আফগানিস্তানে তালেবানবিরোধী বিক্ষোভ, গুলিবর্ষণে প্রাণহানি

49


আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আফগানিস্তানের উগ্রবাদী গোষ্ঠী তালেবানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে বহু মানুষ। আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠার মধ্যেও রাজধানী কাবুলসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ শহরে তালেবানবিরোধী বিক্ষোভ সংঘটিত হয়েছে। তবে এসব বিক্ষোভ রক্তপাতহীন শেষ হয়নি।

বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) পূর্ব আফগানিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী আসাদাবাদে তালেবানবিরোধী এক বিক্ষোভে গুলি চালায় উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সদস্যরা। এতে কয়েক জন নিহত হয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

এছাড়া জালালাবাদ শহরে তালেবানবিরোধী বিক্ষোভে গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন বলে খবর প্রকাশ করেছে আল জাজিরা।

অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, একইদিন রাজধানী কাবুলে তালেবানবিরোধী বিক্ষোভের পাশে গুলিবর্ষণ হয়েছে। তবে রাজধানীতে বিক্ষোভরতদের লক্ষ্য করে গুলি না ছুড়ে বাতাসে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই প্রত্যক্ষদর্শী।

উল্লেখ্য যে, ১৯ আগস্ট আফগানিস্তানের স্বাধীনতা দিবস। ১৯১৯ সালের এই দিনে ব্রিটিশদের কাছ থেকে স্বাধীন হয় আফগানিস্তান। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কাবুলের রাস্তায় একদল নারী-পুরুষ আফগান জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে মিছিল করেন। এসময় তারা স্লোগান দেন, ‘আমাদের পতাকা, আমাদের পরিচয়’।

কাবুলের স্থানীয় বাসিন্দা রাশিদউদ্দিন আরব নিউজকে বলেন, ‘আমরা দেখেছি, যখন বেশ কিছু গাড়ি ও মোটরবাইকে থাকা লোকরা জাতীয় পতাকা বহন করে মিছিল করছিল, তখন তালেবানরা বাতাসে গুলি ছুড়ছে। এতে মানুষ ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়, কেউ পতাকা ফেলে, কেউ হাতে নিয়ে পালিয়ে যায়’।

গত রোববার (১৫ আগস্ট) কাবুল দখলের মাধ্যমে গোটা আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ হাতে তুলে নেয় তালেবান। এদিন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। কাবুল দখলের পর নিজেদের ব্যাপারে ইতিবাচক বার্তা দিতে চাইছে তালেবানরা। তবে তাদের আচরণে ইতিবাচকতার কোনো ছাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। আফগানিস্তানে তালেবান আতঙ্কে হাজারো মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এছাড়া নারীদের প্রতিও তারা আগের মতোই খড়গহস্ত।

এদিকে আফগানিস্তানে ন্যাটো বাহিনী বা পূর্ববর্তী আফগান সরকারের পক্ষে যারা কাজ করেছেন, তাদের খুঁজতে তালেবান ঘরে-ঘরে অভিযান চালাচ্ছে বলে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালেবান জঙ্গিরা আগে থেকেই টার্গেট করা মানুষজনকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খুঁজছে এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে আসছে।

সারাবাংলা/আইই





Source link