আয়কর রিটার্ন নিষ্পত্তি ছাড়াই পুঁজিবাজারে আসছে ইউনিয়ন ব্যাংক – Corporate Sangbad

71


হেলাল সাজওয়াল; আয়কর এসেসমেন্ট অর্ডার না পেলেও আইপিও অনুমোদন নিয়ে পাবলিক আবেদন পর্ব শেষ করে এখন বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড।

পাবলিক ইস্যু রুলস ২০১৫ অনুসারে পর্যাপ্ত তথ্য সরবরাহ না করলে কোন কোম্পানিকে অনুমোদন দেয়া যায় না। পাবলিক ইস্যু রুলস ২০১৫ এর ২৫ এর (k)(xiii) ট্যাক্স, ভ্যাট এবং অন্যান্য প্রদেয় প্রদানের অবস্থার বিবৃতি সংযোজিত করতে হবে। নচেৎ অনুমোদন পাবে না।

অথচ ইউনিয়ন ব্যাংকের প্রকাশিত প্রসপেক্টাস পর্যালোচনা করে দেখা গেছে ২০১৬-২০১৭ এবং ২০১৭-২০১৮ এই দুই বছরের আয়কর রিটার্ন অমীমাংসিত। এছাড়া ২০১৮-২০১৯, ২০১৯-২০২০ ও ২০২০-২০২১ সালের আয়কর রিটার্ন এসেসমেন্ট এখনও হয়নি।

ইউনিয়ন ব্যাংক তাদের প্রকাশিত প্রসপেক্টাসের ১০৯নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছে তারা নির্ধারিত সময়ে আয়কর পরিশোধ করে আসছে। তারা আরও উল্লেখ করেছে ২০২১-২০২২ সালের আয়কর রিটার্ন তারা এখনও জমা দেয়নি। ধরে নেওয়া যাক কর সংস্থাগুলোর অর্থবছর ৩০জুন সমাপ্ত হয় আর আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যাংকের অর্থবছর ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়। এ কারনে দু একটি এসসমেন্ট অর্ডার অমীমাংসিত থাকতে পারে। এ ব্যাপারে ইউনিয়ন ব্যাংকের কোম্পানি সেক্রেটারি আলী হোসেন ভুইয়া কর্পোরেট সংবাদকে বলেন, আসলে অর্থ বছরের অমিলের কারনেই এমনটা হয়েছে আমরা ঠিক সময়ে আয়কর রিটার্ন জমা দিলেও আমরা সময় মত এসেসমেন্ট অর্ডার হাতে পাইনি। এসেসমেন্ট অর্ডার ছাড়া কিভাবে আইপিও অনুমোদন পেলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান আমাদের সিএফও বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন।

কর কমিশন সুত্রে জানা যায় উপ কর কমিশনার কর্তৃক মঞ্জুরকৃত বর্ধিত সময়ের মধ্যে দাখিলকৃত না হলে করদাতার রিটার্ন সার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতির আওতায় পড়বে না। বর্ণিত সকল শর্ত পূরণ করে সার্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতির আওতায় রিটার্ন দাখিল করা হলে আয়কর বিভাগ থেকে করদাতাকে যে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র প্রদান করা হয় তা-ই কর নির্ধারণী আদেশ (assessment order) বলে গণ্য হয়।

পরবর্তীতে উপ কর কমিশনার কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ত্রুটি-বিচ্যুতি চিহ্নিতকরণের লক্ষ্যে রিটার্নটি process করেন। রিটার্ন process এর ফলশ্রুতিতে যদি দেখা যায় করদাতা প্রদেয় অংকের চেয়ে কম বা বেশি আয়কর ও প্রযোজ্য অন্যান্য অংক পরিশোধ করেছেন, তাহলে উপকর কমিশনার করদাতাকে তা অবহিত করে এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করবেন।

প্রসপেক্টাস ইস্যু ডেট থেকে বিগত পাঁচ বছর আয়কর রিটার্ন বিচারাধীন রেখে ইউনিয়ন ব্যাংক কেমন করে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে সেটি এখন একটি প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। এসইসির যত প্রচেস্টা সব কি তবে ভেস্তে যাবে। এছাড়া ১৯৬৯ সালের সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন অর্ডিন্যান্স এর ২f এবং ধারা ১৮ এ মিথ্যা তথ্য প্রদান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর আগে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা পরিপালনের ক্ষেত্রে ব্যর্থতার কারনে ২০১৩ ও ২০১৪ সালে ১৮টি আইপিও বাতিল করা হয়েছে।

ভুল এবং বিভ্রান্তিমুলক তথ্য সরবরাহের অপরাধে অনেক ইস্যুয়ার, ইস্যু ব্যবস্থাপক এবং নিরীক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমুরক ব্যবস্থা গ্রহনের দৃষ্টান্তও রয়েছে।

ব্যাংকটিকে পুঁজিবাজারে আনতে ইস্যু ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেছে প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের জন্য ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেডের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) এর আবেদন গত ৩০ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। এর আগে কোম্পানিটি গত ২৬ ডিসেম্বর, আইপিও’র আবেদন গ্রহণ শুরু করেছিল।

তালিকাভুক্তির আগে কোনো প্রকার লভ্যাংশ ঘোষণা, অনুমোদন বা বিতরণ করা যাবে না এবং ২০২১ সালের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে (বাংলাদেশ ব্যাংক এর ডিওএস সার্কুলার নং ০১ তারিখ ১০/০২/২০২০ অনুযায়ী)। এ দুটি শর্তে ৭৯০তম কমিশন সভায় ইউনিয়ন ব্যাংকের আইপিও অনুমোদন দেয় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

ইউনিয়ন ব্যাংককে প্রাথমিক গণপ্রস্তাাবের (আইপিও) মাধ্যমে জনসাধারণের মাঝে শেয়ার বিক্রী করে ৪২৮ কোটি টাকা তোলার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এজন্য ব্যাংকটি পুঁজিবাজারে মোট ৪২ কোটি ৮০ লাখ শেয়ার ছাড়বে। প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য বা ফেসভ্যালু হবে ১০ টাকা।

২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া নেট অ্যাসেটভ্যালু ১৬ টাকা ৩৮ পয়সা। শেয়ারপ্রতি আয় ১ টাকা ৭৭ পয়সা। বিগত ৫ বছরের গড় হারে শেয়ারপ্রতি আয় ১ টাকা ৮২ পয়সা।





Source link