করোনা টিকার বাইরে যে সাত কোটি মানুষ

0
113

ঢাকা, ২০ জানুয়ারি – যাদের শরীরে একেবারেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নেই তারা টিকা নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।

বুধবার (২০ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে ভ্যাকসিন বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিব জুয়েনা আজিজ, স্বাস্থ্য সচিব আব্দুল মান্নান, আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক খুরশীদ আলম বলেন, ‘যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারেই নেই, যাদের বলা হয় ইমিউন সাপ্রেসেজড গ্রুপ, তারা টিকা পাবেন না। আর এই তালিকায় আছেন যারা ক্যানসারে আক্রান্ত, ক্যানসারের জন্য টার্মিনাল কেয়ারে (শেষ ধাপে) আছেন, অ্যান্টি ক্যানসার ওষুধ খাচ্ছেন বা অ্যান্টি ক্যানসার ড্রাগের চিকিৎসাতে আছেন। অথবা যারা হাই ডোজের স্টেরয়েড নিচ্ছেন, যাদের সাধারণ রোগের ধরন এমন একটা অবস্থায় রয়েছে, যাতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারেই ভেঙে গেছে, তারা করোনাভাইরাসের টিকা নিতে পারবেন না। তবে এ সংক্রান্ত পুরো গাইডলাইন রয়েছে, সেটা যথাসময়ে সরবরাহ করা হবে।’

এ সময় স্বাস্থ্য সচিব আব্দুল মান্নান বলেন, ‘অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর হয়েছে, কিন্তু অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়ে কোনও মৃত্যুর কথা জানা নেই। আমরা সতর্ক আছি, আপনারাও সতর্ক থাকবেন। দেশে ৩৭ শতাংশ রয়েছে, যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে, তারাও টিকা পাবে না। কারণ, শিশুদের নিয়ে কোনও ট্রায়াল কোথাও হয়নি। একইভাবে গর্ভবতী নারীরাও টিকা পাবেন না, এই নারীদের নিয়েও কোনও ট্রায়াল হয়নি, সে সংখ্যাটা প্রায় ৫০ লাখ। আবার ৯০ বছরের বেশি বয়স্কদের টিকা দেওয়া হবে না। আবার এক কোটি মানুষ থাকে দেশের বাইরে, তারাও টিকা পাচ্ছেন না। সব মিলিয়ে প্রায় ৭ কোটি মানুষ করোনা ভ্যাকসিন কার্যক্রমের বাইরে থাকবেন।’

আরও পড়ুন : নিক্সন চৌধুরীকে ‘অপরাজনীতিবিদ’ আখ্যা দিয়ে হুঁশিয়ারি কাদের মির্জার

করোনায় সংক্রমিত হয়ে সুস্থ হয়েছেন যারা, তারা টিকা নিতে পারবেন কিনা জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম জানান, প্যান্ডেমিক বা অতিমারিতে এরকম কোনও আইন নাই যে তাদের টিকা দেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, ‘টিকা দেওয়ার পর শরীর ব্যথা, কাশি, মাথাব্যথা হলে তাদের ফলোআপে রাখা হবে এবং এর জন্য সরকারের যথাযথ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সব জায়গাতে। আর টিকা দেওয়ার পর সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে শরীর চুলকাতে পারে, যেখানে টিকা দেওয়া হবে সে জায়গাটা ফুলতে পারে, লাল হতে পারে, ব্যথা হতে পারে। চামড়ায় কিছু পরিবর্তন হতে পারে। অপরদিকে, গা গোলানো, বমি ভাব, মাথা ঘোরানো- এর চেয়ে বেশি কিছু অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাতে নেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে। কিন্তু ভয়ের বিষয় হচ্ছে, অ্যানাফাইলেকটিক শক। অ্যানাফাইলেকটিক শক হচ্ছে, এতে পুরো অ্যাডভার্স রিঅ্যাকশন হয়ে শরীরের সিস্টেমকে কলাপস করতে পারে। কিন্তু সেটা আজ পর্যন্ত কোনও টিকাতে আমার জানা মতে ইমিডিয়েটলি অ্যানাফাইলেকটিক শক হয়েছে।’

আর টিকার প্রতি অনাস্থা দূর করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সহজেই অতিক্রম করতে পারবো এবং এগুলো নিয়ে ভয়ের কোনও কারণ নেই। অহেতুক কোনও গুজব, অহেতুক কথা, বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিয়ে যেন জনমনে কেউ বিভ্রান্তি তৈরি না করে।’

জনগণের অনাস্থা দূর করতে স্বাস্থ্য অধিদফতর কাজ করছে, প্রচারণা চালানো হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘লিফলেট তৈরি করা হয়েছে, টেলিভিশনের জন্য দুই মিনিটের ফিল্ম তৈরি করা হয়েছে। ঠিক সময়ে সেগুলো দিয়ে দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য অধিদফতরে একটি পৃথক ভ্যাকসিন টিম গঠন করা হয়েছে, তারাও কাজ শুরু করবে।’

আরও পড়ুন : লিবিয়ায় নৌকাডুবিতে ৪৩ অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যু

অনাস্থা দূর করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, ‘সেগুলো স্বাস্থ্য অধিদফতর প্রতিটি হাসপাতালে করছে। এই দেশে টিকা দেওয়ার ইতিহাস রয়েছে। কিন্তু সেটা ছিল শিশুদের জন্য। তবে এবারের বড় চ্যালেঞ্জ বড়দের টিকা দেওয়া। অ্যাডাল্ট ভ্যাকসিনেশন, এতে কিছু সমস্যা আছে নিশ্চয়ই। টিকা দেওয়ার জন্য যত মানুষ আসছে তারচেয়ে বেশি মানুষ আসতে পারেন টিকা কর্মসূচি দেখার জন্য। এ জায়গাটাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ। যার টিকা তিনিই নিতে আসবেন। অযথা ভিড় হলে কাজটা ঠিকমতো চালাতে পারবো না।’

টিকা দেওয়ার কেন্দ্রগুলোর তালিকা কীভাবে জানানো হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রের তালিকা সব তৈরি করা আছে। প্রথম ধাপের টিকা হাতে পাওয়ার পর কেন্দ্রের তালিকা গণমাধ্যমে দিয়ে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে এই টিকা হাসপাতালের বাইরে কোনও কেন্দ্রে হবে না। কারণ এটা নতুন ভ্যাকসিন। একইসঙ্গে কোনও সমস্যা হলে হাসপাতালের সাপোর্ট তখন নেওয়া যাবে না। দেশে যেভাবে এতদিন ইপিআইয়ের টিকাদান কর্মসূচি মাঠে-ঘাটে হয়েছে, এই ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে সেটা করতে চাচ্ছি না। কারণ, এই ভ্যাকসিন নিয়ে আগের কোনও অভিজ্ঞতা নেই। টিকা নেওয়ার পর কী ঘটবে সেটা অজানা, আপনারাও যেমন জানেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাই এই টিকা হাসপাতালের ভেতরে দেওয়া হবে, টিকা গ্রহণকারী যেখানে থাকবেন সেখানে চিকিৎসকসহ সার্বিক দেখাশোনার ব্যবস্থা করা হবে। সবাইকে টেলিমেডিসিন সুবিধার আওতায় রাখা হবে। ১৬২৬৩-তে তাদের যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হবে।’

সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন
এন এ/ ২০ জানুয়ারি

Source link