আফগানিস্তানে ভূমিকম্প: আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান তালেবানের

16


আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির তালেবান সরকার। গতকাল বুধবার (২২ জুন) ভোরে ৬ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পের ফলে ১ হাজারের অধিক মানুষ নিহত হয়েছে। ভারী বর্ষণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। খবর বিবিসি।

এ ঘটনায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া আরও অসংখ্যা মানুষ ধসে পড়া মাটির বাড়ির নিচে চাপা পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দেশটির দক্ষিণ-পূর্বের পাকতিকা প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ইতোমধ্যে নিরাপদ আশ্রয় ও খাদ্য সরবরাহ করতে কাজ শুরু করেছে জাতিসংঘ।

জীবিত ও উদ্ধারকারীরা বিবিসিকে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছের গ্রামগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে, রাস্তা ও মোবাইলের টাওয়ার বিধ্বস্ত হয়েছে। আর নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন তারা।

আরও পড়ুন: আফগানিস্তানে ভূমিকম্প: মৃত্যু বেড়ে হাজারে

তালেবানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আব্দুল কাহার বালখি বলেন, একটি মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান। সরকার ‘আর্থিকভাবে জনগণকে প্রয়োজনীয় পরিমাণে সহায়তা করতে অক্ষম।’

তিনি বলেন, দাতব্য সংস্থা, প্রতিবেশী দেশ এবং বিশ্ব শক্তিগুলো সাহায্য করছে। তবে এই ‘সহায়তার পরিমাণ অধিক হারে বাড়ানো দরকার। কারণ, গত কয়ক দশকে এমন বিধ্বংসী ভূমিকম্প দেখা যায়নি।’

জাতিসংঘের প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, সংস্থাটি দুর্যোগ মোকাবেলায় ‘পুরোপুরি সক্রিয়’ হয়েছে। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের দল, চিকিৎসা সরঞ্জাম, খাদ্য এবং জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রর প্রয়োজনীয় জিনিসি ভূমিকম্প অঞ্চলের পথে রয়েছে।

এর আগে, বুধবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় ভোরে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলের কিছু অংশ এবং পাকিস্তানেরও কিছু অংশে ভূমিকম্প আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ৬ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত খোস্ত শহর থেকে প্রায় ৪৪ কিলোমিটার দূরে এবং ভূমি থেকে ৫১ কিলোমিটার গভীরে।

ভূমিকম্পের কিছু সময় পরই আড়াইশ প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। এরপর থেকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকা থেকে খবর আসতে শুরু করলে নিহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে।

আফগানিস্তানের বুধবারের এই ভূমিকম্প ২০০২ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত সময়ের ভয়াবহতম ভূমিকম্প। উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতের প্রায় ১২ কোটি মানুষ এর কম্পনে প্রকম্পিতি হয়েছেন। পাকিস্তানের পেশওয়ার, ইসলামাবাদ, লাহোর, মোহমান্দ, কোহাট, সোয়াট, বুনার এবং পাঞ্জাব ও খায়বার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের অনেক এলাকায় তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে এই ভূমিকম্প।

সারাবাংলা/এনএস





Source link