কেন টিকা নিতে পারছেন না নিম্নবিত্ত মানুষ?

0
75

ঢাকা, ২১ ফেব্রুয়ারি – দেশে করোনাভাইরাসের টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়লেও সেই কাতারে পিছিয়ে আছে নিম্ন আয়ের মানুষেরা। বেশিরভাগ কেন্দ্রগুলোয় যারা টিকা নিতে আসছেন তাদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্ত ও শিক্ষিত শ্রেণির। তবে কোনো কেন্দ্রেই স্বল্পশিক্ষিত, সুবিধাবঞ্চিত, পিছিয়ে পড়া দরিদ্র শ্রেণির আনাগোনা দেখা যায়নি।

বাংলাদেশে এই শ্রেণির মানুষদের সংখ্যাই অনেক বেশি, তাই তাদেরকে টিকা কর্মসূচির আওতায় আনা না গেলে এর সুফল পাওয়া যাবে না বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা পারুল বেগমের বয়স চল্লিশ ছাড়িয়েছে। তার স্বামীর বয়সও পঞ্চাশের কোঠায়। প্রতিদিন কাজে বের হওয়ার কারণে তারা দুজনেই এখন টিকা নিয়ে নিরাপদ থাকতে চাইছেন। কিন্তু কীভাবে টিকা নেবেন, কোথায় যাবেন, টিকা দিতে যে নিবন্ধনের প্রয়োজন হয় সেটা কিভাবে করবেন, সে সংক্রান্ত কোনো ধারণাই নেই পারুল বেগমের। তাদের নেই কোনো স্মার্টফোন। অন্যের মোবাইল থেকেও নিবন্ধন করবেন সেই সুযোগও নেই।

পারুল বেগম বলেন, ‘কই গেলে টিকা দেয় ইত্তা চিনি না, কীভাবে দিমু বুঝি না, যদি শুনতাম আমার বাসার পাশে টিকা দিতাসে, তাইলে টিকা দিয়াইতাম, এমনে আমার সুবিধা হইতো। এখন আমি তো মোবাইলের মাধ্যমে কেমনে রেজিস্ট্রেশন করে বা কেমনে কিতা করে এটা আমি বুঝতাম পারি না। আমরার তো স্মাট মুবাইল নাই, আমরার তো বাটন মুবাইল। এরলাইগাই তো পারি না।’

আরও পড়ুন : ভাষা আন্দোলন বিএনপির বর্তমান সংগ্রামকে শাণিত করছে : রিজভী

এই শ্রেণির মানুষদের টিকা কর্মসূচির আওতায় আনা একা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে সম্ভব না। এজন্য বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবকদের এগিয়ে আসতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা।

তিনি বলেন, ‘টিকা দিতে আমরা কোনো শ্রেণি বৈষম্য করছি না। তবে একটাই বিষয় যে টিকা দিতে হলে নিবন্ধন করতেই হবে।সেক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর নিবন্ধনে সহায়তা করতে স্বেচ্ছাসেবক, দাতাসংস্থাগুলোর কর্মী, জন প্রতিনিধি এগিয়ে আসতে পারে। একা স্বাস্থ্যবিভাগের পক্ষে তো সব সম্ভব না।’

এদিকে প্রান্তিক মানুষ এই টিকাদান কর্মসূচির আওতায় না আসলে এর সফলতা পাওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মোস্তাক আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে নিম্নআয়ের মানুষের সংখ্যাই বেশি, আমরা যদি দেশের ভাসমান মানুষদের, দুর্গম চরাঞ্চল, পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষদের টিকা কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করতে না পারি, তাহলে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না।’

এক্ষেত্রে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন এ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তার মতে, মানুষ যেন ঘরের কাছেই টিকা দিতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য প্রতিটি শহর এবং গ্রামের ওয়ার্ড কাউন্সিলে একটা করে নিবন্ধন বুথ খোলার প্রয়োজন। যেখানে স্বেচ্ছাসেবকরা নিবন্ধন করতে সাধারণ মানুষকে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে, মসজিদের মাধ্যমে, জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে প্রচারণা চালাতে হবে যেন তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিটি মানুষ টিকা কর্মসূচির আওতায় আসতে পারে।

উল্লেখ্য সরকারের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্মুখ সারির ১৫ ক্যাটাগরির পেশাজীবী এবং যাদের বয়স ৪০ বা তার চেয়ে বেশি তাদের টিকা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দেশের মোট জনসংখ্যা ১% এরিমধ্যে টিকা দিয়েছে, ২% নিবন্ধ করেছে বলে আইইডিসিআর জানিয়েছে। প্রথম ধাপে ৩৫ লাখ মানুষকে দুই ডোজ টিকা দেওয়ার কথা বলা হলেও এখন জুন মাসের আগেই ৬০ লাখ মানুষকে দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

সূত্র : আমাদের সময়
এন এ/ ২১ ফেব্রুয়ারি

Source link