এটা তো পাকিস্তানের থেকেও খারাপ: মির্জা ফখরুল

103


স্পেশাল করেসপন্ডেট

ঢাকা: বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থাকে পাকিস্তানের চেয়েও ‘খারাপ’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে শের এ বাংলানগরে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

বরিশালে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের হামলার প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বরিশালের মতো সারা দেশে এরকম সন্ত্রাসের রাজত্ব তারা কায়েম হয়েছে। এটা একটা সন্ত্রাসের রাজত্ব, এটা একটা রেজিম অব টেরোর।’

‘আপনারা দেখেছেন আসিফ নজরুল সাহেবকে কীভাবে তালা লাগিয়ে দিয়েছে এবং কীভাবে তাকে থ্রেট করেছে। এটাকে কি কোনো সভ্য গণতান্ত্রিক দেশ বলবেন? এটা তো পাকিস্তানিদের থেকেও খারাপ’- বলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জিয়ার সমাধিতে প্রবেশের সময় পুলিশি কড়াকড়ির সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত পরশু শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল। চারদিক থেকে নেতা-কর্মীরা এসে বরাবরের মতোই মহান নেতার কবরে ফুল দিয়ে, জিয়ারত করে, মোনাজাত করে চলে যাওয়ার কথা ছিল। নতুন কমিটি নিয়ে কর্মীদের মধ্যে আবেগ ছিল। সেই আবেগ নিয়ে তারা সেদিন এখানে এসছিল। এটাকে তারা (পুলিশ) সহ্য করতে পারেনি। বেশি জমায়েত তারা সহ্য করতে পারে না। বেশি লোক দেখলেই তারা অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করে।

‘তারা (পুলিশ) নিজেরা স্বীকার করেছে ১৮৭ রাউন্ড গুলি করার কথা। আমি এফআইআরটা দেখেছি। সেখানে বলা হয়েছে যে, ১৮৭ রাউন্ড গুলি করা হয়েছে। এ কিরে ভাই! এটা একটা গণতান্ত্রিক দেশ। অথচ আমরা একটা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিও করতে পারব না। এভাবে চলে না’- বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় ত্রাণ বিতরণেও বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। গতকাল নরসিংদীতে, যশোরে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা কীভাবে হামলা চালিয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে বাঁধা সৃষ্টি করছে যাতে বিরোধী দল মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে, জনগণের কথা না বলতে পারে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিরোধীদল যেন এই ভয়াবহ দানব সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে না পারে। সেজন্য এই দমনপীড়নমূলক কাজ করছে।’

ফখরুল বলেন, ‘এই সরকারের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এখানে একটা এক দলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। এখানে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল থাকবে না, ঠিক যেরকম বাকশাল তৈরি করেছিল ১৯৭৫ সালে, সেইরকম একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায় সম্পূর্ণ ফ্যাসিস্ট কায়দায়।’

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়ল যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম সারোয়ার, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ইয়াসীন আলী, সাদরেজ জামান, রফিক হাওলাদার, মনির হোসেন, ফখরুল ইসলাম রবিন, ডা. জাহিদুল কবির, নাজমুল হাসান, সরকার মো. নুরুজ্জামান প্রমুখ।

সারাবাংলা/এজেড/একেএম





Source link