উদ্যোক্তা বিষয়ক সাক্ষাৎকার পর্ব-১

348

আজ হতে শুরু হতে যাচ্ছে বিভিন্ন উদ্যোক্তার উদ্যোক্তা হয়ে উঠার গল্প নিয়ে নিয়মিত সাক্ষাৎকার। আমাদের আজকের পর্বের অতিথি কক্সবাজারের তরুণ উদ্যোক্তা মিজানুর রহমান। আজ আমরা জানবো তার উদ্যোগ নিয়ে।
পাঠকদের সুবিধার্তে সরাসরি সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হল।
প্রশ্নঃ প্রথমে আপনি এবং আপনার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কিছু বলুন?
উত্তরঃ আসসালামু আলাইকুম আসা করি সবাই ভালো আছেন। আমার নাম মিজানুর রহমান আমি কক্সবাজারের ছেলে কক্সবাজার এ বেড়ে উঠা। পড়ালেখা ও কক্সবাজারই। বর্তমানে অনার্স ৩ বর্ষে ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়ছি। ২০২০ সালে যখন করোনার মহামারির কারনে পুরো পৃথিবীর অচল, আর ঘর বন্ধি তখন কিন্তু অনলাইন সাইট গুলো বন্ধ হইয়ে যাইনি। পুরো পৃথিবীর মানুষ তখন অনলাইনে দিকে আসক্ত হইয়ে গেছে। তখন একদিন আমরা দুই বন্ধু মিলে বসে চা খাচ্ছিলাম আর ভাবতে লাগলাম এই লগ ডাউনের সময় কি করা যাই? সবসময় তো অনলাইনে চিন্তা করলাম। এই অনলাইন কে কাজে লাগিয়ে কিছু করা যাই কিনা। কিছুক্ষণ চিন্তা করার পর আমরা দুইজনে সিন্ধান্ত নিলাম। যে অনলাইনে একটা পেইজ খুলে কাপড়ের বিজনেস শুরু করি। যেহেতু অনলাইনে করবো সেহেতু একটা পেইজ খুলতে হবে, আবার চিন্তায় পড়ে গেলাম পেইজ এর নাম কি দেওয়া যাই? চিন্তা করতে করতে মাথায় আসলো একটা নাম। আমাদের নামের প্রথম অক্ষর যেহেতু দুইজনের ই এক সেহেতু একটা নাম দেওয়া যাই তা হলো MM men’s clothing। এরপর এই নামে একটা পেইজ খুলি ২০২০ সালে ৯ জুলাই। বিজনেস শুরু করছি ১৪ জুলাই। সেই দিন হচ্ছে আমার জন্মদিন ওই দিনের আগের দিন একটা অনলাইন পেইজ থেকে কিছু টি-শার্ট অর্ডার করছিলাম আল্লাহর রহমতে পেইজ এ পোষ্ট করার সাথে সাথে অর্ডার আসা শুরু করলো। পরের দিন সবার পন্য হাতে হাতে পৌঁছে দিলাম নিজে গিয়ে সব কাস্টমারদের কাছে।

প্রশ্নঃ আমাদের দেশের বেশীরভাগ শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা শেষে চাকরি খুঁজতে ব্যস্ত থাকে সেক্ষেত্রে আপনি ভিন্ন হলেন কেন?
উওরঃ আমরা সবাই জানি বাংলাদেশে বর্তমান শিক্ষিত বেকারের হার অনেক বেশি। তাই নিজে নিজে চিন্তা করলাম পড়াশোনার পাশাপাশি নিজে কিছু করে অন্য দের কাজে লাগাতে পারি কিনা। সে জন্য আমি এই অনলাইন বিজনেসটা বেঁচে নিলাম চাকরি করবো না চাকরি দিবো এই শ্লোগান নিয়ে।

প্রশ্নঃ শুরুটা কেমন? মূলধন কি রকম এবং কতজন পেশাদার নিয়ে শুরু হয়েছিলো?
উওরঃ আসলে প্রথম দিকে সবার একটু কষ্ট হয় আমি ও ব্যাতিক্ষম নয়। শুরু করার জন্য কোন মূলধন ছিলো না আমাদের আমরা যেহেতু দুই বন্ধু মিলে শুরু করছিলাম দুই বন্ধু চিন্তা করলাম কি করা যাই তখন একটা আপু থেকে ৮০০০ টাকা নিয়ে বিজনেস শুরু করছিলাম। এখন আলহামদুলিল্লাহ ৪ লক্ষ টাকার বিজনেস এ পরিনত হইছি আলহামদুলিল্লাহ। শুরুতে আমরা দুইজন মিলে শুরু করছি নিজেরা ডেলিভারি করতাম নিজেরা সব কিছু পরিচালনা করতাম ৪ মাসে গিয়ে ২ জন দক্ষ ডেলিভারি ম্যান রাখলাম।💝
প্রশ্নঃ এই উদ্যোগটিই বা কেন নিলেন?
উত্তরঃ এই উদ্যােগটি নিলাম হচ্ছে করোনার সময় বাসায় বসে থাকতে থাকতে বুরিং হইয়ে যেতাম।
নিজেদের বিজি রাখতে মুলত এই উদ্যােগটি নেওয়া এখন সেটা পেশা হিসেবে পরিনত হইয়ে গেছে আলহামদুলিল্লাহ।
প্রশ্নঃ গ্রাহক সংগ্রহ হয়ে থাকে কেমন করে?
উওরঃ প্রথম প্রথম গ্রাহক সংগ্রহ হতো পরিচিত মানুষরাই নিতে। এরপর কিছুদিন পর একটা ভাই কক্সবাজারের একটা গ্রুপে ইনভাইট দেই। সেই গ্রুপ এর নাম হলো Cox’s Bazar Youth Entrepreneurs CLUB (CYEC)। গ্রুপে জয়েন্ট হওয়ার পর অনেক নতুন মুখ এর সাথে পরিচিত অনেক সেলার ভাই/বোন এই গ্রুপে ছিলো। তখন এইখান থেকে অনেক গ্রাহক সংগ্রহ হতো💝।
প্রশ্নঃ বর্তমানে কতজন পেশাদার/কর্মী রয়েছে আপনার প্রতিষ্ঠানে?
উত্তরঃ বর্তমানে আমি সহ ৩ জন পেশাদার কর্মি রয়েছে তারা বিজনেস এর দেখাশুনা করে আর কিছু পণ্য ডেলিভারি দিয়ে থাকে। কক্সবাজার শহরের গুলো Parcel Providing Service(PPS) নামে একটা পার্সেল কুরিয়ার কোম্পানি আছে তাদের মাধ্যমে করি। দুরের গুলা সুন্দরবন আর এস এ পরিবহন এর মাধ্যমে দিয়ে থাকি।
প্রশ্নঃ প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা কোন ব্যবস্থাপনা টিম/বিভাগ কি রয়েছে?
উওরঃ নাহ এখনো কোন টিম গঠন করি নি, কক্সবাজার শহরে আর মধ্যে আছি কিন্তু ভবিষ্যতে পরিকল্পনা আছে বাংলাদেশে প্রতিটা বিভাগে একটা করে উপশাখা খোলার পরিকল্পনা আছে আল্লাহ যদি সহায় হয়।
প্রশ্নঃ আপনার প্রতিষ্ঠানের অর্জন?
উত্তরঃ প্রতিষ্টানের অর্জন বলতে এই বিজনেস এ আসার পর থেকে অনেক মানুষের সাথে পরিচিত আর অনেক ট্রেনিং করছি। অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন হইছে আর বড় বড় উদ্যােক্তাদের থেকে অনেক কিছু শিখতে পারছি। যা ভবিষ্যতে কাজে লাগবে আমি মনে করি। এই বিজনেস করে আমি কিছুটা হলে ও সফলতার দিকে এগিয়ে যেতে পারছি আর অর্জন করতে পারছি।
প্রশ্নঃ আপনার প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নতুন কোন পদক্ষেপ বা উদ্যোগ কি ব্যাক্তিগত এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আছে?
উওরঃ আমার ভবিষ্যতে পরিকল্পনা হচ্ছে কক্সবাজার আমার একটা নিজস্ব ব্যান্ড দিয়ে একটা শো রুম দেওয়া এরপর আস্তে আস্তে সারা বাংলাদেশে বেকার ভাই/বোনদের কর্মসংস্থান তৈরি করা।
প্রশ্নঃ উদ্যোক্তা হতে কি কি প্রয়োজন?
উত্তরঃ উদ্যোক্তা হতে চাইলে প্রথমেই আপনাকে চ্যালেঞ্জ নিতে শিখতে হবে। সেইসাথে শিখতে হবে ত্যাগ স্বীকার করা, ও নিজের মনোবলকে সব সময়ে পজিটিভ রাখা।
এটা সবারই জানা, উদ্যোক্তা হওয়ার পথে বাধা আর চ্যালেঞ্জ আসবেই, বিশেষ করে যাঁরা একদমই প্রথমবারের মত কোনও উদ্যোগ নিচ্ছেন তাঁদের সামনে এমন কিছু বিষয় আসবে – যা তাঁরা ভাবতেও পারেননি
উদ্যোক্তা হতে চাইলে যে ৫টি চ্যালেঞ্জ আপনাকে জয় করতে হবে, যেমনঃ
০১। লাইফস্টাইলে পরিবর্তন
০২। অনিশ্চয়তার মুখে এগিয়ে যাওয়া
০৩। সঠিক টিম গড়া
০৪। মূলধন বা ক্যাপিটাল ব্যবস্থাপনা
০৫। নিরবিচ্ছিন্নতা

সাক্ষাৎকার গ্রহনঃ জয়নাল আবেদীন।
অতিথিঃ মিজানুর রহমান।