আবারো নাটকীয় বোর্ড মিটিং হতে যাচ্ছে মেঘনার দুই কোম্পানির – Corporate Sangbad

67


নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এ তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুসাঙ্গিক খাতের অন্তর্ভুক্ত মেঘনা গ্রুপের দুই কোম্পানি মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড এবং মেঘনা পেট ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড। সব কিছু ধোঁয়াসা রেখেই আগামি ৩০ জানুয়ারি কোম্পানি দুটির বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কারখানা ও উৎপাদন বন্ধ, সাথে এক গুচ্ছ অনিয়ম নিয়েই পুঁজিবাজারে লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছে কোম্পানি দুটি।

ডিএসইতে কোম্পানিগুলোর ওয়েবসাইট লিংক দেওয়া থাকলেও, প্রকাশিত হয়নি কোন অর্থ বছরের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন, পিএসই এবং কোন নোটিশ। এমন কি কোম্পানির বোর্ড অব ডিরেক্টরের বিস্তারিত কোন তথ্যও দেওয়া হয়নি কোম্পানির ওয়েবসাইটে।

২০১৮ সালের ২০ জুন জারি করা ডিসক্লোজার সংক্রান্ত বিএসইসির নির্দেশনার ক্লজ নম্বর ৯ (২) অনুযায়ী ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (লিস্টিং) রেগুলেশন ২০১৫ এর রেগুলেশন ২১ অনুযায়ী পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ওয়েবসাইটে বিস্তারিত আর্থিক বিবরণী ও বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে।

এবং ২০১৮ সালের জারিকৃত কর্পোরেট গভর্নেন্স কোডের ৮ এর (১) নং ক্লজ এ বলা আছে স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটের সাথে কোম্পানির লিঙ্কযুক্ত একটি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থাকতে হবে। কোম্পানি তালিকাভুক্তির তারিখ থেকে ওয়েবসাইটটিকে কার্যকরী রাখতে হবে। যা এড়িয়ে গেছে মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড এবং মেঘনা পেট ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড।

২০১৮ সালের ২০ জুন বিএসইসি কর্তৃক ডিসক্লোজার সংক্রান্ত নোটিফিকেশনের ৯ এর ১ নং অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে যে, পুঁজিবাজারে বিএসইসির তালিকাভুক্ত সকল কোম্পানিকে এজিএম এর নূন্যতম ১৪ দিন পূর্বে বাধ্যতামুলক তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনের সফ্ট কপি কোম্পানির শেয়ার হোল্ডারদের কাছে ই-মেইল এ পৌছাতে হবে।

এবং ৯ এর ২ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে প্রতিটি কোম্পানিকে এজিএম এর ১৪ দিন আগে বার্ষিক প্রতিবেদন কোম্পানির ওয়েবসাইটে প্রকাশের পাশাপাশি সেই তথ্য নিবন্ধিত দৈনিক বাংলা পত্রিকা, ইংরেজি পত্রিকা এবং দৈনিক অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশ করে সাধারন বিনিয়োগকারিদের জানাতে হবে। যার কোনটাই করেনি মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড এবং মেঘনা পেট ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড।

এছাড়া কোম্পানিটির নেই কোন কোম্পানি সেক্রেটারি, সিএফও এবং নেই কোন স্বতন্ত্র পরিচালক। এ বিষয়ে জানতে, ডিএসই এবং কোম্পানির ওয়েবসাইটে দেওয়া ফোন নাম্বারে ফোন করলে সব গুলো নাস্বার বন্ধ পাওয়া যায় কোম্পানি দুটির। যার কারনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি কোম্পানির কোন প্রতিনিধির সাথে। কোন প্রকার নির্দেশনা না মেনেই বাজারে দিব্যি লেনদেন চলমান রেখেছে মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড এবং মেঘনা পেট ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড ।

দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ও মেঘনা পেট কোনো প্রকার ডিভিডেন্ড না দেওয়াসহ এক প্রকার অস্তিত্বহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তাই বিনিয়োগকারী তথা পুঁজিবাজারের স্বার্থে গত ২৬ ডিসেম্বর ২০২১, কোম্পানি দুটিতে পরিদর্শনে যায় ডিএসইর প্রতিনিধি দল। দলটি সরেজমিনে গিয়ে কোম্পানিদুটির ফ্যাক্টরি বন্ধ পায়। প্রতিনিধি দলটি এই বিষয়ে ডিএসই কর্তৃপক্ষের কাছে ইতিমধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে কোম্পানির সকল প্রকার নোটিশ এবং কারখানায় উৎপাদন বন্ধ কিংবা চালুর বিষয় অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ মূল্য সংবেদনশীল তথ্য। সিকিউরিটিজ আইন অনুসারে এ ধরনের তথ্য স্টক এক্সচেঞ্জ ও শেয়ার হোল্ডারদের জানানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কোম্পানি গুলোর কারখানা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও সেই তথ্য ডিএসই কিংবা সাধারন বিনিয়োগকারিদের জানায়নি কোম্পানি দুটো।

এ বিষয়ে ডিএসইর প্রধান অপারেশন কর্মকর্তা সাইফুর রহমান কর্পোরেট সংবাদকে জানান, “কোম্পানি দুটিকে আমরা ইতিমধ্যে নোটিশ করেছি। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত এখনো চলমান আছে। এবং কমিশন কোম্পানি দুটির বিরুদ্ধে শিঘ্রই ব্যবস্থা নিবে”।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক মোঃ মিজানুর রহমান এফসিএস কর্পোরেট সংবাদকে বলেন, দিনের পর দিন এই দুই কোম্পানি বিনিয়োগকারি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে টুপি পড়িয়ে আসছে। এতো এতো অনিয়মের মধ্যেও  তারা বাজারে লেনদেন চালাচ্ছে অথচ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো নিরব দর্শকের ন্যায় ভূমিকা পালন করছে” ।

তিনি আরো বলেন,  এতসব অনিয়ম নিয়েও কালো চশমা পড়ে আবারো বোর্ড সভা করবে  এই দুই কোম্পানির ম্যানেজমেন্ট। নিয়ন্ত্রক সংস্থা আবারো নিরব হয়ে থাকবে । তাদের এসব ঠিলে ঠালা মনিটরিং এর কারনেই এসব প্রতিষ্ঠান এতো অনিয়মের মাঝেও পার পেয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। আর পুঁজি হারাচ্ছেন বিনিয়োগকারিরা”।

পুঁজিবাজারকে স্বাভাবিক  অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে কঠোর মনিটরিং করে এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে তৎক্ষনাৎ ব্যবস্থা গ্রহনের পরামর্শ দিয়েছেন এই বাজার বিশেষজ্ঞ।

সবকিছু ধোয়াসা রেখেই পুঁজিবাজারে লেনদেন চলমান রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ অবস্থা চলতে থাকলে একটা সময় পুঁজি হারাতে পারেন মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজ বিনিয়োগকারীরা এমনটাই ধারনা করছেন বিশ্লেষকরা ।





Source link