কোভিড নেগেটিভ কিন্তু রয়েছে করোনার উপসর্গ, কী করা উচিত ? জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

36


#সুরাত: গত এক বছর ধরে যত দ্রুত হারে করোনা ছড়িয়েছে, তার চেয়েও দ্রুত হারে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস নিয়ে নানা ভুয়ো ও বিভ্রান্তিকর তথ্য। অনেকে না বুঝে-শুনে এই তথ্যে বিশ্বাস করেছেন এবং তার মাশুল দিয়েছেন। করোনা নিয়ে মনের মধ্যে নানা প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক। আর এই প্রশ্নের বিশ্বাসযোগ্য উত্তর দিতে পারেন একমাত্র চিকিৎসকরাই। এই রকম নানা প্রশ্নের উত্তর দিলেন ডক্টর পারুল ভেদগামা। তিনি সুরাতের গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের প্রধান।

যদি কারও কোভিড পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসে কিন্তু তাও উপসর্গ দেখা যায় তখন কী করা উচিত?

যদি হাল্কা জ্বর, গায়ে হাত পায়ে ব্যথা, কাশি বা বুকে কফ জমার মতো উপসর্গ দেখা যায়, তাহলে নিজেকে পরিবারের অন্য সদস্যদের চেয়ে আলাদা রাখুন। ডাক্তারের পরামর্শ মতো ওষুধ নিন এবং নিজেকে ভিতর থেকে আর্দ্র রাখুন। শরীরে অক্সিজেনের দ্রাব্যতা কতটা সেটাও খেয়াল রাখুন। যদি অক্সিজেনের মাত্রা নেমে যায়, তাহলে আরটিপিসিআর পজিটিভ হোক বা না হোক, ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন ও হাসপাতালে ভর্তি হন।

কোভিড থেকে সেরে ওঠার পর কী ধরনের চেকআপ করা উচিত?

আমরা পরামর্শ দিয়ে থাকি রুটিন চেকআপ করানোর। তবে যদি এমন কোনও রোগী থাকেন যাঁর নিউমোনিয়া হয়েছিল এবং ফুসফুসের ৩৫-৪০% ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাহলে তাঁর এক মাস পর বুকের সিটি স্ক্যান করা দরকার। তবে রোগী সেরে গেলেও আমরা বিভিন্ন পরীক্ষা করে বুঝে নিয়ে থাকি যে তাঁর দ্বিতীয়বার সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা আছে কি না।

যাঁদের সিরোসিস অফ লিভার আছে, ভ্যাকসিন তাঁদের শরীরে কি আলাদা প্রভাব ফেলে?

যদি এলএফটি স্বাভাবিক হয় এবং বর্তমানে কোনও সংক্রমণ বা ফোলাভাব না থাকে তাহলে সেই ব্যক্তি নির্দ্বিধায় ভ্যাকসিন নিতে পারেন।

যদি কারও এসপিও২ স্বাভাবিক হয় কিন্তু শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হয় তাহলে কী করা উচিত? (১৪ দিন ধরে কোভিড পজিটিভ, পঞ্চম দিন থেকে কোনও জ্বর নেই এবং এসপিও২ স্বাভাবিক)

শ্বাস প্রশ্বাসে কষ্ট হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা চেক করুন। অক্সিমিটারের সাহায্য নিতে পারেন। তবে এই যন্ত্র সব সময় সঠিক মান দেখায় না। তাই নিজের শ্বাস প্রস্বাসের হার মেপে নিন। তার জন্য সোজা হয়ে শুয়ে পড়ুন। পেটের উপর হাত রাখুন। এবার এক মিনিটে আপনি কতবার শ্বাস নিচ্ছেন সেটা গুনে দেখুন। যদি সেটা মিনিট পিছু ২০টি শ্বাসের বেশি হয় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন!



Source link