খালেদা জিয়া ইস্যুতে ৮ দিনের কর্মসূচি বিএনপির

68


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি ও মুক্তির দাবিতে আট দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে রাজপথের প্রধান বিরোধীদল বিএনপি। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সভা-সমাবেশ, মানবন্ধন, মৌন মিছিল ও উপাসনালয়গুলোতে প্রার্থনা।

বুধবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথসভা শেষে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপির মহাসচিব জানান, বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) বিএনপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদল ঢাকাসহ সারাদেশ বিক্ষোভ সমাবেশ করবে। ঢাকার সমাবেশ হবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে। শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) সারাদেশে মসজিদে মসজিদে দোয়া মাহফিল এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

২৮ নভেম্বর বিএনপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে। ঢাকার সমাবেশ হবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে। ৩০ নভেম্বর সারাদেশে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ করবে বিএনপি। ১ ডিসেম্বর বিএনপির সহোযাগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সারাদেশে সমাবেশ করবে। ২ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করবে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল, ৩ ডিসেম্বর জাতীয়তাবাদী কৃষকদল সারাদেশে সমাবেশ করবে। ৪ ডিসেম্বর জাতীয়তাবাদী মহিলাদল মৌন মিছিল করবে- জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, ঢাকা দক্ষণি বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম, উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, ওলামা দলের আহ্বায়ক মওলানা শাহ নেছারুল হক, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম তালুকদার, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, জাসাসের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রোকন প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর আগে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর এ বছর এপ্রিল থেকে মে পর্যন্ত টানা ৫৪ দিন হাসপাতালে ছিলেন তিনি। খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।

দুর্নীতির মামলায় দণ্ড নিয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান। দেশে করোনা মহামারি শুরুর পর পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত বছর ২৫ মার্চ ‘মানবিক বিবেচনায়’ তাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয় সরকার। তখন থেকে তিনি গুলশানের ভাড়া বাসা ফিরোজা’য় রয়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার অনুমতি চেয়ে বেশ কয়েকবার আবেদন করেছে তার পরিবার। কিন্তু সরকার সেই আবেদন আমলে নেয়নি। যদিও এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য হলো, সাময়িক মুক্তির শর্ত অনুযায়ী তাকে দেশে রেখেই চিকিৎসা দিতে হবে। বিদেশে যেতে হলে কারাগারে ফিরে আবেদন করতে হবে।

সারাবাংলা/এজেড/পিটিএম





Source link