‘আমরা তো কাউকে ছোট করব না, যার যেটা প্রাপ্য সেটাই করেছি’-জাফরুল্লাহ

0
547

‘আমরা তো কাউকে ছোট করব না, যার যেটা প্রাপ্য সেটাই করেছি। শুধু ঔষধ প্রশাসন না তো, যারাই ভালো কাজ করেছে তাদের লিখিতভাবে প্রশংসা করেছি। আসলে উনি প্রমাণ করেছেন, আমার কোনো বৈরিতা নাই, আসলে বৈরিতা হলো উনার (ঔষধ প্রশাসন ডিজি) অজ্ঞতা৷ উনি এখন যেসব কথা-বার্তা বলতেছেন, সেটা অন্যের মুখের ঝাল।’

আজ সোমবার দুপুরে সচিবালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমানের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মুঠোফোনে এসব কথা বলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্ট্রি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমি উনাকে এসএমএসও করেছি। আমি জানি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমতি নাই। এই কথা উনি বলবেন এবং ঠিক তাই করেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এটার অনুমোদন দেওয়ার অধিকার রাখে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটা নিয়ে পরীক্ষা করতে পারে, যাচাই করতে পারে। কিন্তু অনুমোদন দেওয়ার মালিকানা তাদের (ডব্লিউএইচও) নেই।’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘আসলে উনারা (ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর) যে কথা বলেছে, পৃথিবীর কোথাও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এটা ব্যবহারের অনুমোদন দেয় নাই। অনুমোদন করার অধিকারাই তো ডব্লিউএইচওর নাই, দেবে কী করে। এটা অনুমোদন করার দায়িত্ব হলো একমাত্র ওই দেশের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের। আসলে উনারা অজ্ঞতাবশত ভুল তথ্য দিয়েছে।’

‘দ্বিতীয়ত তারা বলেছে, পৃথিবীর কোনো দেশেই ব্যবহার হয় না। এটা ভারতে আগে থেকেই ব্যবহার হতো। গতকালও এটা আবার তারা ব্যবহারের কথা বলেছে। এ ছাড়া এটা এক মাসের বেশি সময় ধরে ইরানে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিদিন ১০ লাখ ইরানে উৎপাদন হয়, তারা নিজেরাই করে নিজেরাই ব্যবহার করে। আরও অন্য দেশেও এটা বিভিন্নভাবে ব্যবহার হয়’, বলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

এই চিকিৎসক বলেন, ‘নিউইয়র্ক টাইমস দেখলে বোঝা যায়, তারা এটা অল্টারনেটিভভাবে ব্যবহারের জন্য পরীক্ষা করছে।’

কিট নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্ট্রি বলেন, ‘নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এসব কিছু নজর রাখা হচ্ছে, দেখা হচ্ছে। তারাই দেখাশোনা করবেন। আমরা শুধু একটা ছোট চিঠি কামনা করি ঔষধ প্রশাসন থেকে। সেটা হলো, তারা নির্দেশ দেবে “বিএসএমএমইউ”কে অথবা “আইসিডিডিবিআরবি”কে অথবা “শিশু হাসপাতাল”কে বা “আইইডিসিআর”কে, যেটা তুলনামূলক কার্য়কারীতা পরীক্ষা করুন। আর আমাকে ডিরেক্ট করে বলবে, তুমি স্যাম্পল জমা দাও।’

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘কেন তারা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান সিলেক্ট করে দেবে, কেন বিএসএমএমইউ না। আসলে সিআরও মানে কি দালাল তালিকা। আসলে আমরা হোল (পুরো) সিস্টেমটাতেই আপত্তি করছি। এটা আসলে ঘুষ দেওয়ার একটা পদ্ধতি, ভাগ বাটোয়ারার একটা পদ্ধতি।’

‘বাংলাদেশের এত বড় একটা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর, তাকে দেওয়া হোক। এটা থার্ড পাটির কাছে কেন দিতে হবে। এটার খরচটা কে দেবে? উনি বলেছেন, আপনারা বানিয়েছেন, আপনারা দেবেন’, যোগ করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্ট্রি।

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই দেবো, এতে তো খরচটা অযথা বাড়বে। সময় বাড়বে। এতে কার ক্ষতি, দেশবাসীর ক্ষতি৷ আমি সবসময় সাধারণ মানুষের কথা ভাবছি। আর উনি কিছু ব্যক্তির স্বার্থ দেখছেন।’

ড. বিজন শীলের বক্তব্য সম্পর্কে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আসলে বিজন যেটা বলেছে তার সাথে ভালো ব্যবহার করেছে। কিন্তু কাজটা ভালো করে নাই। আমরা তো একবারও বলি নাই মাহবুবু সাহেব (ঔষধ প্রশাসনের ডিজি) আমার কাছে ঘুষ চাইছেন। আমার কাছে ঘুষ সরাসরি তো চায় নাই। চাওয়ার মতো বুদ্ধিও উনার নাই। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঘুষের কথা কি আমাকেই বলতে হবে, এটা সবাই জানে তোমরাও (সাংবাদিকরা) তো লিখতেছ। আমাদের চাওয়া তারা একটা চিঠি দিক। চিঠি দিয়ে শিশু হাসপাতাল, আইইডিসিআরকে বলুক, এটা (কিট) পরীক্ষা করার জন্যে।’

চিঠির বিষয়ে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘উনি (ঔষধ প্রশাসনের ডিজি) কি চিঠি দেখিয়েছেন৷ এসব চিঠি তো আমি পাঠিয়েছি। আমার কাছেও কপি আছে। যারা যখন ভালো কাজ করেছে আমরা সবাইকে প্রশংসা করে এমন চিঠি দিয়েছি। যেমন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশংসা করেছি, চীনে থাকা আমাদের রাষ্ট্রদূতের প্রশংসা করেছি। ইউএস বাংলা, যারা কাঁচামালের সাহায্য করেছে, তাদের প্রশংসা করেছি, এনবিআরের প্রশংসা করেছি।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে