আরও বড় পরিসরে বিক্ষোভের প্রস্তুতি মিয়ানমারে

0
68

নেপিডো, ১৯ ফেব্রুয়ারি – অং সান সু চির মুক্তি ও নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে আরও বড় পরিসরে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে মিয়ানমারের আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে দেশটির সামরিক বাহিনীর ওপর যুক্তরাজ্য ও কানাডার দেওয়া নিষেধাজ্ঞাকেও সমর্থন জানিয়েছে তারা।

শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম। সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে প্রতিদিনই রাজপথে নামছে আন্দোলনকারীরা। শুক্রবার এই আন্দোলনের পরিসর আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। প্রস্তুতি চলছে সকাল থেকেই। এরই মধ্যে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছে তারা। দলে দলে যোগ দিচ্ছে মানুষ।

তবে কঠোর অবস্থানে আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও। আন্দোলনের অন্যতম প্রধান স্থান সুলে প্যাগোডাতে ব্যারিকেড দিয়ে অবস্থান নিয়েছে তারা। মিয়ানমারের অ্যাসিসটেন্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনরাস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মিয়ানমারে ৫২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ৪৪ জনকে। এর আগে বৃহস্পতিবার অং সান সু চির সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বেশ কজন জেনারেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাজ্য ও কানাডা।

আরও পড়ুন : অচলাবস্থা নিরসনের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে পরমাণু সমঝোতায় আমেরিকার ফিরে আসা

কানাডার নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ৯ জন জেনারেলের নাম রয়েছে। ব্রিটেনের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় মিয়ানমারের সামরিক সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল মিয়া তুন ও, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল সো তুত এবং উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল থান হ্লাইং রয়েছেন। মিয়ানমারে গত ৮ নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যেখানে ৩২২টি আসনই যথেষ্ট, সেখানে এনএলডি পেয়েছিল ৩৪৬টি আসন। এনএলডি নিরঙ্কশ জয় পেলেও সেনাবাহিনী সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ভোটে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল। তারা নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি তোলে। যদিও ইউএসডিপি ৭১টি আসনে জয় পেয়েছে।

গত পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে ওইদিন ভোরে স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি ও দেশটির প্রেসিডেন্টসহ এনএলডির শীর্ষ বেশ কিছু নেতাকে গ্রেপ্তারের পর এক বছরের জন্য মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা জারি করে সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণের পর গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর ও গ্রেপ্তার নেতাদের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে নামে সাধারণ মানুষ। কিছু এলাকায় বলপ্রয়োগ করেছে কর্তৃপক্ষ। গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন দুইজন। এরই মধ্যে সু চির রিমান্ডের মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন অভিযোগ এনে আটকে রাখা হয়েছে তাকে। মঙ্গলবার সামরিক জান্তার পক্ষ থেকে নতুন নির্বাচনের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে।

সূত্র : সমকাল
এন এইচ, ১৯ ফেব্রুয়ারি

Source link