একটি স্বপ্নবাজ তরুণ এলেন এবং তার স্বপ্নের বাস্তবায়ন

0
75


বৃহৎ জনসংখ্যার একটি দেশ বাংলাদেশ। যেখানে রয়েছে কিছু তরুণ, যারা এই জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করার জন্য দুর্বার গতিতে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিনিয়ত নিচ্ছেন বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ এবং কাজ করছেন বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সমাধানে ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে।

আমাদের সমাজে কিছু মানুষ আছেন, যারা নিজেদের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য সর্বদা তৎপর থাকেন। হাজার বাধা বিপত্তি ও তাদের থামিয়ে রাখতে পারে না। তেমনি একজনের কথা আমরা আজ জানব। যিনি তার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্য অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে বাস্তবায়ন করেছেন নিজের স্বপ্নকে।

পাবনা জেলার সাথিয়া উপজেলার সাথিয়া নামে একটি গ্রামে বেড়ে ওঠা মাহমুদুল হাসান এলেনের। বর্তমানে তিনি পড়াশুনা করছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইন্জিনিয়ারিং বিভাগে চতুর্থ বর্ষে। পড়াশুনার পাশাপাশি হয়ে উঠেছেন একজন সফল উদ্যোক্তা।

২০১৮ সালে যখন এলেন দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী, তখন তার ইচ্ছে হল নিজে কিছু করার। নিজের একটা ব্যবসা থাকবে তার। যেই ভাবা সেই কাজ। তিনজন বন্ধু এলেন, আবির, এবং জিয়াদ মিলে তৈরি করল আজ(AAZ)। শুরু হলো তাদের ব্যবসায়িক জীবনে নতুন পথ চলা। প্রথমে কাজ শুরু করেছিল চীন থেকে পণ্য এনে দেশে বিক্রি করত। অল্প কিছু পুঁজি নিয়ে তারা কিছু পণ্য নিয়ে আসে। তবে পণ্য সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে তারা পণ্যগুলো সেভাবে বিক্রি করতে পারেনি। তিন মাসেও কোন পণ্য বিক্রি না হওয়ায় বাকি দুইজন হাল ছেড়ে দিল। একসময় ব্যবসাও গুটাতে হল।

এরপরে কিছুদিন সময় নিয়ে এলেন তার স্বপ্নকে সত্যি করার জন্য নতুনভাবে সবকিছু সাজাতে লাগলেন।
এরপর সঠিক পরিকল্পনা এবং মার্কেটিং কৌশল অবলম্বন করে আবার ঘুরে দাঁড়ালো আজ(AAZ) নিয়ে। শুরুতে বেশ ভালো সাড়া পেয়েছিলেন এবার। পরিবার থেকেও পেয়েছিলেন অনুপ্রেরণা। তার ইচ্ছে দেশের পণ্য নিয়ে কিছু করার এবং নিজের ব্র্যান্ড তৈরি করার। তিনি বিশ্বাস করেন, “মানুষ এখনো ভালো পণ্য খোঁজে, যখন আপনি তাদের ভালো কিছু দিবেন তখন তারাই আপনাকে খুঁজে নেবে।”

তিনি নিজের পণ্য ডিজাইন করে, ফ্যাক্টরি থেকে বানিয়ে নেয় এবং পণ্য গুলো বিক্রি করে। যা প্রায় ইউনিক।
এখন এলেন প্রায় দশ হাজারেরও বেশি ক্রেতার বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তার লক্ষ্য ও স্বপ্ন দেশে অন্যতম মেন্স ফ্যাশন ব্র্যান্ড নাম হবে আজ(AAZ)। তিনি কম মূল্যে সেরা পণ্য পৌঁছে দিতে চান মানুষের কাছে।

এ অনলাইন ব্যবসা নিয়ে প্রায় আড়াই বছরের পথচলা এলেনের। প্রথমদিকে নিজেই সব কাজ করতো, এখন দুজন কর্মচারী রেখেছেন তিনি।

নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “একজন সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী হয়ে যদি তিনি উদ্যোক্তা হতে পারেন, তাহলে ইচ্ছে থাকলে এবং সঠিকভাবে শ্রম দিলে সবকিছু সম্ভব। নিজেকে দক্ষতার সাথে গড়ে তুলুন, ব্যবসা শুরু করুন, এতে সম্প্রসারণ হবে কাজের ক্ষেত্র। সঠিক পরিকল্পনা, সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে যে কেউ নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। তাই কাজ করুন কাজ শিখুন এবং সফলতার হাসিতে নিজেকে জড়িয়ে রাখুন।”

লক্ষ্য নির্ধারন, সঠিক সিদ্ধান্ত এবং পরিশ্রম করার সৎ সাহস থাকলে জীবনে যেকোন সাফল্য অর্জন করা যায়, তা এলেনের সাফল্য আবারো প্রমাণ করে।
খায়রুন্নাহার পিংকি
কন্টেন্ট রাইটিং ডিপার্টমেন্ট, ইন্টার্ন
ওয়াইএসএসই।

 



Source link