করোনা যদি দুর্নীতিবাজদের নিয়ে নেয়, খারাপ হবে না : ব্যারিস্টার সুমন

0
327

করোনা যদি কিছু দুর্নীতিবাজদের নিয়ে নেয়, তবে দেশের জন্য খারাপ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। গতকাল সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভের ক্যাপশনে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় ফেসবুক লাইভে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের দেশে যেই ভাইরাসটা আছে, পৃথিবীর মানুষ বুঝতে পারছে না এটা কীভাবে মোকাবিলা করবে। আমেরিকার মতো দেশে প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে। গতকালও দেশটিতে পৌনে দুই হাজার মানুষ মারা গেছে।’

‘আমেরিকায় একজন মারা যাওয়া মানে বাংলাদেশে এক হাজার জন মারা যাওয়ার সমান। করোনা আক্রান্ত হলে যে ভেন্টিলেশন প্রয়োজন হয়, আমাদের দেশে সেই ভেন্টিলেশন নেই। চুনারুঘাট উপজেলায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের জন্য মাত্র একটি অক্সিজেন মেশিন আছে’, বলেন তিনি।

এ সময় ব্যারিস্টার সুমন তার সামনে উপস্থিত ভলান্টিয়ারদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশের এমন পরিস্থিতিতে সুবিধাবাদী নেতারা লকডাউনে আছেন। কিন্তু পুলিশ ও বিভিন্ন ক্লাবের ছেলেরা বাইরে। আর এমন সময় আপনারা মাস্ক পরে মানুষের সেবার জন্য মাঠে নেমেছেন। এ জন্য আমি আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি আর ১৫ থেকে ২০ দিন পর দেশে দুর্যোগ দেখা দেবে। কারণ কয়েকদিন আগে ইন্ডিয়া থেকে আমাদের দেশে সামান্য পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে ছিল। এতেই পঞ্চাশ টাকার পেঁয়াজ আড়াইশ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। ইন্ডিয়ার অবস্থাও খারাপ হবে। আমি বুঝতে পারছি না। করোনা ভাইরাসে কতজন মারা যাবে। আর আমার দেশে অভাবে কতজন মারা যাবে। আমি প্রস্তুত হয়ে যা পেরেছি, তা নিয়ে চলে এসেছি। ’

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘এমন বিপদে আমরা সাধারণ মানুষদের কাছে আনতে পারছি না। তবে করোনার কারণে আমারা শারীরিকভাবে দূরে চলে গেলেও মনের দিকে থেকে এখন আমার কাছাকাছি চলে এসেছি। তবে যদি এই ভাইরাসের কারণে বাটপার, দুর্নীতিবাজরা ভালো হয়ে যায় তাহলে ভালোই হবে। আর যদি মরার ভয়ে ভালো না হয়। আর এই ভাইরাস সব দুর্নীতিবাজ, চোরদের নিয়ে যায়, তাহলে দেশের জন্য ভালো হবে। নতুন বাংলাদেশ তৈরি হবে।’

ভলান্টিয়ারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজকে আপনারা ৪০ জনকে খাবার সামগ্রী দেবেন। এরপর আপনাদের যা প্রয়োজন আমার কাছে চাইবেন। আমি আমার সাধ্যমতো করব। আমার বাসায় যদি এক কেজি চাল থাকে, আমি তাও চুনারুঘাট বাসীদের জন্য দিয়ে দেব। এর চেয়ে বেশি ক্ষমতা আমার নেই। আমি যতটুকু পারছি করছি। আর আমি যদি না থাকি। তাহলে আপনারা আপনাদের জায়গা থেকে যতটুকু পারবেন করার চেষ্টা করবেন।’

বর্তমান সময়কে একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘এখন সময় এসেছে প্রমাণ করার যে, কারা যোদ্ধা আর কারা মানব সেবার জন্য কাজ করে। আর কারা ধান্দা, মেম্বার আর চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য কাজ করে। আর আমি যদি করোনায় মারাও যাই, মানুষ যেন আমার জানাজায় এসে বলে লোকটা মানুষের জন্য কাজ করতে করতে মারা গেছে। ধান্দা বা দুর্নীতি করে আমার মৃত্যু যেন আল্লাহ আমাকে না দেন।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে