করোনাকালে পশুর হাটে মানতে হবে যেসব সতর্কতা

90


লাইফস্টাইল ডেস্ক

ঢাকা: মুসলিমদের দ্বিতীয় প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা বুধবার (২১ জুলাই)। এ উপলক্ষে ইতিমধ্যে রমরমা কোরবানির পশুর হাট। গতবছরের মতো এবারও করোনাভাইরাস মহামারির ব্যাপক প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই এসেছে ঈদ। কিন্তু এবার সংক্রমণের হার গতবছরের চেয়ে ঢের বেশি। চলতি মাসের শুরু থেকেই দেশে দৈনিক করোনা সংক্রমণ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দুইশো পার হচ্ছে। সংক্রমণের হারও ঊর্ধমুখী। এ অবস্থায় কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল হয়ে পশুর হাঁট চালু হলেও—সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ভিড় এড়িয়ে চলার উপর জোর তাগিদ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

ভিড় এড়াতে এবার অনলাইনে পশু কেনাবেচা বেড়েছে। তবুও সশরীরে হাটে গিয়ে কোরবানির পশু দেখেশুনে যাচাই করে কিনতে চান অনেকেই। আবার নানা কারণে সবার পক্ষে অনলাইনে পশু কেনা বা বিক্রি সম্ভবও হয়ে উঠে না। সেক্ষেত্রে পশুর হাটে যাওয়ার আগে অবশ্যই কিছু সতর্কতা মানতে হবে।

আসুন দেখে নেই পশুর হাটে যাওয়ার আগে কী কী সতর্কতা মানা জরুরি—

  • শুধু পশুর হাটে নয়, করোনা সংক্রমণ রোধের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হচ্ছে মাস্ক। তাই যে কোনো প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হতে হলে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। দুটি সার্জিক্যাল মাস্ক ও তিন স্তরের কাপড়ের মাস্ক পরা ভালো। মনে রাখবেন ভালো মানের মাস্ক ব্যবহার করলে সংক্রমণ অনেকটাই এড়ানো যায়।
  • তবে নামেমাত্র উপায়ে শুধু নিয়মরক্ষার জন্য মাস্ক পরলেই হবে না। মনে রাখতে হবে মাস্ক পরার একমাত্র উদ্দেশ্য, করোনার সংক্রমণ রোধ। তাই এমনভাবে মাস্ক পরতে হবে যেন তা কাজে আসে।
  • এক্ষেত্রেও মাথায় রাখতে হবে কিছু সতর্কতা। এমন মাস্ক পরতে হবে যা নাকের ওপর থেকে চোয়ালের নিচের অংশ পর্যন্ত ভালোভাবে আটকে থাকে। ঘর থেকে বের হওয়ার আগে শক্ত হয়ে আটকে থাকে এমন মাস্ক পরে একবারে ঘরে ফিরে হাত ধুয়ে বা জীবাণুমুক্ত করে তারপর খুলতে হবে। কোনো অবস্থাতেই মাস্ক মুখ থেকে খুলে থুতনি ও কানে ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। যদি হাটে কোনো কারণে মাস্ক খুলতে হয় তবে ভিড় থেকে দূরে সরে হাত জীবাণুমুক্ত করে তবেই দুই কানের পেছনের ফিতা ধরে খুলতে হবে। এবং দ্রুত কাজ সেরে এভাবেই পরে ফেলতে হবে। কোনো অবস্থাতেই মাস্কের মধ্যের অংশে হাত দেওয়া যাবে না। যদি তা করেন, তাহলে মাস্কই হয়ে উঠবে জীবাণুর আখড়া।
  • দেখা যায় শুধু হাট নয়, বাইরে অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। তাই যতটা সম্ভব দূরত্ব বজায় রাখুন। কোথাও খুব ভিড় দেখলে একটু দূরে অপেক্ষা করুন। ভিড় কমলে সেই দোকানে যান। নিজে ভিড় এড়িয়ে চলুন, অন্যদেরও উৎসাহিত করুন।
  • গবাদিপশুর গায়ে এই ভাইরাস লেগে থাকবে এমন নয়। তবে গায়ে হাত দেওয়ার সময় ‘হ্যান্ড গ্লাভস’ ব্যবহার করুন। এই গ্লাভস পরা হাত কিছুতেই নাকে-মুখে বা শরীরের কোথাও স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। বাড়ি ফিরে মাস্ক খোলার আগে গ্লাভস খুলে ফেলে দিন। হাত পরিষ্কার করে তারপর মাস্ক খুলবেন। দ্রুত সাবান দিয়ে গোসল করে নিন। আবার হাটে যাওয়ার সময় বাড়ি থেকে সাবান ও পানির বোতল নিয়ে বের হতে পারেন। পশু স্পর্শ করার পর হাটেই হাত ধুয়ে নিন।
  • পিপিই পরে হাটে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। এতে আপনি গরমে অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন। তবে মাস্ক পরতে ভুলবেন না কিছুতেই। অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে গ্লাভস পরতে পারেন। তবে পা বাঁচাতে গামবুট পরতে পারেন। গ্লাভস পরলে কী করতে হবে তা উপরেই লেখা হয়েছে।
  •  হাট থেকে ফিরেই গায়ের পোশাক, জুতা, ছাতা, ব্যাগ ইত্যাদি অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করুন। সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
  • অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে কোরবানির পশুটিকে বাড়িতে আনার পর অবশ্যই সাবান কিংবা শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করাতে হবে। এতে পশুর গায়ে জীবাণু লেগে থাকলে তা দূর হবে। এসময়ও আপনাকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। এবং সম্ভব হলে গ্লাভস পরে গোসল করানো উত্তম। গ্লাভস না পরলে কাজ শেষে ভালো করে হাত জীবাণুমুক্ত করুন।

প্রতিবছর ঈদ আসে আনন্দের বার্তা নিয়ে। কিন্তু গত দুই বছর যাবত করোনাভাইরাসের দাপটে নানা উৎসবের মতো ঈদের খুশিতেও যেন ভাটা পড়েছে। তাই সামর্থ্যবান যারা কোরবানি দেবেন ও এ উপলক্ষে পশুর হাটে যাবেন তারা অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন এবং অন্যকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে উৎসাহিত করুন।

সারাবাংলা/আরএফ/আইই





Source link