ই-কমার্সে রাফিয়া রিতুর অভাবনীয় সাফল্য!

115


মায়ের হাত ধরে গুটি পায়ে বেড়ে ওঠা বাড়ির বড় মেয়ে, আজ সেই মাকেই হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে মায়ের স্বপ্ন পূরণের দিকে! রাফিয়া সুলতানা রিতু, বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট, করোনাকালীন  সময়ে মাস্ক ব্যবসার মধ্যে দিয়ে নিজেকে গড়ে তুলেছেন সফল একজন উদ্যোক্তা হিসেবে! আসুন আজকে তার গল্পটি জেনে আসি!

YSSE: আমাদের পাঠকদের জন্য আপনার একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি যদি দিতেন

রাফিয়া: আমার নাম রাফিয়া সুলতানা, ডাকনাম রিতু! বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি তে ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং মাস্টার্স করছি সবচেয়ে পছন্দের কাজ ফটোগ্রাফি করা, আর এখন বেশিরভাগ সময় আমার ছোট্ট উদ্যোগের পেছনে দেয়া হচ্ছে 

YSSE: কিভাবে Casual apparels এর যাত্রা শুরু হলো?

রাফিয়া: প্রথমে ড্রেস রিসেলিং এর কথা ভেবেই একটা ফেসবুক পেইজ খুলে ফেলি ২০২০ এর নভেম্বরে, বন্ধুবান্ধব ছাড়া কারো সাড়া পাইনি সেটাতে অনলাইনে ড্রেস বিক্রি অনেক আগে থেকে চলে আসছে, অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড বা শপ আছে প্রচুর খরচ করে ব্র্যান্ডিং আর লাইভ করাটা সম্ভব হচ্ছিল না দেখেই হয়তো ড্রেসের ব্যাবসায় আগানো সম্ভব হচ্ছিলো না 

হঠাৎ মাথায় আসলো, করোনার মাঝে আব্বুকে তো আম্মু হরেক রকম মাস্ক বানিয়ে দিয়েছে, মাস্ক সেল করার চেষ্টা করে দেখি! সাথে বন্ধুদের অনুপ্রেরণা ছিল অনেক, তাদের দিয়েই শুরু, এরপর দিয়েই দিলাম ফেসবুক প্ল্যাটফর্মে মাস্কের ছবি ২০২১ সালের জানুয়ারির ১১ তারিখ, খুব স্মরণীয় দিন আমাদের জন্য, হুট করে দুটো অর্ডার চলে আসে আম্মুর বানানো মাস্কের,তাও অচেনা মানুষের কাছ থেকে এরপর আর বসে থাকতে হয়নি, পুরোদমে মাস্ক বিক্রি হচ্ছে আমাদের সব কিন্তু আম্মুই নিজ হাতে বানায়, আমি এবং আমাদের বাসার হেল্পিং হ্যান্ড টুকটাক কাজ করে দেই এবং বাকি সব কিছু আমিই করি

 

YSSE: কিভাবে এই উদ্যোগের আইডিয়া মাথায় আসলো

রাফিয়া: আমার আম্মু গৃহিণীর ট্যাগ লাগিয়ে বসে থাকলেও সবসময় কিছু না কিছু করে এসেছে ব্লকের কাজ, টেইলরিং, ফাস্ট ফুড বিজনেস, টিউশনি, স্কুলের টিচার ইত্যাদি! তবে মাঝে অনেকদিন গ্যাপ পড়ে গিয়েছিল, করোনার মাঝে যখন দীর্ঘ ৪ বছর পর লম্বা সময়ের জন্য বাসায় থাকার সুযোগ পেলাম, মনে হলো আম্মুর এইসব ট্যালেন্টের সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছেনা মনে হলো কিছু করার দরকার, এই ডিজিটাল যুগে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যাবহার করে আম্মুর জন্য কোনো সুযোগ করে দেয়া দরকার!

ই-কমার্সে রাফিয়ার অভাবনীয় সাফল্য

YSSE: Casual apparels কাজের প্রক্রিয়াটি কিরকম আপু?

রাফিয়া: আমাদের উদ্যোগটি দুটো প্ল্যাটফর্মে আছে, একটি ফেসবুক, আরেকটি ইন্সটাগ্রাম এড্রেস যথাক্রমে www.facebook.com/casual.apparels01 এবং instagram.com/casual.apparels 

রেগুলার এই দুটো প্ল্যাটফর্মে আপডেট দেয়ার সাথে সাথে কয়েকটি অনলাইন উদ্যোক্তাদের ফেসবুক গ্রুপেও পোস্ট দেয়া হয়, যেখান থেকে পরিচিতিও বাড়ে কাস্টমার রা বেশীরভাগ ফেসবুক পেইজেই মেসেজ দেয়, কোন প্রোডাক্ট লাগবে, ডিজাইন কী, সাইজ কোনটা সব জেনে নিয়ে অর্ডার কনফার্ম করি যেহেতু হোমমেইড হ্যান্ডমেইড প্রোডাক্ট আমাদের মাস্কগুলো, একটু সময় চেয়ে নেই কাস্টমার দের কাছে আর একদম যথাসময়ে ডেলিভারির ব্যাবস্থা করে ফেলি আজ পর্যন্ত প্রায় ১২০০+ মাস্ক ডেলিভারি দিয়েছি এবং প্রায় বেশিরভাগ ক্রেতাদের কাছ থেকে  পজিটিভ ফিডব্যাক পেয়েছি কোয়লিটি সম্পর্কে এরকম পজিটিভ ফিডব্যাক আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পেছনের মূল অনুপ্রেরণা 

 YSSE: আপনার এ উদ্যোগ নিয়ে  ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

রাফিয়াইচ্ছা আছে এই ছোট্ট উদ্যোগ কে আরো বড় করে প্রতিষ্ঠিত করবো অনেক বাধা বিপত্তির কথা চিন্তা করে একটু ধীরগতিতে আগাচ্ছি, আশা করি এগুলো কাটিয়ে উঠতে পারলে ভালো কিছু করতে পারবো 

YSSE: তরুণ প্রজন্ম/উদ্যোক্তাদের জন্য কি আপনার কোন দিকনির্দেশনা আছে

রাফিয়া: আমার মত যারা নতুন উদ্যোক্তা আছেন, বা কিছু শুরু করবেন ভাবছেন, তাদের উদ্যেশ্যে একটাই সাজেশন, যেটাই করুন না কেন, ধৈর্যের সাথে করবেন, আর চেষ্টা করবেন একটু ভিন্নধর্মী বা সম্পূর্ণ নিজেদের মত করে এবং নির্দিষ্ট পরিকল্পনার সাথে কিছু করার প্রথমে আশানুরূপ সাড়া না পেলে ঘাবড়ে যাওয়া চলবেনা, মাঝপথে ছেড়ে দেয়া চলবে না, কোথায় কমতি থেকে গিয়েছে সেটা খুঁজে বের করে নতুন উদ্যোমে কাজ করতে হবে অনুপ্রেরণা নিজে নিজেই খুঁজে নিতে হবে আর উদ্যোগের পরিচিত বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন এফকমার্স ফেসবুক গ্রুপগুলোতে একটু রেগুলার হতে হবে

নাদিয়া নওশের

ইন্টার্ন, কন্টেন্ট রাইটিং ডিপার্টমেন্ট

YSSE





Source link