খাদ্যে ভেজাল বন্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

0
126

ঢাকা, ১৮ ফেব্রুয়ারি – খাদ্যে ভেজাল বন্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপই হচ্ছে বাংলাদেশের একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা। এবং সে পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সবার আগে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০২১ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় ফুড টেস্টিং ল্যাবরেটরি হবে কিন্তু তার সাথে সাথে যেমন বিভাগীয়ভাবে করা প্রয়োজন। কারণ আমরা ১০০টা অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করছি। সেখানে শিল্পায়ন হবে। এই শিল্পায়নে আমরা খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের উপর গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ আমাদের যে নদী-নালা খাল বিল রয়েছে, তাছাড়া এখানে মৎস্য পালনের সাথে পশু পালন অন্যান্য তরি-তরকারি-সবজি উৎপাদন করতে পারি। কিন্তু আমরা যদি এটা বিদেশে রফতানি করতে চাই, তাহলে ল্যাবরেটরি টেস্টিং তার সার্টিফিকেট নেয়া এটা একান্তভাবে অপরিহার্য। শুধু খাদ্যের ব্যাপারে না, আমরা যেকোন পণ্য উৎপাদন করি না, সেগুলোরই একটা মানে পরীক্ষাগার থাকা দরকার এবং পরীক্ষা করেই কিন্তু বাইরে যাবে। এটা প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কিন্তু খাদ্যের জন্য একটা সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, মানুষ নিরাপদ খাবার পাচ্ছে কিনা তার জন্য নজরদারি বাড়াতে হবে, সেজন্য আমার অনুরোধ থাকবে, আপনারা ফুড টেস্টিং ল্যাবরেটরি কেন্দ্রেীয়ভাবে হলেও সাথে সাথে প্রত্যেক বিভাগীয় শহরে করা দরকার। আর গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত ফুড টেস্টিং করতে পারে, তার সুযোগটাও থাকতে হবে। করোনাভাইরাসের কারণে কিন্তু অনলাইনে অনেক কেনাবেচা হচ্ছে।এমনকি ঘরে ঘরে ‘ফুড সাপ্লাই’ দেয়া হচ্ছে। যারা করছেন বা তারা সঠিক খাদ্যটা দিচ্ছে কি না? সে ব্যাপারেও নজরদারি বাড়ানো একান্তভাবে দরকার। এক্ষেত্রে ডাক বিভাগকে উন্নত করতে চাই, যেন তারা ভালভাবে সেবা দিতে পারে। এটা সক্রিয় করার ব্যবস্থা আমরা নেবো।

আরও পড়ুন : বাংলাদেশ ব্যাংকে হামলা চালানো তিন হ্যাকার যুক্তরাষ্ট্রে অভিযুক্ত

বাংলাদেশে অঞ্চলভিত্তিক ফসল উৎপাদনের কথা তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব এলাকার মাটি, পানি পরীক্ষার ব্যবস্থা যদিও আমাদের আছে, তারপরও সেদিকে আরেকটু নজর দেয়া দরকার। কোন জায়গায় কি ধরনের ফসল হতে পারে। সেটা প্রক্রিয়াজাত করে আমরা মার্কেটিং এর ব্যবস্থা করতে পারি। আমাদের এক ইঞ্চি জমিও অনবাদী থাকবে না। তাই প্রধানমন্ত্রী সবাইকে নিজ নিজ পতিত জমিতে রেখে তা চাষাবাদ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তাহলে আমাদের কখনো খাদ্যের অভাব হবে না। আর করোনাভাইরাস যখন শুরু হল তখন আমি এটার উপরেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলাম। আমাদের দেশে যেন ভালোভাবে খাদ্য উৎপাদনটা আমরা অব্যাহত রাখতে পারি। কোন মতেই যেন খাদ্যের অভাবটা আমাদের দেশে না দেখা দেয়। এবার একদিকে করোনাভাইরাস পরপর তিন-চার বার বন্যা আসল, তারপরে ঘুর্ণিঝড়; প্রকৃতিও যেন আমাদের সাথে একটা বৈরিতা করল। কিন্তু সেটা মোকাবিলা করেও আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছি, সেটাই হলো বড় কথা।

এজন্য খাদ্য উৎপাদন প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে আপনারা যেমন ঢাকা শহরে বিভিন্ন হোটেল এবং রেস্তোরাগুলি, সেগুলিকে গ্রেডিং স্টিকার দিয়ে দিচ্ছেন এবং মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এটা অত্যন্ত ভাল কাজ। কিন্তু এই কাজটা শুধু রাজধানীতে করলে হবে না। এটা সারা বাংলাদেশে একটু করা দরকার। সেদিকেও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারেন এবং এ ব্যাপারে নজরদারি বাড়ানোর জন্য আপনারা যে পদক্ষেপেই নেবেন, এ বিষয়ে যা সহযোগিতা করা দরকার করবো।

যদি করোনার কারণে আমাদের যথেষ্ট সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে কিন্তু তারপরও আমরা এব্যাবস্থাটা নেবো বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে মনিটরিং ব্যবস্থাকে আরও ভালোভাবে কাজে লাগানোরও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। কৃষিকে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। কারণ বাংলাদেশ হচ্ছে কৃষিপ্রধান দেশ। আমাদের অর্থনীতি কৃষির উপর নির্ভরশীল। আর এই কৃষির সাথে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে। আমরা কারো কাছে হাত পেতে চলতে চাই না। নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। নিজের খাবার নিজে উৎপাদন করতে হবে। নিজের পুষ্টি নিজেরা নিশ্চিত করতে হবে। এবং সেটা আমরা নিজেরাই করবো। আমরা রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছি। এই স্বাধীনতাকে আমরা অর্থবহ করবো।

অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বক্তব্য রাখেন।

সূত্র : বিডি২৪লাইভ
এন এইচ, ১৮ ফেব্রুয়ারি

Source link