করোনাকালে বিদেশফেরত কর্মীদের ৪৭ শতাংশই বেকার

0
87

ঢাকা, ৩০ এপ্রিল– করোনাকালে চাকরি হারিয়ে বিদেশফেরত কর্মীদের ৪৭ শতাংশ এখনো বেকার। দেশে ফিরে তারা কোনো কাজ পাননি। তারা দৈনন্দিন খরচ মেটাচ্ছেন পরিবারের আয় থেকে অথবা আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে। বাকি ৫৩ শতাংশ বিদেশফেরত কর্মী কৃষিকাজ, ছোট ব্যবসা বা শ্রমিকের কাজ করে পরিবার চালাচ্ছেন। বিদেশ ফেরতদের ৯৮ শতাংশই এখনো তাদের ভবিষ্যত নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির ‘বিদেশ ফেরতদের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি অন্বেষণ এবং বিশ্লেষণ’ শীর্ষক জরিপের প্রতিবেদনে এসব তথ্য এসেছে। শুক্রবার অনলাইনে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

করোনার সংক্রমণ শুরুর পর গত বছরের মার্চ থেকে ১৪ মাসে প্রায় পাঁচ লাখ প্রবাসী কর্মী দেশে ফিরে এসেছেন। ব্র্যাকের জরিপে অংশ নেওয়া উত্তরদাতাদের ৩৫ শতাংশ ছুটিতে দেশে এসে করোনার কারণে বিদেশ ফিরতে পারেননি। ১৯ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছে, তারা চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। ১৬ শতাংশ বলছেন তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। ১২ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা একেবারেই চলে এসেছেন। দুই শতাংশ অসুস্থতার কারণে ফিরেছেন।

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি প্রধান শরিফুল হাসান প্রতিবেদনটি তুলে ধরে জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণ শুরুর পর গত বছরের মার্চে-এপ্রিলে বিদেশ থেকে ফেরত আসা কর্মীদের ওপর জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছিল। এক বছরে পরিস্থিতির কতটা উন্নতি হয়েছে তা জানতেই দ্বিতীয় জরিপ করা হয়।

অভিবাসনপ্রবণ ৩০ জেলায় এই বছরের মার্চ ও এপ্রিলে জরিপটি পরিচালনা করা হয়। গত বছর যাদের সঙ্গে কথা বলেছিল ব্র্যাক তারাসহ মোট এক হাজার ৩৬০ জন বিদেশফেরতদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্র্যাক। তাদের মধ্যে ২০৭ জন আবার বিদেশে ফিরে গেছেন। ৪১৭ জন বিদেশফেরত বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। তাদের উত্তরের ভিত্তিতে জরিপ প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়েছে।

উত্তরতাদাতের বেশিরভাগই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ এবং মালয়েশিয়া থেকে ফেরত এসেছেন। গবেষণায় অংশগ্রহনকারীদের মধ্যে ৯৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ পুরুষ। চার দশমিক ৩২ শতাংশ নারী। তাদের ৮৮ দশমিক ১ শতাংশ গ্রামে বাস করেন।

জরিপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতবছর বিদেশফেরতদের ৮৭ শতাংশ বলেছিলেন তাদের আয়ের উৎস নেই। এবার দেখা গেছে, উত্তরদাতাদের প্রায় ৫৩ শতাংশ কোনো না কোনো কাজে নিজেকে যুক্ত করতে পেরেছেন। তাদের মধ্যে ২৪ দশমিক ১৯ শতাংশ কৃষি কাজে, ২২ দশমিক ৩৩ শতাংশ দিনমজুরী বা একই ধরনের কাজ করছেন। ৩৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করেছেন। বাকি ১৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ অন্য কাজ করছেন।

উত্তরদাতাদের মধ্যে প্রায় ৪৭ শতাংশ জানিয়েছেন, গত এক বছরেও তারা কাজ জোগাড় করতে পারেননি। পরিবারের আয় বা ধার দেনা করে চলছেন। উত্তরদাতাদের ২৮ শতাংশ বলেছেন, তারা ইতোমধ্যেই ধারদেনায় জর্জরিত। ৭২ শতাংশ বলেছেন, আবার তারা বিদেশ ফেরত যেতে চান।

গত বছর জরিপে অংশ নেওয়া ৭৪ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছিলেন তারা ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন। এবার ৯৮ শতাংশ উত্তরদাতাই বলেছেন, অপর্যাপ্ত আয় বেকারত্ব, বিদেশ ফিরে যেতে না পারা, পারিবারিক কারণে মানসিক চাপের মধ্যে আছেন। ৭১ শতাংশই উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা প্রতিবেশি আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়েছেন।

সূত্র : সমকাল
এম এন / ৩০ এপ্রিল

Source link