এ সপ্তাহেই জবিতে নতুন উপাচার্য নিয়োগ!

37


জগেশ রায়, জবি করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: চলতি বছরের মার্চ মাসের ১৯ তারিখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য পদ শূন্য হয়। এখন পর্যন্ত নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি এ পদে। বর্তমানে রুটিন দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারা অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দন আহমেদ।

সম্প্রতি উপাচার্যের পদ শূন্য থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া শুরু হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই জবির নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে খবর ছড়িয়ে পড়েছে ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তিনজন শিক্ষকের নাম প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এই শিক্ষকদের মধ্যে সবার উপরে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়র উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক। এরপরে আছেন ঢাবির জিওলোজি বিভাগের অ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আক্তার এবং জবির ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ।

জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওলোজি বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আক্তারকে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ার কথা চিন্তা করছে সরকার। সে ক্ষেত্রে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হচ্ছেন উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক। এদিকে জবি ট্রেজারার ড. কামাল উদ্দিনও চেষ্টা চালাচ্ছেন। রাষ্ট্রপতির দফতর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত ঘনিষ্ট আত্মীয়দের দ্বারা চেষ্টা চালাচ্ছেন।

সাবেক উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য নিয়োগ করার ব্যাপারে সোচ্চার ছিল। বিভিন্ন মাধ্যমে তারা দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরবর্তী নিয়োগের জন্য এক ডজনেরও অধিক নামের একটি তালিকা ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় জমা দিয়েছিলেন। তবে জানা যাচ্ছে, এবারও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই পরবর্তী উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হবে। অর্থাৎ এ সপ্তাহেই নতুন উপাচার্য পাচ্ছেন জবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগপন্থী নীল দলের (একাংশ) সভাপতি অধ্যাপক ড. জাকারিয়া সারাবাাংলাকে বলেন, ‘এ সপ্তাহেই নতুন উপাচার্য নিয়োগ হবে জেনেছি। তবে কে হবেন এ বিষয়ে জানি না। নতুন উপাচার্যের বিষয়টি জানার জন্য প্রজ্ঞাপন জারি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’

জবি থেকে পরবর্তী উপাচার্য নিযোগের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের বার্তা প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছাতে পারি না। হয়ত তারা মনে করছেন যে, আমাদের এটা নবীন বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখানে উপাচার্য হওয়ার মতো শিক্ষক নেই।’

জবি নতুন উপাচার্য নিয়োগের ব্যাপারে জানতে চাইলে নীল দলের (অপর অংশের) সভাপতি অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দিন সারাাবাংলকে বলেন, ‘আমরা শুনছি নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে আর বেশি কিছু জানি না।’

জবি থেকে উপাচার্য নিয়োগের দাবি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের সিনিয়র শিক্ষকদের মধ্য থেকে কীভাবে উপাচার্য নিয়োগ দেবে? আমাদের মাঝে ঐক্য নেই। আমরা সবসময় নিজেদের পেছনে লেগে থাকি। এভাব চলতে থাকলে জবি থেকে কখনো উপাচার্য হবেন না।’

জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নূরে আলম আব্দুলাহ বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অধ্যাপক আছেন যারা উপাচার্য হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। এই দাবি আমরা বারবার বলে আসছি। আমরা এই দাবি শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবরও পেশ করেছি। কেন আমাদের দাবি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না জানি না।’

উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ উপাচার্য ড. মীজানুর রহমানের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের ১৯ মার্চ। তখন থেকেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল, রাজধানীর এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নিজেদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দিতে হবে।

২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রেড-১ পদমর্যাদায় আছেন ২৬ জন অধ্যাপকসহ ১০৫ জন। তাদের মধ্যে অনেকেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপাচার্য, ট্রেজারারসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করে এসেছেন।

সারাবাংলা/জেআর/একে





Source link