গৃহবন্দী সময়ে সময়োপযোগী পদক্ষেপ ও রুদাবার বসন বৈচিত্র‍্যের পথচলা!!

85


লকডাউনের দীর্ঘ গৃহবন্দী সময়টায় আমরা দেখেছি তরুণ সমাজের ব্যবসায়ের প্রতি আগ্রহ এবং প্রচলিত ধ্যান ধারণার বাইরে গিয়ে কিছু করবার প্রয়াস। কেবল চাকরি করেই স্বাবলম্বী হতে হবে, কিংবা উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরও ব্যবসায় যুক্ত হওয়া যাবেনা, কিংবা লোকে কি বলবে!! এমন সকল দ্বিধা পেছনে ফেলে একে একে উঠে এসেছেন অনেক উদ্যোক্তা। তেমনই একজনের সাথে পরিচিত হবো সাকসেস স্টোরির আজকের পর্বে। তিনি “বসন বৈচিত্র‍্য” এর স্বত্তাধিকারী। উনার পরিচয় এবং সমস্ত পথচলা জেনে নেবো তাঁরই মুখ থেকে-

 

YSSE: শুরুতেই নিজের সম্পর্কে যদি জানাতেন?

 

রুদাবা তিতলি: আমি রুদাবা তিতলী। পড়াশোনা করেছি  বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে আর কলেজ ছিলো মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ,ময়মনসিংহ। এখন পড়ছি

শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যাল, নেত্রকোনায়। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে, অর্থনীতি বিভাগের ২য় বর্ষে অধ্যয়নরত আছি।

 

YSSE: পড়াশোনার পাশাপাশি এই ব্যবসায় সম্পৃক্ত হবার পরিকল্পনা কখন মনে এলো? এবং কোন প্রেক্ষিতে?

 

রুদাবা তিতলি: ২০২০ এর মার্চ মাসে ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার দীর্ঘ ৬ মাস বাসায় বসে থেকে ভীষন বোর হচ্ছিলাম।

সেই সময় অনেককেই দেখলাম বিজনেস পেইজ খোলা শুরু করেছে। তখন পরিচিত এক আপুকে সাজেস্ট করলাম পেইজ খোলার জন্য, আপু রাজি হলো কিন্তু ঢাকা থেকে প্রোডাক্ট নিয়ে আসা, ডেলিভারি দেয়া, লাইভ করা সহ মোটামুটি সবধরনের কাজ কয়েকজন বন্ধু মিলে সাহায্য করতাম। কাস্টমারের রেসপন্স আসা শুরু হলো।

হঠাৎ  মনে হলো বিজনেস সম্পর্কে কিছুটা আইডিয়া এসেছে যেহেতু তাহলে নিজেই তো একটা বিজনেস শুরু করতে পারি।

 

YSSE: এরপরের যাত্রাটা কেমন ছিলো? প্রাথমিকভাবে, আনুমানিক ইনভেস্টমেন্ট কেমন ছিলো?

 

রুদাবা তিতলিঃ করোনাকালীন সময়ে বসে না থেকে বিজনেস করাটাই সঠিক পদক্ষেপ মনে হয়েছে। প্রায় ১৫০০০টাকার মত ইনভেস্ট করে, প্রোডাক্ট নিয়ে এসে বিজনেস শুরু করলাম অনেক ধরনের আইডিয়া আসতে থাকলো মাথায়। কিছুদিন কাঠের গয়না, কখনো বা হ্যান্ডপেইন্টেড পাঞ্জাবি সেল করলাম। 

 

YSSE: বিজনেস করতে গিয়ে কোনো নির্দিষ্ট স্ট্র‍্যাটেজি অনুসরণ করেন কি? যেটা আপনাকে সম্ভাব্য ক্ষতির মুখ থেকে দূরে রাখে এবং ক্রমাগত লাভের ধারাটা বজায় রাখে?

 

রুদাবা তিতলিঃ স্টক করার জন্য যেহেতু নির্দিষ্ট জায়গার প্রয়োজন, যেটা আমার নেই এবং কাস্টমারের চাহিদা অনু্যায়ী নিত্যনতুন চাহিদার সাথে তাল মেলাতেও হয়; উপরন্তু ড্রেস সরাসরি কারখানা থেকে নিয়ে আসা আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়, অপরদিকে করোকালীন সময় বলে পরবর্তীতে প্রোডাক্ট স্টক করার চিন্তা বাদ দিয়ে সরাসরি ডিলারের সাথে যোগাযোগ করে প্রোডাক্ট নিয়ে আসা শুরু করলাম। অনেকটা প্রি-অর্ডার বেইজড।

 

YSSE: ব্যবসায়ের পুরো কার্যক্রমটা কিভাবে সম্পন্ন হয়?

 

রুদাবা তিতলিঃ প্রথমে ডিলারের কাছ থেকে পণ্যের ছবি এবং বিবরণ নিয়ে আমি আমার পেইজ বা গ্রুপে পোস্ট করি, ৩-৫ দিন পর যতগুলো অর্ডার আসে সেগুলো ডিলারের কাছ থেকে পাইকারী মূল্যে নিয়ে এসে হোম ডেলিভারি দিয়ে থাকি।

এক্ষেত্রে লাভ সীমিত হলেও অন্তত ক্ষতির সম্মূখীন হতে হয়না।

তারপর আর বিজনেস নিয়ে ভাবতে হয়নি।

পাশাপাশি চায়না প্রোডাক্ট প্রি-অর্ডার নেয়া শুরু করলাম, নির্দিষ্ট সময় পর প্রোডাক্ট বাংলাদেশে পৌঁছায় এবং সেগুলো দ্রুত হোমডেলিভারি দিয়ে থাকি। ময়মনসিংহের ভেতরে ৪০ টাকা ডেলিভারি চার্জ এবং ময়মনসিংহের বাইরে ১০০৳ ডেলিভারি চার্জ প্রযোজ্য।

বসন বৈচিত্র‍্যের উল্লেখযোগ্য কিছু পণ্য

YSSEঃ বসন বৈচিত্র‍্যের পণ্যের তালিকায় কি কি আছে বর্তমানে এবং ব্যবসায়ের কাজে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলো কিভাবে মেইনটেইন করা হয় জানতে চাইবো এবং পুরো কাজটায় সহযোগিতা করে এমন কেউ আছে কি?

 

রুদাবা তিতলিঃ মূলত পরিধেয় পণ্য। বিশেষ করে থ্রিপিস,শাড়ি,পাঞ্জাবি,শার্ট, পাকিস্তানি বা ইন্ডিয়ান ড্রেস, ব্যাগ, সুজ ছাড়াও বিভিন্ন কসমেটিকস আইটেমস আমার পেইজে রয়েছে। ২২০০ জন মেম্বার আমার ‘বসন-বৈচিত্র‍্য’ গ্রুপে রয়েছে।

করোনা পরবর্তী সময়ে বিজনেস আরো বড় পরিসরে শুরু করা পরিকল্পনা রয়েছে।

কোন প্রোডাক্ট কোথায় পাওয়া যাবে  অর্থাৎ  পাইকারি মূল্যে উন্নতমানের প্রোডাক্টের উৎস বের করতে এবং পেইজ কিভাবে রান করতে হবে সেসব ব্যাপারে ‘বসন বৈচিত্রের’ এডমিন সাজ্জাদ ইসলাম বিভিন্ন সময় সাহায্য সহযোগিতা  করে থাকে। তাছাড়াও, আমার রিসেলার রয়েছে কয়েকজন যারা আমার কাছ থেকে প্রোডাক্ট নিয়ে সেল করে সেক্ষেত্রে পণ্যের খুচরা মূল্য একই থাকে। এবং আমি তাদের নিদিষ্ট মূল্য কমিশন হিসেবে দিয়ে থাকি।

 

YSSE: একেবারে পাকাপোক্ত ক্যারিয়ার হিসেবে এই ব্যবসাকে ধরে রাখবেন ভবিষ্যতে? নাকি মূল লক্ষ্য অন্য কিছু আছে?

 

রুদাবা তিতলিঃ না, মূল ক্যারিয়ার হিসেবে এটা রাখবো না কিন্ত বিজনেসটা একেবারে ছেড়েও দেবোনা।

কারণ আমার পরিবারের সদস্যরাও আমার এই উদ্যোগে অনেক উৎসাহ  দেখিয়েছেন। আমি নিজে সময় দিতে না পারলেও অন্যরা সময় দিবে আমার এই বিজনেসে। শুধু তাইনা, করোনা পরবর্তী সময়ে আরো বড় পরিসরে কাজ শুরু করবো ইচ্ছে আছে।

 

সাফল্যের মুখ দেখতে হলে ধৈর্য্য, পরিশ্রম আর ক্রমাগত ব্যবসায়ের নতুন সব পদ্ধতি শিখে নেবার তাড়না থাকতে হবে। নিজের পণ্যের সঠিক প্রচারও এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। রিস্ক নেবার মতন সাহস, সঠিক স্ট্র‍্যাটেজি আর আশেপাশের মানুষের একটুখানি সাপোর্ট পৌঁছে দিতে পারে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে। জীবনে স্বনির্ভরতার চেয়ে বড় স্বাধীনতা আর কিছু হতে পারেনা, আর চাকরির আকালে ব্যবসায় হতে পারে স্বনির্ভরতার চাবিকাঠি।

 

আমাদের অন্য ব্লগগুলো পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

 

Nishat Azad Chua

Intern, content writing department

YSSE



Source link