গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতা চেয়েছে মেয়র আ জ ম নাছির

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ সড়ক সংস্কারে ভোগান্তি ও হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় এই দুই বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ‘উদার সহযোগিতা’ চাইলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।

গত মঙ্গলবার সিসিসির শিক্ষা স্ট্যান্ডিং কমিটির চার বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সিসিসির শিক্ষা খাত বিষয়ে প্রশ্নোত্তর শেষে সড়ক সংস্কার বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে নিজেই কথা শুরু করেন মেয়র আ জ ম নাছির।

তিনি বলেন, “ওয়াসা দুটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এজন্য বিভিন্ন রাস্তা কাটা হচ্ছে। বিমানবন্দর সড়কও কাটা হচ্ছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যে, ভোগান্তি সেটা সহনীয় পর্যায়ে রাখতে। আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছি।

“হাটহাজারী সড়ক ও আরাকান সড়কের কাজ শুরুর উদ্যোগ নিয়েছি। যাতে দ্রুত হয় সেজন্য আরাকান সড়ক ১২টি লটে ভাগ করে দিয়েছি। নানা সংস্থার কাজের কারণে দুই বছর ধরে রাস্তাটির অবস্থা খারাপ।”

উপস্থিত সাংবাদিকদের মেয়র নাছির বলেন, “এখন যদি দুই মাসের মাথায় কাজের অগ্রগতি দেখে আপনারা বুঝতে পারেন যে, বাকি সময়ে কাজ শেষ হবে না, সেটা লিখলে কারণটাও তো উল্লেখ করতে হবে।

“দিন শেষে সব করপোরেশনের ঘাড়ে বর্তায়। এককভাবে সিটি করপোরেশনের কোনো ব্যর্থতা বা অবহেলা এখানে নেই। এখানে সিটি করপোরেশনের অবস্থা যেন ফুটবলের মতো …।”

মেয়র বলেন, “আমাদের মানুষ সহজ-সরল। যা লেখা হয় তাই বিশ্বাস করে। যাদের এসব নিয়ে অপরাজনীতি করার ইচ্ছা তারা এগুলো নিয়ে অপপ্রচার করে। ফেইসবুকে লেখালেখি করে।”

গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, “প্রত্যেকটা রাস্তা, চ্যালেঞ্জ কী কী আছে আপনাদের জানাব। কিছু হ্যাজার্ড আছে। আপনারা উদারভাবে সহযোগিতা করুন। যদি আপনারা সহযোগিতা করেন, পাশে দাঁড়ান সবই সম্ভব।”

এর আগে হোল্ডিং ট্যাক্সের প্রসঙ্গ তুলে সাংবাদিকদের উদ্দেশে মেয়র বলেন, “আপনারা সহযোগিতা করলে ভালোভাবে করতে পারতাম। …করলেন না। আরও পিছনে লেগেছিলেন। তো পারলাম না।

“আপনারা তো অনেকেই ভাড়া বাসায় থাকেন। একটু দেখবেন যে, বাড়িওয়ালাদের ভাড়া দেন তারা সিটি করপোরেশনে কত টাকা ভাড়া দেখিয়ে কত ট্যাক্স দেন। ১৫ হাজার টাকার ভাড়া সাত হাজার বললেও তো চলে। কিন্তু তারা বলেন, চার হাজার টাকা। খুলশির বাড়িতেও যদি বলে ভাড়া চার হাজার টাকা!।”

সিটি করপোরেশন পরিচালিত স্কুল-কলেজগুলোতে শিক্ষার মান নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র নাছির বলেন, “অনেকে বুঝে বলে, অনেকে না বুঝে বলে। চার বছরে শিক্ষাখাতে এত অর্জন আগে কখনও হয়েছিল কী? জেনে বললে এ কথা বলত না।

“আমাদের স্কুলগুলোতে অনুরোধ-উপরোধ মেনে যোগ্য নয় এমন অনেক শিক্ষার্থীকেও ভর্তি করাতে হয়। শিক্ষার মান আমরা বলব খুব ভালো।”

গত চার বছরে সিটি করপোরশন পরিচালিত স্কুল-কলেজগুলোতে অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন ভবন নির্মাণ, শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন সিসিসির শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিসিসির শিক্ষা স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি নাজমুল হক ডিউকসহ শিক্ষা কর্মকর্তারা।

মতামত দিন

Post Author: newsdesk

A thousand enemies is not enough; a single enemy is. There is nothing as a ‘harmless’ enemy.