একদিনে মূল্যসূচক কমেছে ৮৭ পয়েন্ট বড় ধস শেয়ারবাজারে

0
422

শেয়ারবাজারের দরপতন অব্যাহত রয়েছে। গত দুদিনে এই পতন পরিণত হয়েছে ধসে। বিনিয়োগকারীরা প্রতিবাদ করেছে ব্র্রোকারেজ হাউস ছেড়ে রাস্তায় নেমে। দরপতনে প্রতিটি শেয়ারের দর এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এখান থেকে দর হারানোর যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। কোনো কোনো শেয়ার ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থার ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। ২০১০ সালে শেয়ারবাজারে ধসের পর গত ১০ বছরে বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা। বাজারের এ ভয়াবহ অবস্থায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা কিংবা স্টক এক্সচেঞ্জের কেউ কিছু বলছেন না। শুধু বিনিয়োগকারীদের হাহাকারই শোনা যাচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতাই পতনের মূল কারণ।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ৯ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মূলধন কমেছে ২৩ হাজার কোটি টাকা। এ সময় ডিএসইর মূল্যসূচক কমেছে ৩১৭ পয়েন্ট। গতকাল একদিনেই কমেছে ৮৭ পয়েন্ট। সূচকের এ বড় পতনের প্রতিবাদে লেনদেন শেষ হওয়ার আগেই রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন বিনিয়োগকারীরা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮৭ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৩৬ পয়েন্টে নেমেছে। এর ফলে ভিত্তি পয়েন্টের নিচে নেমে গেল সূচক।

২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে ডিএসইএক্স ও ডিএস৩০ সূচক চালু হয়। ওই সময় ডিএসইএক্স সূচকের ভিত্তি পয়েন্ট ছিল ৪ হাজার ৫৫ পয়েন্ট। ডিএস৩০ ছিল ১ হাজার ৪৬০ পয়েন্ট। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই কমেছে ২৭৫ পয়েন্ট। ডিএসইতে লেনদেন করা কো¤পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৩২টির, কমেছে ২৯৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩০ কোম্পানির শেয়ার।

বাজার বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ আমাদের সময়কে বলেন, সরকারের তরফ থেকে নীতি সহায়তা প্রয়োজন। তা না হলে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে না। সরাসরি অর্থ মন্ত্রণালয়কে এ ক্ষেত্রে উদ্যোগ নিতে হবে।

কোনো কোনো শেয়ার ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে। মজিবুর রহমান নামের এক বিনিয়োগকারী জানান, শেয়ারে বিনিয়োগ করে বিশাল অঙ্কের অর্থ লোকসান হয়েছে। মৌলভিত্তির শেয়ারেই বিনিয়োগ করেছি। কিন্তু সেখানেও বিনিয়োগ করা অর্থ অর্ধেকে নেমে গেছে। রহিম মাঝি নামের আরেক বিনিয়োগকারী বলেন, শেয়ার কিনে বিরাট ভুল করেছি। বিক্রি করতে পারছি না। তিনি জানান, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, স্টাইলক্রাফট, ফার্স্ট ফাইন্যান্সের শেয়ার রয়েছে। শেয়ারবাজারের টানা পতনে তার শেয়ারেরও দাম কমছে। কিন্তু বিক্রেতা পাচ্ছেন না।

অন্যদিকে শেয়ারবাজারের ভয়াবহ দরপতনের প্রতিবাদে গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে ‘বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদে’র ব্যানারে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন বিনিয়োগকারীরা। বিক্ষোভ থেকে বরাবরের মতো বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ কমিশন পুনর্গঠনের দাবি জানানো হয়।

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান উর রশিদ চৌধুরী বলেন, বিএসইসির এ চেয়ারম্যানকে দায়িত্বে রেখে শেয়ারবাজার ভালো করা যাবে না। আমরা বিএসইসির চেয়ারম্যানের পদত্যাগ চাই। সেই সঙ্গে পুরো কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে। এ ছাড়া বুধবার দুপুর ২টায় ফের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, শেয়ারবাজারে যে বড় দরপতন হচ্ছে এর কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। বিনিয়োগকারীরা হুজুগে শেয়ার বিক্রি করছেন। অনেক ভালো কোম্পানির শেয়ারের দাম এখন অনেক নিচে নেমে গেছে।

পুঁজিবাজারের অস্থিরতার মধ্যে এ নিয়ে ‘জরুরি’ বৈঠক ডেকেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আগামী ২০ জানুয়ারি ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) কার্যালয়ে এ বৈঠক হবে। গতকাল মঙ্গলবার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের তরফ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পুঁজিবাজার উন্নয়নে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে অংশীজনের মতবিনিময় সভার প্রস্তাবনার যথাযথ বাস্তবায়নকাজ সমন্বয় ও তদারকির জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের গঠিত কমিটি এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে ২০ জানুয়ারি জরুরি সভা হবে।

কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত সচিব মাকসুরা নূরের সভাপতিত্বে দুপুর ২টায় ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদকক্ষে এ সভা হবে।

সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. মাসুদ বিশ্বাস, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে উপস্থিত থাকতে বলা হয়।

মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সংগঠন বিএমবিএর সভাপতি ও ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্রোকারেজ হাউস ইবিএল সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছায়েদুর রহমান বলেন, হতাশ হওয়ার কোনো কারণ দেখছি না। বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আছে। অর্থনীতিতে এমন কোনো সংকট তৈরি হয়নি যে এভাবে দরপতন হবে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে গতকাল আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের সঙ্গে কথা বলেছি। সরকার শেয়ারবাজার নিয়ে খুবই আন্তরিক। আজ-কালের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে দেখা করব। আশা করা হচ্ছে, শিগগরিই বাজার ঘুরে দাঁড়াবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে