‘খালেদাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ না দিলে পতনের সামনে দাঁড়াতে হবে’

80


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: অবিলম্বে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি এবং বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ না দিলে সরকারকে পতনের সামনে দাঁড়াতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (২১ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভা আয়োজন করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে গঠিত বিএনপির জাতীয় কমিটি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আমাদের আপসহীন নেত্রী, গণতন্ত্রের নেত্রী, মহান নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আছেন। তার বাইরে চিকিৎসা করানো অত্যন্ত জরুরি। সেই অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না, সেই সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। আজকের এই আলোচনা সভা থেকে বলতে চাই— অবিলম্বে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হোক, তাকে মুক্তি দেওয়া হোক। তা নাহলে এই সরকারকে ‘পতন আন্দোলনের’ মুখোমুখি হতে হবে, পতনের সামনে দাঁড়াতে হবে।”

মওলানা ভাসানী ছিলেন আধ্যাত্মিক পুরুষ

একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সন্তোষে মওলানা ভাসানী স্মৃতি জাদুঘরের জরাজীর্ণ অবস্থা দেখিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সন্তোষে কোনো প্রাসাদ তৈরি করেননি। তিনি একটি কুঁড়ে ঘরে থাকতেন। সেই কুঁড়ে ঘরে একটা চৌকির ওপরে মশারি… আপনার ওই বাঁশের ঘরের মধ্যে তুললে ওখানে আটকে দেওয়া হতো। নিচে মাটি, চারপাশে বাঁশের বেড়া দেওয়া— এই ঘরে মওলানা ভাসানী থাকতেন।’

‘ব্রিটিশ, পাকিস্তান ও পরবর্তীকালে বাংলাদেশ— তিনটি অধ্যায় পার করেছেন অত্যন্ত দাপটের সঙ্গে। তিনি খামোশ বললে সবাই থেমে যেত। সেই মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর স্মৃতির করুণ দশা এই সরকারের আমলে,’— বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

‘খালেদাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ না দিলে পতনের সামনে দাঁড়াতে হবে’

তিনি বলেন, ‘মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এক কিংবদন্তি পুরুষ। তার জন্ম মাটি থেকে, বেড়ে ওঠা মাটি থেকে, রাজনীতি করেছেন মাটি থেকে বেড়ে ওঠা মানুষের জন্যে। তার খুব চমৎকার একটা কথা ছিল— কৃষক-শ্রমিক, কামার-কুমর, জেলে-তাঁতীদের দিয়ে তিনি শুরু করতেন। অর্থাৎ একেবারে খেটে খাওয়া মানুষদের তিনি সামনে নিয়ে আসতেন এবং তাদের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন লড়াই করেছেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মওলানা ভাসানীর দল ক্ষমতায় গেছে, তিনি ক্ষমতায় যাননি। ১৯৫৪ সালে তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রধান। তার দল ক্ষমতায় গেছে, কিন্তু তিনি ক্ষমতায় যাননি। এভাবেই তিনি সারাটিজীবন গণমানুষের জন্যে, খেটে খাওয়া মানুষের জন্য লড়াই করেছেন, সংগ্রাম করেছেন, বিপ্লব করেছেন এবং সমাজটাকে পাল্টে দিতে চেয়েছেন।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘একটি অভূতপূর্ব সমন্বয় করতে চেয়েছিলেন মওলানা ভাসানী। একদিকে ইসলাম, অন্যদিকে সমাজতন্ত্র। তিনি আধ্যাত্মিক একজন পুরুষ ছিলেন। সেজন্য তাকে বলা হয় পীর, মওলানা। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যে ক’জন মানুষের অবদান আছে, মওলানা ভাসানী তাদের মধ্যে নিঃসন্দেহে অন্যতম। আজ আমাদের যে অস্তিত্ব, আমরা টিকে আছি, বেঁচে আছি, স্বাতন্ত্র্য অবস্থা নিয়ে আছি— তারও অন্যতম নির্মাতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।’

‘খালেদাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ না দিলে পতনের সামনে দাঁড়াতে হবে’

অনুষ্ঠানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে কারও অবদান স্বীকার করে না আওয়ামী লীগ। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, তাজউদ্দিন আহমেদের নাম একবারও উচ্চারণ করেনি। যারা শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করল, সেই প্রবাসী সরকারের মন্ত্রীদের নাম উচ্চারণ করা হয় নাই। এই হলো আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগকে তো আপনারা চেনেন না। আমরা ভালো করে চিনি। আপনারা আওয়ামী লীগকে বাইরে থেকে দেখেছেন, আমরা ভেতর থেকে দেখেছি।’

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্ত্রী উদযাপনে গঠিত বিএনপির জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সদস্য সচিব আব্দুস সালাম সভা পরিচালনা করেন। সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, কেন্দ্রীয় নেতা জহিরুদ্দিন স্বপন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকসহ অন্যরা।

সারাবাংলা/এজেড/টিআর





Source link