করোনা নিয়ে রাজনীতি নয়, মোকাবেলায় কার্যকরী পদক্ষেপ চায় : বাংলাদেশ ন্যাপ

0
235

জাতি ভয়াবহ ভাইরাস করোনা নিয়ে কোন রকমের নোংরা রাজনীতি নয়, ‘করোনা প্রতিরোধে সকল প্রস্তুতি আছে’ এমন ভাঙা রেকর্ড আর না শুনতে চায় না। তারা শুনে এ মহা বিপর্যয় মোকাবেলায় কার্যকরী ও দৃশ্যমান সরকারী পদক্ষেপ দেখতে চায় বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে পার্টির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এসব কথা বলেন।

নেতৃদ্বয় বলেন, করোনা বিস্তার ও প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সহ বিভিন্ন সংস্থার লাগাতার প্রচার-প্রচারনা ও সাবধান বানীকে অবহেলা করে বাংলাদেশে যথা সময়ে এ বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। করোনা বিস্তারের প্রধান ফটক তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে শুধুমাত্র ঢাকা বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানার সচল আছে তাও মাত্র একটি। এছাড়া স্থল বন্দর, সমুদ্র বন্দর ও আন্তর্জাতিক রেলস্টেশন গুলোতেও করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করার প্রয়োজনীয় ও কার্যকরী ব্যবস্থা যথাসময়ে গ্রহন করতে পরিপূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যার ফলশ্রæতিতে ইটালি ফেরত দুই বাংলাদেশী নাগরিকের মাধ্যমে দেশে এই ভয়াবহ সংক্রামক ব্যাধির প্রবেশ ঘটেছে।

তারা বলেন, তারপরও আমাদের সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাব্যক্তিরা নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে নির্লজ্জেরমত “করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সকল প্রস্তুতি আছে”এ রকম ভাঙা রেকর্ড বাজিয়েই চলছেন।
নেতৃদ্বয় আরো বলেন, এমনিতেই মার্চ-এপ্রিল বাংলাদেশে ডেঙ্গু রোগের মৌসুম শুরু হবে- ডেঙ্গু রোগ বাহী মশা নিয়ন্ত্রণ তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। এখনই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তৎপর না হলে বাংলাদেশের মত জনবহুল ও অব্যবস্থাপনা পূর্ণ দেশে করোনা ও ডেঙ্গু এই দুই প্রাকৃতিক দুর্যোগের যৌথ আঘাত মহামারী আকার ধারণ করতে পারে। অন্যদিকে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে করোনা দিয়ে অনিয়ন্ত্রিত প্রচার-প্রচারণা মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি, মানুষের মনের মধ্যে অনেকখানি আতঙ্কও সৃষ্টি করে ফেলেছে। আবার মানুষ সঠিকভাবে সচেতন হচ্ছে কি না কিংবা আতঙ্কিত হয়ে ভুল পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

নেতৃদ্বয় বলেন, করোনা ভাইরাস মোকাবেলার প্রয়োজনীয় সামগ্রী ফেসমাস্ক, টিস্যু পেপার, সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, তরল জীবানুমুক্ত করন ঔষধ ইত্যাদি এবং শুকনো খাবার, তরল পানীয় ও ফল-ফলাদির বাজারে যাতে মজুতদার ও অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সক্রিয় হতে না পারে এবং সারাদেশে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত থাকে সে বিষয়ে কঠোর নজরদারী এবং আগাম প্রস্তুতি হিসাবে উপজেলা পর্যায়ে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের জন্য জরুরী ভিত্তিতে কোয়ারেন্টাইন ও অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

তারা বলেন, করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে সংযুক্ত আরব আমিরাত, প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রাথমিক স্কুলসহ সব স্কুল ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে। করোনাভাইরাসের প্রভাব যেন শিক্ষার্থীদের ওপর না পড়ে তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে প্রতিরোধমূলক এবং সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দেশগুলোতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সেদিক দিয়ে চিন্তা করলে বাংলাদেশের মতো একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশে যদি আগাম প্রস্তুতি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারের তরফ থেকে বন্ধ ঘোষণা না করা হয় তাহলে করোনাভাইরাস ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে যাওয়ার আশংকা থেকে যায়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে