ওয়াজ মাহফিলে ধর্মের ভুল ব্যাখা দেবেন না: হানিফ

70


স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, আমাদের লোকসংস্কৃতি সমাজ থেকে হারিয়ে গেছে। এখন সেই জায়গায় দখল নিয়েছে ওয়াজ মাহফিল। আমরা মুসলমান, আমাদের সেই ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা করে তথাকথিত ধর্ম ব্যবসায়ীরা বারবার আমাদের ধর্মকে কলঙ্কিত করেছে।

শনিবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর কাজীর দেউড়িতে একটি কমিউনিটি সেন্টারে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেক সোলেমান সেলিমের স্মরণসভায় হানিফ এসব কথা বলেন। তারেক সোলেমান সেলিম স্মরণসভা পরিষদ আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিষদের চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ তার বক্তব্যে বলেন,  ‘যারা ইসলামী বক্তা আছেন তাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে—ধর্মের ভালো দিকগুলো আপনারা ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে তুলে ধরুন। ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে সাম্প্রদায়িকতার দিকে ঠেলে দিয়ে আমাদের ধর্মকে কলঙ্কিত করবেন না।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহবুবুল আলম হানিফ আরও বলেন, ‘সনাতন ধর্মের পূজামণ্ডপে দেবতার ওপর কোরআন শরীফ রেখে এই যে সাম্প্রদায়িকতার বীজ ছড়িয়ে দেশের মধ্যে হানাহানি করা হলো, যে ব্যক্তিটি করল সে ইতিমধ্যে ধরা পড়েছে। তিনিও একজন মুসলমান।

এসময় প্রশ্ন রেখে হানিফ বলেন, ‘একজন মুসলমান আমাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থকে অন্য ধর্মের মন্দিরে রেখে তাকে সম্মানিত করল নাকি অসাম্মিনত করল? মুসলমান হয়ে মুসলমানের ধর্মকে অসম্মানিত করেছে। আর আমরাও হুজুগে বাঙালি, ধর্মান্ধ- আমরা সেদিকে না দেখে অন্য সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি মন্দির ভাঙচুর করলাম। আমরা দেখিয়ে দিলাম যে, কোরআনের প্রতি আমাদের কত সম্মান। এতে সম্মান বেড়েছে?’

‘বঙ্গবন্ধু অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করতেন। চার মূল নীতির ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বীজ বপন করেন জিয়াউর রহমান। জামায়াতকে রাজনীতি করার বৈধতা দেন। স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেন। সংবিধানের মধ্যে ধর্মকে সংযোজন করলেন। এর মধ্য দিয়ে এই বাংলাদেশের মধ্যে যে সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করেছিলেন সেখান থেকে আস্তে আস্তে গাছ হয়েছে’— মন্তব্য করেন মাহবুবুল আলম হানিফ।

হানিফ আরও বলেন, ‘এই চারাগাছটিকে নার্সিং করার পর এরশাদ সাহেব ক্ষমতায় এলেন। তিনিও সাম্প্রদায়িকতার এই চারাগাছটিকে লালন পালন করে আরও বড় করলেন।এর পর ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এই গাছটির শিকড় ছড়িয়ে পড়ে। আজ আমাদের তরুণ সমাজকে শিক্ষা নিতে হবে। আমরা যার যার ধর্ম পালন করব। প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (স) ইসলাম প্রতিটি ধর্মের প্রতি সম্মান করার নির্দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন। অন্য ধর্মকে আঘাত করার কথা বলেননি। তারপরও কেন আজ এই সাম্প্রদায়িকতা? এর একটাই কারণ ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে দেশের মধ্যে অস্তিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করা।

হানিফ আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আসুন, আজ এই স্মরণসভায় দাঁড়িয়ে শপথ নিই, আমরা সমাজের মধ্যে পরিবর্তন আনি। আমরা ধর্মপরায়ণ হই, ধর্মান্ধ না হই। তরুণ যুব সমাজকে আহ্বান জানাব, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করতে।’

স্মরণসভা পরিষদের সদস্যসচিব জামসেদুল আলম চৌধুরীর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংসদ মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আফজালুর রহমান, সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সহ-সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কে বি এম শাহজাহান, সাবেক ছাত্রনেতা মাহফুজুল হায়দার রোটন, আবু সাঈদ রাসেল, ওয়ার্ড কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন, হাসান মুরাদ বিপ্লব, আতাউল্লাহ চৌধুরী ও নুরুল আলম, সাবেক ছাত্রনেতা সাদেক হোসেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের চারবার নির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেক সোলেমান সেলিম গত বছরের ১৮ জানুয়ারি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি নগর আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন।

সারাবাংলা/আরডি/আইই





Source link