“কন্টেন্ট রাইটিং : যে লেখা বিক্রি বাড়ায়”

0
250

এস. বি. রতনঃ
কন্টেন্ট কি সে বিষয়ে হয়তো সকলেরই কম বেশি ধারনা আছে। বোঝার সুবিধার্থে যদি বলি, আমরা সবাই খবর পড়তে দেখি, সংবাদ পাঠক যাই পড়েন তা স্ক্রিপ্ট বা কন্টেন্ট। পতিকায় যে লেখা গুলো দেখি, সেগুলো আর্টিকেল বা কন্টেন্ট। বিজ্ঞাপণ দেখি বা শুনি, সেগুলো স্ক্রিপ্ট বা কন্টেন্ট। পণ্যের গায়ে বিভিন্ন লেখা দেখি, সেগুলো পণ্যের বিবরণ বা কন্টেন্ট। আপনি কিভাবে একটা ওয়েবসাইট বানাবেন, তার শিট একটা কন্টেন্ট। কন্টেন্ট সম্পর্কে এরূপ হাজারো উদাহরণ দেয়া যায়।

এবার আসি আমার টপিক নিয়ে। টপিকটি হলো “কন্টেন্ট রাইটিং : যে লেখা বিক্রি বাড়ায়”। টপিক সম্পর্কে ধারণা নিতে চলুন জেনে নেই কন্টেন্ট কত প্রকার ও তার আলোচনা।

কন্টেন্ট রাইটিং মুলত দুই ধরনের
১। টিউটরিয়াল টাইপ
২। রিভিউ টাইপ

টিউটোরিয়াল টাইপ কন্টেন্ট রাইটিং সম্পর্কে লিখতে গেলে বিষয় সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকা দরকার। কিন্তু রিভিউ টাইপ কন্টেন্ট লিখতে প্রডাক্ট সম্পর্কে সামান্য জ্ঞান থাকলেই লেখা সম্ভব।

এবার চলুন টিউটরিয়াল টাইপ কন্টেন্ট কী সেটা সম্পর্কে ধারনা নিই।
কোনো কাজ কিভাবে করা হবে স্টেপ বাই স্টেপ শেখানোর জন্য যে কন্টেন্ট লেখা হয় সেটিই মূলত টিউটোরিয়াল টাইপ কন্টন্ট। যেমন ধরুন আপনি আপনি ভিডিও এডিটিং শিখতে চান। আমি আপনাকে একটা শিট দিলাম, যে শিটে লেখা আছে কিভাবে ভিডিও এডিটিং শিখতে হয় তার আদ্যোপান্ত। আপনি এই শিট দেখে আপনি খুব সহজেই শিখে ফেললেন ভিডিও এডিটিং।
আপনাকে আমি ভিডিও এডিটিং এর উপর যে শিটটি দিয়েছি, সেটিই মূলত টিউটোরিয়াল কন্টেন্ট। এখন ভিডিও এডিটিং সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারনা না থাকলে কোনো ভাবেই এই শিট আমি তৈরি করতে পারব না। অপরপক্ষে আমি যা লিখছি তাতে শব্দচয়ন, লেখার মান এবং সহজ বোধ্যতা না হলে আমার শিট কোন কাজে আসবে না। ফলে শিট তৈরির উদ্যেশ্য ব্যহত হবে। অতএব টিউটোরিয়াল টপিক কন্টেন্ট লিখতে গেলে বিষয় সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারনা রাখতে হবে ও শব্দচয়ন, লেখার মান এবং সহজ বোধ্যতার উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিতে হবে।

চলুন এবার ধারনা নেই রিভিউ টাইপ কন্টেন্ট সম্পর্কে।
প্রডাক্ট রিভিউ টাইপ কন্টেন্ট মূলত বিভিন্ন সার্ভিস বা প্রডাক্টের সুযোগ সুবিধা সমূহ লিখে রাখা। মোট কথা হল সার্ভিস বা প্রডাক্টের সুন্দর একটা বর্ণানা, কার্যক্রম, প্রয়োগ, প্রাপ্তিস্থান ইত্যাদি সম্পর্কে যে আর্টকেল লেখা হয় সেটিই রিভিউ টাইপ কন্টেন্ট। আর সুন্দর একটি রিভিউ কন্টেন্ট পন্য বা সার্ভিসের বিক্রি বাড়িয়ে দিতে পারে বহুগুণ।

কেউ যদি কোন মেয়েকে পটানোর জন্য বলে, “আপনি খুব সুন্দর। রঙিন এই শাড়িটাতে আপনাকে দারুন লাগছে!”
আবার অন্য কেউ ঐ একই মেয়েকে পটানোর জন্য বলে, “আপনি এত সুন্দর যে স্রষ্টার সকল সৌন্দর্য আপনার কাছে হার মানতে বাধ্য। আর এই শাড়িটা আপনার সৌন্দর্য এমন বাড়িয়েছে যে তা বর্ণনা করা কবির পক্ষেও অসাধ্য।”
এবার বলুন মেয়েটার যদি পটার সুযোগ থাকে তবে কার কথায় সে পটবে?
সহজেই অনুমেয়। দ্বিতীয় ব্যক্তিই তার মন হরণ করবে।
রিভিউ কন্টেন্টও তাই। পটাবেন। মেয়ে নয়। কাস্টমার। আর সেটা মুখে বলে নয়। লিখে।

এখন কথা হল, সবাই তো এ বিষয়ে ওস্তাদ নয়। কারন কি? কারন হল কন্টেন্ট রাইটিং হল সম্পূর্ণ সৃজনশীল কাজ। সবাই যেহেতু সমান সৃজনশীল নয় তাই সবার কন্টেন্টেও সকল কাস্টমার পটে না। এজন্য প্রয়োজন প্রচুর পড়াশুনা ও প্রাকটিস। কথায় আছে প্রাকটিস মেকস এ ম্যান পারফেক্ট।

চলুন জেনে নেই রিভিউ কন্টেন্টে কি লিখবেন?
রিভিউ কন্টেন্ট যেহেতু প্রডাক্টের বর্ণনা নির্ভর, তাই বর্ণনাটা সন্দর করে লিখতে হয়। সুন্দরীকে শুধু সুন্দরী বলে উপস্থাপন করলে হবে না। প্রয়োজনে মেক-আপ, আটা, ময়দা মাখিয়ে লিখতে হবে। মোট কথা বর্ণনাতে কাস্টমারের মন ভোলাতে হবে।
কিন্তু এই বর্ণনা দিতে গিয়ে আবার আপনি লিমিট ছাড়িয়ে ফলবেন না। সীমার মধ্যে থেকেই বলতে হবে। খুব বড় করে লেখা যাবে না। কারণ বড় লেখা দেখলে ভয় পায় এমন লোকের সংখ্যাই মনে হয় পৃথিবীতে বেশী।
বিষয়টা দাড়ালো, মোটামুটি বর্ণনায় সুন্দর করে গুছিয়ে লিখবেন।
তো, কি লিখবেন?
প্রডাক্টের বিবরণ/ফিচার, সুযোগ-সুবিধা ইত্যাদি। প্রডাক্টিতে কনজিউমার কিভাবে বেনিফিটেড হবে সে বর্ণনা দিবেন। অর্থাৎ কন্টন্টের মধ্যমে ক্রেতার ডিমান্ড সৃষ্টি করাতে হবে। যেমন, কেউ মাথায় তেল ব্যবহার করেছে, কিন্তু আপনার আর্টিকেল পড়ে সে পুনরায় মাথায় তেল নিতে উৎসাহিত হয়। অথবা কারো মাথায় চুলই নাই কিন্ত আপনার কন্টেন্ট তাকে তার মাথার চুল আছড়াতে নাছোড়বান্দা করে দেয়।

কোনো কন্টেন্ট লেখার জন্য সবচেয়ে ভালো সোর্স হল গুগল। সেলহানে আপনি সকল প্রডাক্টের ফিচার ও গুণাগুণ সম্পর্কে ধারণা পাবেন। কিন্তু কপি পেস্ট করার চিন্তা ভুলেও মাথায় আনবেন না। এতে আপনার কন্টন্টের স্বকীয়তা হারাবে। এবং মূল উদ্দেশ্য ব্যহত হবে।
এবার থামতে হচ্ছে।
কারো কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করতে পারেন। কোনো অভিযোগ থাকলেও কমেন্টে জানাতে পারেন।
ধন্যবাদ। হ্যাপি বিজনেস।

মতামত