খুলছে ইংরেজি মাধ্যমও

68


তুহিন সাইফুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: করোনা মহামারিতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো বন্ধ ছিল ইংরেজি মাধ্যমও। তবে এই সময়ে চলেছে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম। ব্রিটিশ কারিকুলামে নিয়মিত পরীক্ষাও নিয়েছে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সবকিছু ঠিক থাকলে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সশরীরে ক্লাস শুরু হবে ইংরেজি মাধ্যমেও।

আগামী ১২ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এদিন যদি এই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়, তাহলে সেইদিনই খুলবে ইংলিশ মিডিয়াম ক্লাসরুমের দরজাও।

স্কলাস্টিকা, ধানমণ্ডি টিউটোরিয়াল, মাস্টারমাইন্ড, একাডেমিয়া, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল, বিয়াম ল্যাবরেটরির মতো রাজধানীর বেশ কয়েকটি ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সারাবাংলাকে জানিয়েছে, সরকারি নিয়ম মেনে প্রথম দিন থেকেই শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনতে চায় তারা।

বিয়ামের অধ্যক্ষ সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ক্লাসে ফেরার অপেক্ষা আছি। শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে ফিরতে চাইছে। ১২ তারিখে যদি বিদ্যালয় খোলার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে, তাহলে আমরাও সেদিন থেকে ক্লাস শুরু করব।’

খুলছে ইংরেজি মাধ্যমও

একই কথা বলেছেন অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অধ্যক্ষরাও। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, সারাবাংলাকে বলেন, ‘করোনাকালে আমরা অভ্যন্তরীণ পরীক্ষাসহ অন্যান্য কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করেছি। ফলে শিক্ষার্থীদের সেশনজটে পড়তে হয়নি। বিদ্যালয় খুলে দিলে শিক্ষার্থীরা দারুণভাবে বছরটি শেষ করতে পারবে।’

অনলাইন শিক্ষা নিয়ে খুব বেশি অভিযোগ না থাকলেও বিদ্যালয় খুলে দেওয়ার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও। আজিমপুরের লিটল অ্যাঞ্জেল স্কুলের এক শিক্ষার্থীর মা সারাবাংলাকে বলেন, ‘এতদিন অনলাইনেই ক্লাস-পরীক্ষা হয়েছে। স্বাভাবিক ক্লাসের তুলনায় অনলাইনে সেভাবে ক্লাস হয়নি, তবে পড়াশোনাও আটকে থাকেনি।’

অবশ্য কয়েকজন অভিভাবক অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের ‘বাধ্য’ করা নিয়ে কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রতিদিন অনলাইন ক্লাস করা শিক্ষার্থীরা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রকমের মানসিক সমস্যার শিকার হতে পারে।

ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয় খোলা প্রসঙ্গে মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক সারাবাংলাকে বলেন, ‘বিদ্যালয় খুলে দেওয়ার ঘোষণা আসলে ইংরেজি বন্ধ রাখার কোনো সুযোগ নেই। সবার সাথে তাদেরকেও খুলতে হবে, ক্লাস শুরু করতে হবে।’

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)- এর দেওয়া তথ্যমতে করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশে ১৪৫টি ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল। এসব প্রতিষ্ঠানে সাত হাজারের বেশি শিক্ষক ২৭ হাজারের মতো শিক্ষার্থীকে নিয়মিত পাঠদান করছেন। প্রায় সব ইংরেজি মাধ্যম প্রতিষ্ঠানেই ব্রিটিশ কারিকুলাম মেনে ক্লাস-পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়। গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ আছে। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ছুটি কার্যকর থাকবে।

সারাবাংলা/টিএস/এএম





Source link