‘গো এহেড’ কমান্ডের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার নির্দেশ দেন জিয়া

86


সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, ‘গো এহেড’ কমান্ডের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করতে সরাসরি নির্দেশ দেন জিয়াউর রহমান।

বুধবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বংশাল থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে মেয়র তাপস এ কথা বলেন।

ডিএসসিসি মেয়র বলেন, ‘খুনি কর্নেল রশিদ, খুনি ফারুক রহমান কুমিল্লায় গিয়ে খুনি মোশতাকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই ষড়যন্ত্র করেছিল। তারপর ১৯৭৫ সালের মার্চ মাসে সেনানিবাসে জিয়াউর রহমানের বাসায় গিয়ে এ কাজে জিয়াউর রহমানকে সম্পৃক্ত করেছিল। জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হয়েও সেদিন হত্যাকারীদের বলেছিল, ‘গো এহেড’। যখন একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কোনো অধস্তন কর্মকর্তাকে বলে, ‘গো এহেড’, তার মানে এটি একটা নির্দেশ, এটি কমান্ড এবং অধস্তন কর্মকর্তারা তা মানতে বাধ্য। তাই জিয়াউর রহমান সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিল রাষ্ট্রপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করতে। সুতরাং জিয়াউর রহমান খুনি, তিনি বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে খুনের ঘটনায় জড়িত।’

ডিএসসিসি মেয়র বলেন, ‘একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যখন জানতে পারল, অধস্তন কর্মকর্তারা রাষ্ট্রবিরোধী কাজে লিপ্ত হবে, রাষ্ট্রপতিকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে, প্রচেষ্টা করছে তখন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়িত্ব ছিল অধস্তন কর্মকর্তাদেরকে আটক করে ব্যবস্থা নেওয়া। মার্শাল-ল-কোর্টে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। জিয়াউর রহমান সেটি নেয়নি। বরং সেই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল।’

তাপস বলেন, ‘অনেকেই অনেক বড় বড় কথা বলেন। তারা বলেন, জিয়াউর রহমানকে খুনি বলা যাবে না। জ্ঞানপাপীরা আমাদের জ্ঞান দেয়। কিন্তু আমরা যারা স্বজন হারিয়েছি, আমাদেরকে জ্ঞান দেবেন না।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, ‘জিয়া মুক্তিযোদ্ধার আবরণে মূলত পাকিস্তানের এজেন্ট ছিল তা প্রমাণিত। একজন মুক্তিযোদ্ধা কখনও রাজাকার, আলবদরদের নিয়ে সরকার গঠন করতে পারে না। তাদেরকে রাজনীতি করার সুযোগ দিতে পারে না।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এ সময় প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘জিয়া যদি বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত না থাকত তাহলে কেন ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স দিয়েছিল? কেন খুনিদের রক্ষা করছিল? কেন খুনিদের দূতাবাসে দূতাবাসে পদায়ন করেছিল?’

বংশাল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সিরাজউদ্দিন বাদলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য জিন্নাতুল বাকিয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মোর্শেদ হোসেন কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তার হেসেন, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রহমান, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাজী ইসমাইল হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সারাবাংলা/ইউজে/একে





Source link