খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টে

0
259

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত মেডিক্যাল রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনের জমা দিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ।

আজ বুধবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে এই রিপোর্ট গ্রহণ করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিষ্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর। আপিল বিভাগের নির্দেশে এই প্রতিবেদন পাঠিয়েছে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ।

গত ২৮ নভেম্বর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জানতে মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্ট চান আপিল বিভাগ। যা ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে আপিল বিভাগে দাখিল করতে বলা হয়। একইসঙ্গে ৫ ডিসেম্বর আদেশের জন্য দিন রাখা হয়। তবে ওইদিন রিপোর্ট পাঠানো হয়নি। এরপর আদালত কোনো ব্যর্থতা ছাড়াই ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়ে শুনানি ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করেন।

সে সময় আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, বিএসএমএমইউ’র ভিসি জানিয়েছেন কিছু টেস্ট হয়েছে, কিছু বাকি আছে। তাই প্রতিবেদন দিতে সময় দরকার। এরপর আদালত কোনো ব্যর্থতা ছাড়াই ১১ তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়ে শুনানি ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করেন।

এ সময় খালেদার জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন প্রতিবেদন রোববার বা সোমবার দিতে নির্দেশনার আবেদন জানান। কিন্তু তারিখ পরিবর্তন করেননি আদালত। এর পরপরই বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালত কক্ষে হইচই শুরু করেন। একপর্যায়ে আদালত এজলাস কক্ষ ত্যাগ করেন। কিন্তু আইনজীবীরা এজলাসে অবস্থান করে স্লোগান দিতে থাকেন।

বিরতির (বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা) পর ফের আদালত বসলে জয়নুল আবেদীন শুনানি করতে চান। কিন্তু আদালত তাতে সায় দেননি। এর মধ্যে হট্টগোলের কারণে অন্য মামলার শুনানিও ব্যাহত হয়। এ সময় বিএনপিপন্থী ২/১ জন সিনিয়র আইনজীবী আদালত কক্ষ থেকে বেরোতে চাইলে জুনিয়ররা বাধার মুখে পড়েন।

পরবর্তী আপিল বিভাগের বিচারকাজের শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা দুপুর সোয়া ১টার দিকে এজলাস কক্ষ ত্যাগ করেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির বেঞ্চ। পরে আইনজীবীরাও বের হয়ে যান।

এর আগে ২৫ নভেম্বর জামিন আবেদনের শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ ২৮ নভেম্বর দিন ঠিক করেন।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পেয়ে বন্দি রয়েছেন খালেদা জিয়া। আপিলের পর হাইকোর্টে যা বেড়ে ১০ বছর হয়।

পরে ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর খালাস চেয়ে আপিল বিভাগে খালেদা জিয়া জামিন আবেদন করেন। তবে সেই আবেদন এখনো আদালতে উপস্থাপন করেননি তার আইনজীবীরা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে