উদ্বেগ ছড়াচ্ছে ওমিক্রনের ‘গুপ্ত সংস্করণ’

23


আন্তর্জাতিক ডেস্ক

করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের সাব লিনেজ বিএ.২ নিয়ে উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানীরা। নতুন এই রূপটিকে বিজ্ঞানীরা ‘স্টেলথ ভার্সন’ বা গুপ্ত রূপ বলে আখ্যায়িত করেছেন। অর্থাৎ, এই রূপটি পিসিআর টেস্টের মাধ্যমে আলাদাভাবে শনাক্ত করা যায় না। কেননা, ওমিক্রনের সাধারণ জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের একটি এই রূপে নেই।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের জেনেটিক ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ফ্রানকোস বালোক্স দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের উপধারাগুলোর একটি বিএ.২। এ রূপটি আচরণগত দিক থেকেও ভিন্ন।

ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট তিনটি উপরূপে বিভক্ত হয়েছে। যেগুলো হলো—বিএ.১ বিএ.২ এবং বিএ.৩। দ্বিতীয় উপরূপ অর্থাৎ, বিএ.২ নিয়ে বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ রয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ওমিক্রনের মূল সংস্করণে (বিএ.১)  এস-জিন নামক জেনেটিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা বিএ.২ উপরূপে পাওয়া যায় না। এই এস-জিনের অনুপস্থিতির কারণে রূপটি পিসিআর পরীক্ষায় ধরা পড়ে না। এই উপরূপটি শুধুমাত্র জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

এদিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ওমিক্রনের বিএ.২ উপরূপটি ছড়িয়ে পড়ছে। ডিসেম্বরের ২২ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত কলকাতায় ওমিক্রনে আক্রান্ত ৮০ ভাগের জিনোম সিকুয়েন্সে বিএ.২ উপরূপটি ধরা পড়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, কলকাতার একটি ল্যাবরেটরিতে ৩৪টি করোনা পজিটিভ স্যাম্পলে ওমিক্রনের বিএ.২ উপরূপ ধরা পড়েছে। মাত্র একটি স্যাম্পলে ধরা পড়েছে বিএ.১। এছাড়া আরও আটটি স্যাম্পলে পাওয়া গেছে ডেল্টা ও ডেল্টা প্লাস সংস্করণের করোনাভাইরাস। অপর একটি ল্যাবে ১৭টি পজিটিভ স্যাম্পলের মধ্যে ১৪টিতে বিএ.২ উপরূপের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। বাকিগুলো ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। তৃতীয় আরেকটি ল্যাবের ৫০টি স্যাম্পলের মধ্যে ৩৫টি ওমিক্রনের বিএ.২ উপরূপ ধরা পড়েছে।

অন্যদিকে ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম কান এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ইসরাইলে ওমিক্রনের বিএ.২ উপরূপে আক্রান্ত ২০ জন শনাক্ত হয়েছেন। ওমিক্রনের বিএ.২ উপরূপটি চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি শনাক্ত হয়েছে।

সারাবাংলা/আইই





Source link