করোনা প্রতিরোধে কিছু মানুষের অতিমানবীয় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা আছে!

105


লাইফস্টাইল ডেস্ক

করোনা প্রতিরোধে কিছু মানুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অন্যদের চেয়ে আলাদা। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় জানা গেছে, কিছু মানুষের মধ্যে এই রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি কার্যকর।

পৃথিবীতে এখনো পর্যন্ত অনেক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং সেরেও ওঠেছেন। কিন্তু তাদের অনেকেই করোনার ভ্যাকসিন নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। কারণ তারা মনে করেন, পরবর্তীতে আবারো করোনা হলে সেটা প্রতিরোধ করার মতো যথেষ্ট অ্যান্টিবডি তাদের শরীরে আছে। তবে নতুন গবেষণা তাদের চিন্তায় অনেকটা পরিবর্তন আনতে পারে।

সাম্প্রতিক বেশকয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ২০২০ সালে করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর ফাইজার বা মডার্নার ভ্যাকসিন নিয়েছেন, তাদের অনেকের মধ্যেই করোনা প্রতিরোধে অতিমানবীয় বা হাইব্রিড ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। যার অর্থ হলো, তাদের শরীরে উচ্চ মাত্রার অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়েছে যা করোনা ও অন্যান্য ভাইরাস দমনে অনেক বেশি কার্যকর।

নিউইয়র্কের রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছোট গবেষণায় দেখা গেছে, করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ভ্যাকসিনের একটি ডোজ নিয়েছেন এমন ১৪ জনের শরীরে থাকা অ্যান্টিবডি ডেল্টা, আয়টা ভ্যারিয়েন্টসহ ছয় ধরনের করোনাভাইরাসকে ধ্বংস করতে পারে। যাদের করোনা হয়নি এবং ভ্যাকসিন নিয়েছেন অথবা করোনা হয়েছে কিন্তু ভ্যাকসিন নেননি এমন ব্যক্তিরা এসব ভাইরাস বা ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে বলা যায় অনেকটা অসহায়।

গবেষণায় অংশ নেওয়া রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল বাইনিয়াজ বলেন, এখন ভবিষ্যৎবানী করাই যায় যে, হাইব্রিড রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা আছে এমন ব্যক্তিরা অন্যান্যদের চেয়ে অনেক বেশি সুরক্ষিত। এমনকি তারা অন্যান্য ভাইরাস যা ভবিষ্যতে মানবজাতিকে আক্রমণ করতে পারে তা থেকেও সুরক্ষিত হতে পারে বলে অনুমান করছেন তিনি।

অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে, করোনায় আক্রান্ত না হয়ে ভ্যাকসিন নিয়েছেন বা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন কিন্তু ভ্যাকসিন নেননি এমন ব্যক্তির চেয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ও পরে প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন নিয়েছেন এমন ব্যক্তি শরীরে ছয় থেকে ১০০ গুণ বেশি অ্যান্টিবডি বহন করেন। টেলিগ্রাফে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এমন মানুষের এক তৃতীয়াংশের শরীরে পরে কোন অ্যান্টিবডিই পাওয়া যায় নি। প্যানসিলভ্যানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি গবেষণায় জানা গেছে, অনেকের শরীরে ভ্যাকসিন নেওয়ার পরই অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হওয়া শুরু হয়।

সারাবাংলা/এসএসএস





Source link