ইথিউপিয়ায় মসজিদ নিষিদ্ধ, রাজপথে মুসলিমরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইথিওপিয়ার আকসুম শহরে মসজিদ নির্মাণ নিষিদ্ধ করে রাখা হয়েছে। অথচ শহরটির ১০ ভাগ মানুষই মুসলিম। যুগ যুগ ধরে শহরটিতে মুসলমানরা নিজ নিজ ঘরে বা বাইরে খোলা জায়গায় নামাজ পড়ছে।
সম্প্রতি শহরটির মুসলিম সম্প্রদায় মসজিদ নির্মাণের এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে আন্দোলনে নেমেছে। ‘জাস্টিজ ফর আকসুম মুসলিম’-এর ব্যানারের মাধ্যমে তারা তাদের ন্যায্য দাবি তুলে ধরেছেন।

বিবিসি এক প্রতিবেদন মতে সেখানকার মুসলিমদের দাবি, মসজিদ নির্মাণ ও প্রার্থনার সুযোগ পাওয়া তাদের অধিকার। মুসলিমদের এ তৎপরতায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে সেখানকার অর্থোডক্স খ্রিস্টানরা।

!-- Composite Start -->
Loading...

প্রতিবেদনে বলা হয়, যদিও সেখানকার অনেকে বিশ্বাস করেন যে এ বিতর্ক অর্থহীন কারণ প্রাচীন এ শহরটি অনাদিকাল থেকেই ধর্মীয় সহনশীলতার জন্য সুপরিচিত। ধর্ম দুটির অনুসারীদের মতে, ইসলামের সূচনালগ্নে মক্কায় অমুসলিম শাসকদের অত্যাচারে পালিয়ে প্রথম মুসলিমরা এসেছিল এই শহরে।

তৎকালীন খ্রিস্টান রাজা তখন তাদের স্বাগত জানিয়েছিলেন। আর মূলত আরব উপত্যকার বাইরে এটাই ছিল মুসলিমদের প্রথম কোনও উপস্থিতি। এখন আকসুমের ৭৩ হাজার অধিবাসীর ১০ শতাংশই মুসলিম। আর ৮৫ ভাগ হলো অর্থোডক্স খ্রিস্টান। আর পাঁচ শতাংশ খ্রিস্টান ধর্মের অন্য ধারার অনুসারী।

এদিকে স্থানীয় খ্রিস্টানদের একটি দল শহরটিতে মসজিদ নিষিদ্ধের কারণ হিসেবে দেখাচ্ছে, শহরটি তাদের জন্য পবিত্র শহর মক্কার মতো। মক্কায় যেমন গির্জা নিষিদ্ধ, তেমনি আকসুমেও মসজিদ নিষিদ্ধ।

মক্কার সঙ্গে আকসুমকে তুলনা করা অযৌক্তিক দাবি করছেন স্থানীয় মুসলিমরা। তাদের দাবি, এটি সেখানকার খ্রিস্টানদের বানানো নিয়ম। ধর্মগ্রন্থ মতে এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।

শহরের মুসলিমদের একজন ৪০ বছর বয়সী আব্দু মোহাম্মেদ আলী। তিনি বলছেন, খ্রিস্টানদের একটি বাড়িই তারা কয়েক প্রজন্ম ধরে প্রার্থনার জন্য ব্যবহার করে আসছিলেন।

তিনি বলেন, আমাদের ১৩টি অস্থায়ী মসজিদ আছে। শুক্রবারে আমরা যদি মাইক ব্যবহার করি তাহলে তারা বলে যে আমরা সেইন্ট ম্যারিকে অসম্মান করছি।

চিকিৎসক আজিজ মোহাম্মেদ প্রায় ২০ বছর ধরে আকসুমে বাস করছেন। তিনি বলছেন, মসজিদ না থাকায় অনেক মুসলিম খোলা জায়গায় প্রার্থনা করতে বাধ্য হয়। তিনি বলেন, এখানে আমরা মুসলিম ও খ্রিস্টানরা একসঙ্গেই বাস করি। খ্রিস্টানরা বাধা দেয় না কিন্তু বহু বছর ধরেই আমরা রাস্তায় প্রার্থনা করছি। আমাদের একটি মসজিদ দরকার।

প্রায় ৫০ বছর আগে যখন ইথিওপিয়ায় সম্রাট হাইল সেলেসি ক্ষমতায় ছিলেন তখন আকসুমেও একই রকম মতপার্থক্য দেখা দেয়। রাজপরিবারের সদস্য, যিনি শহরের তখনকার নেতা ছিলেন তিনি একটি সমঝোতা করে দেন। যার ফলে মুসলমানরা ভুকিরো-মারে শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিল।

এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী আবিই আহমেদের বাবা একজন মুসলিম ছিলেন আর মা খ্রিস্টান। রিজিওনাল কাউন্সিল অব মুসলিম বলছে, তারা খ্রিস্টানদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। কাউন্সিল কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাহসে বলেন, আমরা আশা করি খ্রিস্টানরা মসজিদ নির্মাণে সহায়তাই করবেন।

মতামত দিন

Post Author: newsdesk

A thousand enemies is not enough; a single enemy is. There is nothing as a ‘harmless’ enemy.