কফি নিয়মিত পান করেন, জানেন তো ভালো ও মন্দ দিকগুলো, জেনে নিন

বিনোদন ডেস্কঃ অবসাদ বোধ করছেন? অনুভব করছেন ক্লান্তি ? এককাপ কফি দূর করতে পারে সে ক্লান্তি। এনে দিতে পারে কাজ করার নতুন উদ্যম। কর্মব্যস্ত জীবনে কফিকে নিত্যদিনের সঙ্গী করে নিয়েছেন এমন লোকের সংখ্যা অনেক। কেউ অ্যাডিক্ট এর মত দিনে অনেক কাপ আর কেউ বা দু-এক কাপ আবার কেউ ক্লান্তি এলে তবেই হাত বাড়ান কফি কাপের দিকে। এক কাপ কফি অনেকখানি সতেজতা। তারপর? আবার সেই কর্মব্যস্ত জীবন। কিন্তু কখনো কি মনে প্রশ্ন জেগেছে যে, কফি খাওয়া শরীরের জন্য ভাল না মন্দ? চিন্তা নেই বন্ধুরা, সে বিষয় নিয়েই আমাদের এই লেখা।
কফির ভাল দিকঃ
১। শারীরিক পরিশ্রম করার সামর্থ্য বাড়ায়
কফিতে বিদ্যমান ক্যাফেইন রক্তের আড্রিনালিন বৃদ্ধি করে। যা আপনাকে তৈরি করবে কঠোর শারীরিক পরিশ্রম করার জন্য। ওয়ার্ক আউট/ব্যায়াম করার আগে এক কাপ কফি কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারে।
২। মনোনিবেশ করতে সহায়তা করা
কাজে মন বসছে না? দিনে ১ থেকে ৪ কাপ কফি পান করা যেতে পারে কাজে মননিবেশ করতে সহায়তার জন্য।
৩। ডায়াবেটিস(টাইপ ২) এর ঝুকি কমায়
টাইপ ২ ডায়াবেটিস বলতে ইন্সুলিনের কর্যকারিতা কমে যাওয়ায় রক্তে সুগার এর মাত্রা বেড়ে যাওয়া বুঝায়। যারা নিয়মিত কফি পান করেন তাদের এই ঝুকি অনেক কম।
৪। বিষণ্ণতা প্রতিহত করে
বিশ্বব্যাপী বিষণ্ণতা বর্তমানে সব থেকে কমন মানুষিক অসুস্থতা। ২০১১ সালের হার্ভারড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে কফি পানকারীরা তুলনামূলক ভাবে কম বিষণ্ণতায় ভুগে।
৫। যকৃতের ক্যান্সার ঝুকি কমায়
ক্যান্সার রোগীদের একটা বড় অংশ যকৃতের ক্যান্সারে ভোগে। কফি যকৃতের ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকরি।
৬। মস্তিষ্ক রক্ষায়
কফি Alzheimer রোগের ঝুকি কমায়। পাশাপাশি এটি ডেমেনশিয়া(Dementia) এর সম্ভাবনাও কমায়।
৭। ওজন কমাতে সাহায্য করে
কফিতে ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম রয়েছে যা মানব শরীরকে ইন্সুলিন ব্যবহারে সাহায্য করে ও রক্তে সুগার এর লেভেল ঠিক রাখতে সহায়তা করে যা মিষ্টি জাতিয় খাবার খাওয়ার আগ্রহ কমায়। ফলে এটি পরোক্ষ্যভাবে ওজন কমাতে সাহায্য করে।
৮। ক্ষণস্থায়ী স্মৃতিশক্তি বাড়ায়
ক্ষণস্থায়ী স্মৃতিশক্তি বা অল্প সময়ের জন্য কোন কিছু মনে রাখতে হলে কফি সেক্ষেত্রে ভাল কাজ করে।
৯। মাথা ব্যাথা কমায়
কফি পানে মাথা ব্যাথা উপশম হয়। পুরোপুরি ভাল না হলেও যে স্বস্তি পাওয়া যায় তা অনেক সময়ই আবার কাজে মনোনিবেশ করার জন্য যথেষ্ট।

খারাপ দিকঃ
১। আসক্তি
কফি নিয়মিত পানে আসক্তি তৈরি হয়। তখন এর উপর এক ধরনের নির্ভরশীলতা তৈরি হতে পারে। ফলশ্রুতিতে আগে যেখানে আপনি ক্লান্তি বা অবসাদে কফি পান করতেন এখন সেটা আসক্তি থেকে হতে পারে। আরো সমস্যার বিষয় হল দীর্ঘদিন পানে, অল্পতে বা এক কাপে আগের মত কর্মদ্যোম নাও পেতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে আরো বেশি পান করতে হবে। আস্তে আস্তে এইভাবে মাত্রা বাড়াতে থাকলে এর অনেক স্বাস্থ্য ঝুকি রয়েছে।
২। ঘুম নষ্ট ও উদ্বিগ্নতা
কফি বেশি খাওয়ার ফলে উদ্বিগ্নতা ও ঘুম নষ্ট হতে পারে। হৃৎপিণ্ডের গতি বৃদ্ধি পেয়ে অস্বস্তির সৃষ্টি করতে পারে। দুপর ২ টার পর কফি এড়িয়ে চলা উত্তম।
অনেকের শরীরে ক্যাফেইন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি প্রভাব ফেলে বা অতিরিক্ত উদ্যমী করে তোলে যা অসস্তির কারন হতে পারে। এক্ষেত্রে কফি এড়িয়ে চলাই ভাল।
৩। ক্যালশিয়াম ক্ষয়
বেশি পরিমানে কফি পান শরীরের ক্যালশিয়াম ক্ষয়কে ত্বরান্বিত করতে পারে।
৪। শরীরের বয়স বৃদ্ধির হারতে ত্বরান্বিত করতে পারে।
৫। শরীরে কলেস্ট্রল বাড়িয়ে দিতে পারে।
৬। কফির মান খারাপ হলে শরীর খারাপ লাগতে পারে অনেক সময় মাথা ব্যাথা দেখা দিতে পারে।
৭। প্রেগনেন্ট অবস্থায় কফি খেলে বাচ্চার ক্ষতি হতে পারে।
৮। ছোট বাচ্চা কফি খেলে বিছানায় প্রসাবের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।

!-- Composite Start -->
Loading...

কফির যেমন ভাল দিক রয়েছে তেমনি অনেক খারাপ দিকও রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত গবেষণালব্ধ ফলাফলের উপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, কফির খারাপের থেকে ভাল দিকই বেশি। তবে যাদের শরীরে কফি অস্বস্তি, অসুস্থতা, বিষণ্ণতা, ঘুমে সমস্যা ইত্যাদি নানারকম সমস্যার সৃষ্টি করে তাদের কফি এড়িয়ে চলাই ভাল।

মতামত দিন

Post Author: newsdesk

A thousand enemies is not enough; a single enemy is. There is nothing as a ‘harmless’ enemy.