এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসা সহায়তা প্রায় ৬০ লাখ, ব্যয় ২ কোটি

0
563

দেশ বরেণ্য সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর প্রায় ৪ মাস ধরে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে তিনি চিকিৎসক লিম সুন থাইয়ের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ব্যয়বহুল এই চিকিৎসার খরচ জোগাতে এরই মধ্যে কিংবদন্তি এই শিল্পী বিক্রি করেছেন তার রাজশাহী শহরে কেনা ফ্ল্যাটটি। তার চিকিৎসা সহায়তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিল্পীর পরিবারের পাশাপাশি সংগীতশিল্পী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, বেশকিছু প্রতিষ্ঠান এবং প্রবাসীরা এগিয়ে এসেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসার জন্য এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ লাখ টাকার মতো সহায়তা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সর্বশেষ দুটি কনসার্ট থেকে এসেছে ৪ লাখ ও ৪ লাখ ৮ হাজার টাকা। আগামী ফেব্রুয়ারিতে সিঙ্গাপুর প্রবাসীদের আয়োজনে সেখানে আরেকটি কনসার্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে, চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছে, এন্ড্রু কিশোরকে ৬টি সাইকেলে ২৪টি কেমোথেরাপি দিতে হবে। বর্তমানে তাকে ৪টি সাইকেলে ১৬টি কেমো দেওয়া হয়েছে। বাকি রয়েছে ২টি সাইকেলে ৮টি কোমো। প্রতিটি কেমোর ব্যয় ৯ লাখ টাকা করে। হিসাব অনুযায়ী এ পর্যন্ত কেমো প্রতি তার খরচ হয়েছে ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। কেমোর পাশাপাশি বিভিন্ন রকম টেস্ট, থাকা-খাওয়া ও যাতায়াত বাবদ সর্বমোট খরচ হয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকা।

দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে এন্ড্রু কিশোরের শিষ্য, কণ্ঠশিল্পী মোমিন বিশ্বাস বলেন, ‘হিসাব করে টাকার খরচ এখনই বলা মুশকিল। কারণ, এই চিকিৎসা চালানো অনেক কষ্ঠসাধ্য ও ব্যয়বহুল। যেমন কেমোর পর বিভিন্ন টেস্ট আছে যার খরচও প্রায় লাখ টাকা। এ ছাড়া কেমো দেওয়ার পর শরীরের বিভিন্ন পরিবর্তন আছে। সেসব সমস্যারও চিকিৎসা করতে হয়। যা হুট করে সামনে চলে আসে। এরপর থাকা, খাওয়া, যাতায়াতসহ আরও অনেক খরচ আছে। তাই সঠিক খরচের হিসাব বলা মুশকিল। তবে যতটুকু ধারণা পেয়েছি, প্রায় ২ কোটি টাকার মতো ব্যয় হয়ে গেছে।’

মোমিন আরও জানান, কর্তব্যরত চিকিৎসকের কথা অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে। আর ২টি সাইকেলে ৮টি কোমো সম্পন্ন করতে হবে। এর খরচ কমতে কিংবা বাড়তেও পারে। তবে কমার সম্ভবনা খুবই কম। ধারণা করছি, সামনে প্রায় দেড় কোটি টাকার মতো লাগবে। আমরা সেভাবেই এগুচ্ছি।’

হিসাব অনুযায়ী সর্বসাকুল্যে এ পর্যন্ত ৪টি সাইকেলে ১৬টি কেমো ও অন্যান্য ব্যয় নিয়ে আনুমানিক খরচ হয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে চিকিৎসা সহায়তায় ৫০ লাখ এবং ৮ লাখ ৮ হাজার টাকা উঠে এসেছে। আর ফ্ল্যাট বিক্রির ৩০ লাখ টাকাও খরচ হয়েছে তার চিকিৎসায়। সামনে ২টি সাইকেলে আরও ৮টি কোমো নিতে হবে এন্ড্রু কিশোরকে। সেই তালিকায় যুক্ত হবে চিকিৎসা বাবদ অন্যান্য খরচ, থাকা, খাওয়া ও যাতায়ত হিসাবটাও।

মোমিন বিশ্বাস বলেন, ‘বর্তমানে কিছু শারীরিক অসুবিধা দেখা দেওয়ায় প্রায় মাস খানেক ধরে দাদা হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ফলে তার পরবর্তী কেমো গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে। এই সমস্যা কাটিয়ে উঠলে পুনরায় তার কেমো শুরু হবে বলে ডাক্তাররা জানিয়েছেন।’

এদিকে, এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসার জন্য ‘গো ফান্ড মি’ নামে ওয়েবসাইটে একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। সেখানে জমা হয়েছে ৮ হাজার ৯৮৯ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। যা এখনো এই শিল্পীর পরিবারের হাতে এসে পৌঁছায়নি। জানা যায়, ২৫ হাজার ডলারের (২১ লাখ ২২ হাজার) লক্ষ্য পূরণ হলেই এই টাকা শিল্পীর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে ফাউন্ডেশনটি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে