেউ উনাকে সহযোগিতা করেনি। এরপরও ওনি পরিবারের ভরণপোষণ ও মেয়ের পড়া বন্ধ রেখেও প্রতিষ্টান চালিয়েছেন। একদিন মিস করছে কোন প্রাণী বলতে পারবে না। যদি বলতে পারে ব্যক্তিটি সামনে হাজির করবেন। আমি অব্যাহতি নিয়েছি আমার ব্যক্তিগত দুঃখে। সুখ কি আপনারা প্রশাসনরা দিবেন? না। আমি যতটুকু জানি জেলা প্রশাসক থেকে অনুদান ১০,০০০/= দশ হাজার টাকা এনেছেন দায়িত্বরত কমিঠির সম্পাদিকা রেবিকা বাড়ৈ। তা দিয়ে এবং সায়মন ব্যানার্জীরসহ বিভিন্ন সদস্যদের প্রচেষ্টায় এরাবিয়ান ক্যাপসিকাম হাউসে ২৫ শে ডিসেম্বর অনুষ্টান পালন করেন। উক্ত অনুষ্টানে আমন্ত্রণ করলেও আমি যাইনি। যেখানে তিন বছর একটি প্রতিষ্টান পরিচালনা করেন ড. পলেন পাড়ৈ(পিএইচডি), সেখানে উনার অনুপস্থিতি যদিও মিটিংয়ে বলছিলেন উনি অবশ্যই ডিসেম্বরে অনুষ্টান চট্টগ্রামে পালন করবেন। উনার অনুপস্থিতির কারণে আমার যাওয়ার নৈতিকতায় বাধে। এরপর ও পুরোহিত না থাকলেও নব্য কমিঠির সদস্যরা অনুষ্টান পালন করেন। এরপরও সায়মন ব্যানার্জী, রেবিকা বাড়ৈয়ের বাসায় কয়েক সপ্তাহ প্রচার হয়েছে বলে জানি।

পরে একদিন দুঃখ নিয়ে ড. পলেন থেকে জানতে চাই, কেন আসলেন না অনুষ্টানে? মূলত কারণ কি? আপনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন? উনি উত্তরে বলেন, “আমি কিভাবে যেতে পারি? আমি চট্টগ্রামে কারো জন্য কিছুই করিনি। আপনি জানেন, আমার মেয়ের পড়া বন্ধ প্রায় দেড় বছর, আপনি ছাড়া কোন ব্যক্তি একবারও প্রশ্ন করেনি, মেয়ের ব্যাপারে আপনি জানেন মানসিকভাবে কত যন্ত্রণায় ছিলাম। তবুও প্রতিষ্টানের উপর প্রভাব পড়তে দিই নাই। ঢাকা আশার আগেও জানতে চেয়েছি, প্রতিষ্টান চালানোর জন্য কি কি প্রয়োজন, নিন। তারাই সামনে ছিল, সব বুঝে নিয়েছেন। তারা সহঃ পাষ্টর চেয়েছেন, পাষ্টর দিয়েছি। কিছু কুচক্রধারী তাদের নিজস্ব স্বার্থ উদ্ধার করতে সহঃ পাষ্টর কে তাড়ানো হয়েছে। তাহলে আমি কেনো যাবো? কিসের ভিত্তিতে যাবো? আপনি বলেন। আপনি ছাড়া কোন ব্যক্তি একবার ফোন করে জানতে চাইনি, কেন, কোন দুঃখে আমি যাইনি? আমি ঢাকা আসতেছি, মালপত্র ঘুচ্ছাচ্ছি সবাই ছিল। তখন তো কেউ বলেনি আমি সব নিয়ে আসছি। আমি অপরাধী হলে আমারও সমাধান আছে। কিন্তু আমার থেকে প্রতিষ্টান পরিচালনার জন্য যা প্রয়োজন, যা চেয়েছে তা দিয়েছি। যদি মনে করেন কারো বৃহৎ অনুদান আমি নিয়ে আসছি, এমন একজন ব্যক্তি আসুক, বসুক, কথা বলুক। চট্টগ্রাম থেকে একজন ব্যক্তি বলুক তাদের বৃহৎ অনুদান নিয়ে আসছি। আমার মালপত্র উটানোর সময় সবাই ছিল, তখন কেন রেখে দেননি তাদের বৃহৎ অনুদান! সবাই আমাকে বিদায় দিল, গাড়িতে তুলে দিল তখনো কেউ কোন কথা বলেনি। আজ কেউ বলছে আমি মূলাসহ তুলে নিয়ে আসছি, কেউ বলছে সব খাই পেলছি। নোংরামির একটা সীমা থাকা দরকার। এসব কোন ধরনের ভদ্রতা? যা বলবে সরাসরি বলুক। পিছনে পিছনে বলে লাভ কি! ”

★প্রশ্নঃ ডিএমআই নাই কেন?

★উত্তরঃ ডিএমআই নাই বলতে ঠিক বুঝতে পারছি না।

★প্রশ্নঃ ডিএমআই প্রতিষ্টানের সমাধান তো আছে, তাহলে সমাধান করেননি কেন?

★উত্তরঃ আমি সদস্য থেকে অব্যাহতি নিলে, আমি সমাধান করার কে? ডিএমআইয়ের সমস্যা তো কোথাও হয়নি, কাজেই সমাধানের প্রশ্নই আসেনা। আমি সমাধান করার কে? তাছাড়া পুরাতন সদস্য হিসেবে এই বলতে পারি, ডিএমআই কোথাও পালিয়ে যাইনি। ডিএমআই জোয়ারে ভেসে আসেনি, ভাটার স্রোতে চলে যেত। এটা রেজিঃ প্রাপ্ত প্রতিষ্টান। এটা প্রচার প্রসারতার জন্য সারা বাংলাদেশে কাজ করার অধিকার আছে। ডিএমআইয়ের প্রতিষ্টাতার মেয়েকে স্কুল থেকে বের করে নিন্দনীয় কাজ করছে। কতটুকু যোগ্যতা থাকলে এই ধরনের নোংরা কাজ করতে পারে জানিনা। চট্টগ্রামের মাটিতে তা হইছে। কেউ ড. পলেনের পাশে উনার মেয়ের সমস্যা সমাধানের জন্য আসেননি। আজ যদি আপনাদের কেউ তথ্য দিয়ে থাকেন, তাকে আমার সামনে ডাকুন।

★প্রশ্নঃ ড. পলেন নিয়ে আপনার ধারণা কি? শুনছি প্রতিষ্টান বাণিজ্য করেছেন?

★উত্তরঃ ড. পলেন তিন বছর কাজ করেছেন। প্রত্যেকটা অনুষ্টান তিনি সুন্দরভাবে ঘুছিয়ে করেছেন। বিভিন্ন বই, গেঞ্জি, ক্যালেন্ডার, বুধবার ক্লাস, শুক্রবার মিশন প্রচার, অনলাইন নিউজ, স্ক্রিপ্টের মাধ্যমে সবাইকে প্রচারের অংশ স্পষ্ট বুঝিয়েছেন। কেউ না বুঝলে ফোরামে বুঝিয়েছেন, বুধবার এক্সট্রা ক্লাস নিয়েছেন। আমি দেখিনি কারো থেকে টাকা খুজতে। আর উপহার হিসেবে যার যেমন সাধ্য তেমন দিয়েছে, উনি নিজ থেকে চাইনি। যদি চেয়েছে প্রমাণ দিতে পারেন, ব্যক্তিটাকে নিয়ে আসবেন, প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলাম। একজন ব্যক্তি বের করেন ড. পলেন তার প্রতিষ্টানের ক্লাস, প্রচারের জন্য প্রতিষ্টান বাণিজ্য করেছেন। আশাকরি একজনও পাবেন না।

★প্রশ্নঃ ডিএমআই শত্রু কারা?

★উত্তরঃ ডিএমআইয়ের কোন শত্রু নেই। বরং কেউ যদি ডিএমআইকে শত্রু মনে করেন, তার জন্য সবার আগে ডিএমআইয়ের দরজা খুলা। কারণ অসুস্থ ব্যক্তির জন্য ডাক্তার প্রয়োজন, সুস্থ ব্যক্তির জন্য না। আর কেউ যদি নিজেরা শত্রু মনে করেন, তারা যেন তাদের কর্মকান্ড নিয়ে বিবেচনা করেন। তাদের কার্যাবলী নিয়ে যেন সতর্ক হন।সুতরাং ডিএমআই হ্যান্ডসেক করতে শিখছে, হাত ভেঙ্গে দিতে নই।

★প্রশ্নঃ ভবিষৎ ডিএমআই য়ের লক্ষ্য কি?

★উত্তরঃ আমি ভবিষৎ বাণী প্রণেতা না। হয়তো কিছু ব্যক্তি আছেন যারা ভবিষৎবাণী দেন। মাঝেমাঝে কাজও হয়। আমি বর্তমানে বাস করি। ডিএমআইয়ের পুরাতন সদস্য হিসেবে বলব, পরিস্থিতিই বলবে কি করতে হবে, আর হবে না। তবে আপনাদের যারা তথ্য দিয়েছেন তাদেরকে ডিএমআইযের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাবেন। জানতে চাইব না কে বা কারা! তাদেরকে আবার স্মরণ করিয়ে দিবেন যেন পার্থনা করেন ডিএমআই যেন ডিএমআইয়ের গতিতে চলতে পারেন।

মতামত দিন

Post Author: newsdesk

A thousand enemies is not enough; a single enemy is. There is nothing as a ‘harmless’ enemy.