আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ : ভাষা সংগ্রামীদের স্বপ্নের সার্বজনিন শিক্ষা অনুপস্থিত

0
303

শিক্ষা জনগনের সাংবিধানিক অধিকার হলেও এখন পর্যন্ত সেই অধিকার যেমন প্রতিষ্ঠিত হয় নাই, ঠিক তেমনই ভাষা সংগ্রামীদের স্বপ্নের সার্বজনিন শিক্ষা ব্যবস্থা এখন অনুপস্থিত বলে মন্তব্য করেছেন আলোচকবৃন্দ।

তারা বলেন, যুগের পরিবর্তনে আজ মানুষ সৃষ্টি করেছে কল্যান রাষ্ট্রের যেখানে শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। আর জনগনকে এ অধিকার এখনও পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। যার কারনে আজও এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এক দোদুল্যমাণতায় ভুগছে।

শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) ৮৫ নয়াপল্টনের মিলনায়তনে মহান ভাষা শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদ ও ভাষা সংগ্রামীদের শ্রদ্ধা জানাতে বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় উপস্থিত আলোচকবৃন্দ এসব কথা বলেন।

জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ সভাপতি এম এ জলিলের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহন করেন বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, ন্যাপ ভাসানী সভাপতি এম এ ভাসানী, এনডিপি মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, আওয়ামী ওলামা লীগ সদস্য সচিব মুফতী মাসুম বিল্লাহ নাফিয়ী, মুক্তিযোদ্ধা পল্লী সোসাইটির সভাপতি শেখ মো. আলমগীর, জাতীয় ফ্রন্ট সভাপতি দীপু মীর, বাংলাদেশ জাসদ নেতা হুমায়ূন কবির, মো. শাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশ ন্যাপ ঢাকা মহানগর সভাপতি মো. শহীদুননবী ডাবলু, সনক মজুমদার, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সমির রঞ্জন দাস প্রমুখ।

বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সার্বজনিন বিজ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তনের কোন বিকল্প নাই।

তিনি বলেন, দেশের একাধিক ধারায় বিভক্ত শিক্ষা বৈষম্যের সমাজ গড়ে তুলছে। কেরানী তৈরীর এ শিক্ষা ব্যবস্থা ভাষা সংগ্রামীদের চেতনার পরিপন্থী। সব সরকারই মুক্তবাজার অর্থনীতির দর্শনকে ধারণ করে ধনিক শ্রেণির স্বার্থরক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে নীতি প্রণয়ন করে, যার মধ্যে শিক্ষানীতি অন্যতম। সংবিধানের ১৭নং অনুচ্ছেদে গণমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক ও সার্বজনীন ধারার শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও প্রতিটি সরকারের আমলেই তা হয়েছে উপেক্ষিত।

তিনি আরো বলেন, বাংলা ভাষার মাধ্যমেই আমরা ভাব ও বাক প্রকাশ করি। আমাদের চিন্তা, বিবেক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। আমাদের এই মৌলিক অধিকার যে বীর সন্তানদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই সকল ভাষা সংগ্রামীদের রাষ্ট্রীয় সম্মান, সম্মানী ও সম্মাননা দেয়া রাষ্ট্রের ও সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

সভাপতির বক্তব্যে এম. এ জলিল বলেন, ভাষা শহীদ আর ভাষা সংগ্রামীদের স্বপ্ন ছিল একটি শোষণমুক্ত রাষ্ট্র ব্যবস্থা। আর একটি শোষণমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করার জন্য যেটি সবচেয়ে বেশি কার্যকর করা প্রয়োজন সেটি হলো শিক্ষা ব্যবস্থা। শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষা ছাড়া জাতির উন্নতি অসম্ভব। আর সেই শিক্ষা হতে হবে সার্বজনিন ও বৈষম্যহীন।

তিনি বলেন, মহান ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতার মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন রাষ্ট্রের অঙ্গীকার ছিল গণমুখী, সার্বজনীন, বিজ্ঞানভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নের। দু:খজনক হলেও সত্য আজ দেশে ‘টাকা যার শিক্ষা তার’ এই নীতির বাস্তবায়ন হয়েছে। এর থেকে মুক্তি পেতে হলে সার্বজনিন ও বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই ভাষা শহীদ ও ভাষা সংগ্রামীদের স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে