কর্মকর্তা কর্মচারী শুন্যতায় ধুকে ধুকে চলছে কোটচাঁদপুর উপজেলা ভূমি অফিস, প্রতিষ্ঠানটি দেখার যেন কেউ নেই!

0
431

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ
কর্মকর্তা কর্মচারী শুন্যতায় ধুকে ধুকে চলছে কোটচাঁদপুর উপজেলা ভূমি অফিস। যে কারণে অফিসটিতে কাজ কর্মে চরম ধীর গতি। ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন। অথচ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানটি দেখার কেউ নেই ! উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে গত ৮মাস যাবৎ এসি ল্যান্ড নেই। একটি মাত্র পদ কানুনগো তাও রয়েছে ২০০৪ সাল থেকে শুন্য। অফিস সহকারী ও সমমানের ৭টি পদে নেই ৬ কর্মচারী। যে কারণে ভূমি ব্যবস্থাপনার সকল কাজ হ-য-ব-র-ল অবস্থায় সৃষ্টি হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে ভূমি অফিসের প্রধান সহকারীকাম হিসাব রক্ষক শাহাদত হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন- এসি ল্যান্ড স্যার না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন ইউএনও নাজনিন সুলতানা স্যার। ইউএনও স্যার তার দপ্তরিক কাজে তাকে ব্যস্ত থাকতে হয় সব সময়। তবুও তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করেন ভূমি অফিসের কাজকর্ম সমাধা করতে। তারপরও অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীর পদ শূন্য থাকায় ভূমি ব্যবস্থাপনার সকল কাজে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা বেশী শ্রম দিয়েও নিদিষ্ট সময়ে কাজ করে দিতে না পারায় ভূক্তভোগীরা আমাদেরকে ভুল বুঝছেন। মাঝে মাঝে কেউ কেউ উচ্চ বাক্যে কথা বলছেন আমাদের সাথে। যা আমাদেরকে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে ফেলে। খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে কোটচাঁদপুর উপজেলা ভূমি অফিস সরকারের একটি অবহেলিত ভূমি অফিস হিসাবে প্রচার আছে। ২০০২ সালের ১লা এপ্রিল এসি ল্যান্ড মোঃ সবিরুল ইসলাম অন্যত্র বদলি নিয়ে চলে যান। তার পর থেকে ২৮/ ০৯/২০১৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ বছরের অধিক সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ।

২৮/০৯/২০১৭ সালে এসি ল্যান্ড হিসাবে যোগদান করেন রোজিনা আক্তার। তিনি মাত্র ২মাস অফিস করে ০৩/১২/২০১৭ তারিখে অন্যত্র বদলী নিয়ে চলে যান। আবারো ওই দিন অতিরিক্ত দায়িত্বে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনিন সুলতানা। প্রতিষ্ঠানটিতে ০৬/১২/২০১৭ তারিখে তাসলিমা আক্তার এসি ল্যান্ড হিসাবে যোগদান করেন। তিনি ১বছর ৬মাস দায়িত্ব পালন করলেও ৬মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটান। পরবর্তীতে তিনি ০৯/০৬/২০১৯ তারিখে পদন্নতি নিয়ে অন্যত্র বদলী হয়ে চলে যান। এরপর থেকে আবারো দীর্ঘ ৮মাসের অধিক সময় ধরে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনিন সুলতানা। বিষয়টি জানতে বৃহস্পতিবার সরেজমিনে উপজেলা ভূমি অফিসে যায় এ প্রতিবেদক। তখন সময় বেলা ১১টা। বেশ কিছু ভোক্তভোগী দাঁড়িয়ে আছেন উপজেলা ভূমি অফিসের বারান্দাতে। তারা এসেছেন জমির নামজারিসহ জমি’র কাগজপত্রের সমস্যার সমাধান করতে। কেউ কেউ অফিসের ভিতরে অফিসের কর্মচারীদের সাথে কথা বলছেন। অফিসের বারান্দায় একটি বেঞ্চিতে মুখে হাত দিয়ে বসে থাকা মহিলাটিকে ভীষণ চিন্তিত বলে মনে হলো। নাম রেহেনা রহমান, তিনি পৌরসভার বড়বামুন্দা গ্রামের মশিয়ার রহমানের স্ত্রী।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন- বিপদ থেকে রেহায় পেতে জমি বিক্রির জন্য প্রায় তিন মাস আগে জমির নামপত্তনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছিলাম। অথচ আমাদেরকে গত ২তারিখে শুনানির জন্য ডাকা হয়। এখন এসেছি কবে নাগাদ নামপত্তনের কাগজ হাতে পাবো সেটি জানতে। তিনি বলেন, নামপত্তনে এত দীর্ঘ সময় লাগায় সময় অনুযায়ী জমি বিক্রি করতে পারিনী। যে কারণে ক্ষতি যা হবার হয়ে গেছে! আরেক জন রফিকুল ইসলাম বাড়ী উপজেলার দুতিয়ার কুঠি গ্রামে। তিনি বলেন-এক মাস আগে জমির নামপত্তনের জন্য কাগজপত্র জমা দিয়েছি এখনো শুনানির জন্য ডাকেনি। যে কারণে জানতে এলাম আর কতদিন সময় লাগবে। তিনি বলেন আমি গরীব মানুষ পরের জমিতে কামলা খেটে খায়। বাড়ী ৭কিলোমিটার দুরে। সেখান থেকে কাজকর্ম বন্ধ করে কয় দিন আসা যায় আপনারাই বলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনিন সুলতানাকে ভূমি অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে সমস্যা হচ্ছে কি-না এবং ভূমি অফিসের কাজ কর্মে ধীর গতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, পারছিনা কথাটি বলার সুযোগ নাই! তবে লোকবল কম হওয়ায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

কিছু কিছু মামলার কিছুটা সময়ও লাগে। তারপরও ঝিনাইদহের অন্যান্য উপজেলার তুলনায় আমার ভূমি অফিসে পেন্ডিং মামলা কম আছে। খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না বলে তিনি দাবী করেন। এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শরিফুননেছা মিকি বলেন, আমার কাছে প্রায়ই সাধারণ মানুষ অভিযোগ করে থাকেন এসিল্যান্ড ও অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারী না থাকায় উপজেলা ভূমি অফিসের কাজ কর্মে চরম ধীর গতি। যে কারণে তারা দিনের পর দিন ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে