ইরানে পানির জন্য আন্দোলন, ১ পুলিশ নিহত

56


আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানে পানির সংকটের প্রতিবাদে টানা ছয়দিন ধরে চলা আন্দোলন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। খুজেস্তান প্রদেশে আন্দোলনকারীদের ছোড়া গুলিতে একজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। খবর আলজাজিরা।

এদিকে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার (২০ জুলাই) রাতে দেশটির বান্দর মাহশাহর এলাকায় পায়ে গুলি লেগে অপর এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। ওই প্রতিবেদন এবং ভিডিও’র তথ্যমতে, তেল সমৃদ্ধ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশটিতে চলমান আন্দোলন বন্ধ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই।

দুইজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত শুক্রবার গায়েম খোজেইরি নামের ১৮ বছর বয়সী কিশোর এবং ৩০ বছর বয়সী মোস্তফা নাইমাভি নামের এক যুবক গুলিতে নিহত হয়েছে। তবে তারা আন্দোলনকারী ছিল না। তারা ‘সুবিধাবাদী ও দাঙ্গাকারীদের’ গুলিতে নিহত হয়।

দেশটিতে আরও বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করা হলে কর্তৃপক্ষ তা নিশ্চিত করতে পারেনি। এমনকি এই আন্দোলনে এখন পর্যন্ত কতজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাও জানানো হয়নি।

তেল সমৃদ্ধ খুজেস্তানের একটি অংশ পশ্চিমাদেশগুলোর সমর্থন নিয়ে যুদ্ধ করে সাময়িক সময়ের জন্য দখল করে নিয়েছিল ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন। গত কয়েক দশক ধরে পানির সমস্যায় ভুগছে অঞ্চলটি। এই অঞ্চলে বসবাসকারী অধিকাংশই আরব বংশোদ্ভূত সুন্নি মুসলমান। যারা দীর্ঘদিন ধরে শিয়া অধ্যুষিত দেশটিতে অবহেলিত হওয়ার অভিযোগ করে আসছে।

এমতাবস্তায় চলতি বছর ইরান জুড়ে তাপমাত্র বৃদ্ধি ও খরা দেখা দেয়। যার ফলে দেশটিতে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও পানির সংকট দেখা দেয়। তবে খুজেস্তান প্রদেশে এই সমস্যা আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

খুজেস্তান প্রদেশে এ সমস্যা আরও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে বলে স্বীকার করেছেন ইরানের সরকারি কর্মকর্তারা। তবে তাদের দাবি, আন্দোলনে সহিংসতার জন্য বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো দায়ী। আর বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলো এর থেকে ফায়দা নেওয়ার জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

দেশটির বিদায়ী প্রিসিডেন্ট হাসান রুহানির সরকার জানিয়েছে, তারা এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করেছে। এদিকে দেশটির সেনাবাহিনী ও ইসলামী বিপ্লব রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা তৃষ্ণার্ত অঞ্চলে পানির ট্যাঙ্কার মোতায়েনের কাজ করছে।

সারাবাংলা/এনএস





Source link