খুটির জোর কোথায়? সেই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ

ক্রাইম প্রতিবেদকঃ অবশেষে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার জামালগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিদ্যালয় পরিত্যাগের ছাড়পত্র (টিসি) দেওয়ার পর চাপের মুখে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে বিনা কারণে ওই টিসি নিয়ে স্কুলছাত্রী মানসিকভাবে শাস্তি পেলেও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থায় নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় মেয়ের পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।
জামালগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রথম ঘণ্টার পর থেকে দুপুরে টিফিন পর্যন্ত ক্লাস করে ওই ছাত্রী। এরপর সে টিফিন খেতে স্কুলের বাইরে চলে যায়। টিফিন খেয়ে স্কুলে ফিরতে মেয়েটির দেরি হয়। এ অপরাধে মেয়েটিকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও প্রধান শিক্ষক একতরফা সিদ্ধান্ত নেয় মেয়েটিকে টিসি দেওয়ার। পরদিন মেয়েটিকে বিনা কারণে টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জামালগঞ্জ বাজারে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করে। একই দিনে স্কুলের অফিস সহায়কের ওপরে হামলার ঘটনায় দুইপক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। এরপর অফিস সহকারীর ওপর হামলার ঘটনায় স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও পৌর মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবারে ওই ছাত্রীর পক্ষের ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা করেন। এরপরও টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
এক পর্যায়ে গত শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে মেয়েসহ তার মাকে স্কুলে ডেকে এনে একটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে বিদ্যালয় পরিত্যাগের ছাড়পত্রের (টিসি) কাগজটি হাতে দিয়ে তাদেরকে বের করে দেওয়া হয়। ওই ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখেন। তিনি তদন্তে মেয়েটিকে টিসি দেওয়ার মতো কোনো অপরাধ পাননি। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাপের মুখে মেয়েটির টিসি প্রত্যাহার করা হয়। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মেয়েটির বাবা বলেন, আমার মেয়েকে মিথ্যা কারণ দেখিয়ে টিসি দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দিয়েছিলেন প্রধান শিক্ষক। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাপে তিনি আমাদের বাড়িতে এসে টিসি জমা নিয়ে গত সোমবার থেকে মেয়েকে আবার স্কুলে যেতে বলেছেন।
রুকিন্দীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আহসান কবির বলেন, মেয়েটিকে অন্যায়ভাবে টিসি দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। আমরা তার জোড়ালো প্রতিবাদ করায় বাধ্য হয়ে প্রধান শিক্ষক টিসি প্রত্যাহার করে নিয়ে মেয়েটিকে আবার স্কুলে নিয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধাণ শিক্ষক রানা কুমার সরকার বলেন, মেয়েটিকে আমরা আবারও স্কুলে ফিরে নিয়েছি। তাকে যে টিসি দেওয়া হয়েছিল তা প্রত্যাহার করে নিয়েছি। এখন সে নিয়োমিত স্কুলে এসে ক্লাস করছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ টি এম জিল্লুর রহমান আজ বুধবার দুপুর ১২টায় সাংবাদিকদের বলেন, জামালগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে টিসি দেওয়ার আগে আমাকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানাননি। পরে যখন বিষয়টি নিয়ে যখন ঝামেলা বাধে তখন তিনি আমাকে জানান। ওই ঘটনায় আমি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে বিষয়টি তদন্ত করে দেখি মেয়েটিকে টিসি দেওয়ার মতো কোনো অপরাধ সে করেনি।
শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছি কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, শিক্ষকের বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি কোনো ব্যবস্থা নিয়ে থাকে তাহলে তার আদেশ কপি আমার কাছে আসতো। এই রকম কোনো আদেশ আমার কাছে এখনও আসেনি।

মতামত দিন

Post Author: newsdesk

A thousand enemies is not enough; a single enemy is. There is nothing as a ‘harmless’ enemy.