গাঁও গ্রামের বধূ

0
117

গাঁও গ্রামের বধূদের ভাই
কোমল মতি মন,
স্বামীর সেবায় উৎসর্গ করে
নিজকে সারাটি জীবন।

কষ্ট করে রেঁধে বেড়ে
স্বামীকে খাওয়ায় আগে,
পতিকে ছাড়া খেতে চায় না
থাক না ক্ষুধা লেগে।

রোদ বৃষ্টিতে পতি যখন
মাঠে কাজ করে,
গৃহে বধূর মন করে উচাটন
স্বামী ফিরবে কখন ঘরে।

পড়শীদের দ্বারা নেয় গো খোঁজ
পরানের স্বামী ফিরে না কেনো ঘরে,
এতো দেরি করছে কেনো
আকাশ যে কেমন করে!

না জানি গো ঝড় বাদলে
বজ্রপাত যদি হয়,
অধীর চিত্তে করে ছটপট
পতির পথ পানে চেয়ে রয়।

অপেক্ষার প্রহর শেষে
ঘরের মানুষ ফিরে যখন আসে,
প্রণয়ের হাসি হেসে
দাঁড়ায় গো তখন পাশে।

শত প্রশ্ন বাণে পরানের স্বামীর
নেয় সুখ দুঃখের খোঁজ,
ঝড়-বাদলে এমন করে
করে না যেন দেরি রোজ রোজ।

গ্রীষ্মের দুপুরে পতি যখন
ঘরে ফিরে আসে,
হাতে তুলে দেয় লেবুর শরবত
গা শীতল করে পাখার বাতাসে।

কখনো যদি পরানের স্বামী
অভিমান করে,
পল্লী বধূ করে অনুনয়
পতির হাতে পায়ে ধরে।

ভুল যদি না হয় বধূর তবুও
নিজেকে নিজে দেয় গালি,
গত রাতে খায়নি ভাত
পেট যে পরানের স্বামীর খালি।

মুখ মুদে সহ্য করে
কৃষক স্বামীর মুখ ভাঙা গাল,
তবু শত চেষ্টায় অভিমান ভাঙায়
পরানের স্বামী যে ভাত খায়নি কাল।

অতঃপর পরানের স্বামীর
অভিমান ভাঙলে অবশেষে,
রাগ অনুরাগে গদ-গদ কণ্ঠে বধূ
বকুনি দেয় প্রণয়ের হাসি হেসে।

এমনি মধুর চলে
গাঁও গ্রামের বধূর সংসার,
এতো প্রেম-প্রীতি, এতো ভালোবাসা
অন্য কোথাও খোঁজে পাবে নাকো আর।

লেখক: আমিনুল ইসলাম
ইসলামপুর, সাপাহার, নওগাঁ।

মতামত

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে