‘করোনার ভয়ে বসে থাকলে খাবো কি, বড় ভয়তো ক্ষুধার’

0
260

অনেকক্ষণ ধরেই রিশকা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন গফুর মিয়া। তেমন লোকজন নাই রাস্তায়। তাই রিশকার যাত্রী ও নাই। ‘এভাবে যদি ভাড়া না পেয়ে বসে থাকি তাহলে খাবো কি’, বলছিলেন গফুর মিয়া।

তিনি বলেন, করোনা না কি ভাইরাস এসেছে। এরপর থেকে রাস্তায় তেমন যাত্রী পাচ্ছি না। খালি রিকশা নিয়ে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ালেও কোন যাত্রীর দেখা পাচ্ছি না। দিনশেষে দু’বেলা ভাত জোটাতেও কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

আজ সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুর ১২টায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের গেটে রিকশাচালক গফুর মিয়ার সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, আগের তুলনায় এখন ভাড়া অর্ধৈকে নেমে এসেছে। সারাদিন রিকশা চালিয়েও ৫০০ টাকা হতে কষ্ট হয়ে যায়। এরমধ্যে আবার রিকশার ভাড়া দিতে হয়। সব মিলিয়ে চলা খুব কষ্ট হয়ে গেছে।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ভয় করে না আপনা? জানতে চাইলে গফুর মিয়া জানান, সবচেয়ে বড় ভয় তো ক্ষুধার। আমার তো আর ভয়ে ঘরে বসে থাকলে বেতন আসবে না। তাই যতই ভাইরাস আসুক মরার আগে পর্যন্ত তো আর না খেয়ে থাকতে পারবো না। কাজ না করলে খাবো কি। এখন আল্লাহই বাঁচা মারার মালিক।

বিশ্বব্যপী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় সব থেকে বিপদে পড়েছেন ক্ষুদ্র আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। তাদের তো আর বাইরে বের না হলে খাবার জোটে না। তাই বর্তমানে সবচেয়ে কষ্টের মধ্যে আছেন এই সব খেটে খাওয়া মানুষগুলো।

পাশাপাশি করোনা আতঙ্কে নিত্য পণ্যের দাম বাড়ায় আরো সংকটে পড়েছেন তারা। আবার ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তাদেরই বেশি। কারণ তারা চাইলেও বিভিন্ন কারণে নিতে পারছেন না যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। না পারছেন পরিষ্কার থাকতে। না পারছেন কাজ বাদ দিয়ে বাসায় বসে নিরাপদে থাকতে।

এদিকে বিশ্বব্যাপী এই মহামারি নোভেল করোনা ভাইরাসে বাংলাদেশে ইতোমধ্যে দুজন মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন ২৭ জন। করোনা আতঙ্কে কোয়ারেন্টাইনে আছেন কয়েক হাজার মানুষ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে