করোনায় মূল্যবৃদ্ধির হাওয়া বইছে বাজারময় : বাংলাদেশ ন্যাপ

0
232

করোনাকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়িয়ে চাল, ডাল, আটা, ময়দা ভোজ্যতেল, চিনিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির পায়তারা করেছে একটি অসাধু মহল বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া।

তারা বলেন, বাজারে বাড়ছে হরেক জিনিসপত্রের দাম। করোনায় মূল্যবৃদ্ধির হাওয়া বইছে বাজারময়। ইতোমধ্যে বেশকিছু নিত্যপণ্যের আমদানি মূল্যের তুলনায় বিক্রয় মূল্য অযৌক্তিক হারেই বৃদ্ধি পেয়েছে। সবার মনে সৃষ্টি হয়েছে অজানা ভয়-শঙ্কা।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় এসব কথা বলেন।

তারা বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকারের পক্ষ থেকে জনসমাগম এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ফলে তাই শপিং মল কিংবা দোকানপাট কখন যে বন্ধ হয়ে যায়, সে আশঙ্কায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও অন্যান্য দ্রব্য বেশি পরিমাণে কিনে বাসায় মজুত করতে শুরু করেছে জনগণ। এতে রাজধানীর কাঁচাবাজারসহ সুপারশপগুলোতে কেনাকাটার হিড়িক পড়েছে। এ সুযোগে একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের সংকটের গুজব ছড়িয়ে অধিক মুনাফা লাভের আশায় বাজার অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সরকারকে এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ অবৈধ সিন্ডিকেটের হাতে বন্দি। যে দুর্যোগ মানুষের সামনে আসবে তা নিয়ে শুরু হয়ে যায় অবৈধ ব্যবসা। যেখানে ব্যবসায়ীরা মানুষের কল্যাণে কাজ করার কথা, সেখানে দেশের দুঃসময় ও দুর্যোগে তারা অবৈধ ব্যবসা নিয়ে মত্ত থাকে। কখনো পেঁয়াজের মূল্য, কখনো চিনির মূল্য, কখনো আদা-রসুনের মূল্য কখনো বা ধান-চালের মূল্য ইত্যাদি যেন যোগসাজসে পালাক্রমে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন। অবৈধ সিন্ডিকেটের খপ্পরে মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে, দেশের দরিদ্র মানুষরা হয় বেশি ক্ষতিগ্রস্থ।

তারা বলেন, সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও যখন করোনা ভাইরাস আক্রম করেছে সঙ্গে সঙ্গে মাস্কের দাম বৃদ্ধি করে ফেলে অবৈধ সিন্ডিকেট ও মজুদদাররা। যেখানে মাস্কের দাম ৫/১০ টাকা দিয়ে পাওয়া যায় সেখানে একটি মাস্কের দাম ১০০ থেকে ৩০০ টাকা বিক্রি করছে এ সিন্ডিকেট। তাছাড়াও বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরী করে মজুদদারদের অবৈধ মজুদদারিতে বেড়েছে ধান- চাল, ডাল, চিনিসহ বেশ কয়েকটি ভোগ্যপণ্যের মূল্যও। যেখানে অন্যদেশগুলোতে দুর্যোগপূর্ণ সময়ে নাগরিকদের সুবিধার্থে ভোগ্যপণ্য ও জিনিসপত্রের মূল্য হ্রাস পায় সেখানে আমাদের দেশে এ নাকাল অবস্থা কেন! এর জন্য কে দায়ী?

তারা আরো বলেন, অবৈধ সিন্ডিকেট ও মজুদদারি রোধে সরকার ও প্রশাসন ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও তা বাস্তবায়ন খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারে না। আর বাস্তবায়ন না হওয়ার পেছনে সরকার ও প্রশাসনের কেউ কেউ জড়িত থাকার কারণে হয় না বলে মনে করেন দেশবাসী।

তারা বলেন, করোনাকে কেন্দ্র করে কোনোভাবেই সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে যাতে মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে না যায়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যাতে কেউ নতুন করে সিন্ডিকেট গড়ে তুলতে না পারে সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের এ ব্যাপারে তদন্ত করা এবং জড়িতদের শাস্থির আওতায় নিয়ে আসা উচিত। যাতে তারা অবৈধ সিন্ডিকেট ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। সর্বোপরি অবৈধ সিন্ডিকেট প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া সময়ের দাবি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে