করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০৬

0
297

চীনে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০৬ জন দাঁড়িয়েছে। আর দেশটিতে নতুন এই ভাইরাসে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা এখন চার হাজারেরও বেশি।

চীনা কর্তৃপক্ষ নিয়মিত ভাইরাস আক্রান্তের তথ্য প্রকাশ করলেও অভিযোগ উঠেছে প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে তথ্য গোপন করছে বেইজিং। সম্প্রতি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে উহান শহরের এক চিকিৎসাকর্মী দাবি করেছেন ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দেশটিতে ৯০ হাজার ছাড়িয়েছে।

নতুন এ করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে চীন শাসিত হংকং আট জনের আক্রান্ত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। গত ১৪ দিনের মধ্যে যারা হুবেই গিয়েছেন তাদের হংকং প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে নগরটির স্থানীয় সরকার। তবে হংকংয়ের বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না বলে জানিয়েছে।

বিশ্বের ১৩টিরও বেশি দেশে কিছু সংখ্যাক লোকের আক্রান্ত হওয়ার কথা জানা গেলেও চীনের বাইরে কারও মৃত্যু হয়েছে বলে খবর হয়নি। ওই সব দেশের আক্রান্তরা সবাই উহান ভ্রমণ শেষে দেশে ফিরেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উহান থেকে ছবিগুলোতে হাসপাতালের করিডোরগুলোতে চিকিৎসা নিতে আসা লোকজনে ভিড় দেখা গেছে।

চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে উৎপত্তি হওয়া এ ভাইরাস ইতোমধ্যে রাজধানী বেইজিংসহ ২৯টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, নেপাল, ফ্রান্স, সৌদি আরব, কানাডাসহ অন্তত ১৩টি দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলেছে।

এই ভাইরাসের কারণে চীনা নাগরিকরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে দেশটিতে যাতায়াতকারী অন্যান্য দেশের মানুষও। চীনের বাইরে এসব দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯ জন। চীন সরকার দেশটির ৩০টি প্রদেশ ও অঞ্চলে নাগরিকদের চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতেই এ পদক্ষেপ। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি, কাশির মত সমস্যা দেখা দেয়।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মা জিয়াওউইয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, নতুন ধরনের এই করোনা ভাইরাস সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তবে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার শক্তি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। মানুষের শরীরে এ ভাইরাসের লক্ষণ স্পষ্ট হতে এক থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত লাগতে পারে। লক্ষণ স্পষ্ট হওয়ার আগেই শরীরে এর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে, যা সেভার অ্যাকুয়িট রেসপিরেটরি সিনড্রোমের (সার্স ভাইরাস) চেয়ে ভিন্ন।

এদিকে, সপ্তাহান্তে চীনের নববর্ষকে ঘিরে বিদেশে থাকা অনেক চীনা নাগরিক দেশে ফিরছেন। তাঁরা যখন আবার ফিরে যাবেন তখন তাঁদের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

২০০২ -২০০৩ সালে চীনে সার্স (সিভিয়ার একিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই সময় প্রায় ৮০০ জন মারা গিয়েছিলেন। করনো ভাইরাস নিয়েও সেরকম আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে