আত্মপ্রত্যয়ী বন্ধনের স্বপ্ন পূরণের সাফল্যগাথা!!!

0
85


গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে শুধু দৃঢ় সংকল্প আত্মবিশ্বাসের জোরেই নিজের পরিচয়ে পরিচিত হয়ে ওঠেন ‘Ghorowa-ঘরোয়াএর স্বত্বাধিকারী শারমিন বন্ধন 

উদ্যোক্তা জীবনের এই চলার পথটা বন্ধনের জন্য মসৃণ ছিল না সকল বাধা  অতিক্রম করে তার সাফল্য অর্জনের গল্পটি জানতে আজকের এই আয়োজন চলুন জেনে নেয়া যাক তার উদ্যোক্তা জীবনের পথচলা 

বর্তমান সময়ে যখন শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা সরকারি চাকুরির পেছনে ছুটছে তখন এই সোনার হরিণ  নামক চাকুরির চেষ্টা না করে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা সত্যি একটা কঠিন কাজ

সবাই ধরেই নেন যে, একজন গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করা ছেলে বা মেয়ে চাকুরিই করবেন, আর এই মানসিকতায় একজন উদ্যোক্তা হতে চাওয়া মানুষটার জন্য অনেক বড় বাধা। আর সেই বাধা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পাঠ চুকিয়ে উদ্যোক্তা পেশাটি বেছে নিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করা শারমিন বন্ধন।

তিনি জানান, ব্যবসার শুরুর দিকে চারপাশের মানুষ অনেক ছোট করে কথা বলতেন , প্রথম দিকে বাবা মার সাপোর্ট পাননি আর মানুষের এই নেতিবাচক কথাগুলো শুনতে শুনতে আমাদের মন ভেঙে যায়, আত্মবিশ্বাস টাও নষ্ট করে দেয় কিন্তু তিনি কখনো কারো নেতিবাচক কথায় প্রভাবিত হননি , নিজের লক্ষ্যে অটুট থেকেছেন আর তাই উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের পরিচয় টা তৈরি করতে পেরেছেন

মাত্র দশ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করা অনলাইন বিজনেস প্লাটফর্ম ‘ঘরোয়া’ থেকে খরচ বাদে মাসে আনুমানিক আয় থাকে ২০ হাজার টাকা। ব্যবসার শুরু থেকেই তাড়াহুড়ো না করে এগিয়েছেন ধাপে ধাপে। চারশো-র বেশি অর্ডার ডেলিভারি দিয়েছেন আট মাসে। দেশের বাইরে দিয়েছেন ছয়টি ডেলিভারি। দেশের ৪৬টি জেলায় পৌঁছে দিয়েছেন তার পণ্য। প্রতি মাসে অর্ডার পান ৪০-৫০ হাজার টাকার।

তিনি মনে করেন,”বিজনেস এর ক্ষেত্রে পুঁজি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি মাত্র দশ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে উদ্যোগ শুরু করেছিলামতারপর ধাপেধাপে এগিয়েছি কোন রকম তাড়াহুড়ো না করে একটু চিন্তাভাবনা করে ইনভেস্ট করেছি যাতে মানসিকভাবে চাপ মুক্ত থাকতে পারি।” তার এই সুপরিকল্পিত প্রয়াসই ব্যবসায় সফলতা অর্জনের চাবিকাঠি

ব্যবসা শুরুর গল্প সম্পর্কে বন্ধন বলেন, “ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতাম নিজে কিছু করার স্টুডেন্ট থাকা অবস্থায় বিজনেস নিয়ে পরিকল্পনা করতাম যথেষ্ট সুযোগ পুঁজির অভাবে সেটা আর করতে পারিনি মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ করার পর বিয়ে হয় বিয়ের পর ঢাকায় এসে বিসিএস কোচিং ভর্তি হই এক মাস ক্লাস করি কিন্তু অসুস্থতার কারণে সেটা আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি

বিয়ের এক বছরের মাথায় মেয়ের জন্ম হয় মেয়ে পৃথিবীতে আসার আগের সময়গুলোতে খুব চিন্তা করতাম কি করব, কিভাবে নিজের পরিচয় গড়ব সবচেয়ে বেশি চিন্তা হতো মেয়ের ভবিষ্যত নিয়ে যদি চাকরি করা হয় তাহলে মেয়ের দেখাশোনা করবে কে? এসব ভাবনা থেকেই ব্যবসার চিন্তা মাথায় আসে সব সময় ভাবতাম এমন কিছু করতে হবে যেটার মাধ্যমে নিজের পরিচয় গড়তে পারব আবার মেয়েকেও সময় দিতে পারব সেই ভাবনা থেকেই মূলত অনলাইন বিজনেস শুরু করা।”

আত্মপ্রত্যয়ী বন্ধনের স্বপ্ন পূরণের সাফল্যগাথা

আত্মপ্রত্যয়ী বন্ধনের স্বপ্ন পূরণের সাফল্যগাথা

বন্ধন জানান, ২০২০ সালের জুন মাসে নারীদের অনলাইন বিজনেস প্লাটফর্মউই’ (উইমেন্স অ্যান্ড কমার্স ফোরাম) তে যোগ দেন সেখানে অনেকেই পান যারা বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছেন গ্রুপে সবাইকে দেখে অনেক সাহস পান শুরু করলেন তার উদ্যোগ প্রথমে অনেক বাজে কথা শুনতে হয়েছে মানুষের কিন্তু তাতে তিনি কর্ণপাত করেননি বরং আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজ চালিয়ে গেছেন

বন্ধন আরো জানান, প্রথমে পণ্য ছিল গুঁড়া মশলা, মধু, মেহেদী আমলকী মেথি গুড়া, পেঁয়াজ তেল আর মশলার মধ্যে সিগনেচার পণ্য ছিল আদা, রসুন গুড়া একটু আনকমন প্রোডাক্ট রাখতে চেয়েছেন সেজন্য এই সংযোজন পরবর্তীতে মেয়েদের শাড়ি, কুর্তি, থ্রি পিস নিয়েও কাজ করছেন মূলত গুড়া মসলার জন্য পাইকারি দামে আড়ৎ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে তিনি নিজেই মসলার জন্য প্রস্তুত করেন যাতে কাস্টমারদের কম দামে কোয়ালিটি সম্পন্ন পণ্য দিতে পারেন অর্গানিক পণ্যগুলো নিজে হাতে তৈরি করায় শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারেন 

বন্ধন জানান, তার ব্যবসার ফেইসবুক পেইজ ‘Ghorowa-ঘরোয়াখোলার প্রথম দিনেই ৩টা অর্ডার পেয়েছিলেন প্রথম দিনের অর্ডারগুলোই তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল তারপর থেকে বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছেন চারশোর বেশি অর্ডার ডেলিভারি করেছেন গত আট মাসে এরইমধ্যে ৪৬ জেলায়ঘরোয়া পণ্য পৌঁছে দিয়েছেন এমনকি দেশের বাইরেও ৬টি অর্ডার ডেলিভারি দিয়েছেন যা তার জন্য অনেক বড় পাওয়া ঘরোয়ার পণ্য যে কেউ দেশের যে কোনো জায়গা থেকে কালেক্ট করতে পারবেন ফ্রেশ পণ্য নিতে চাইলে ‘Ghorowa-ঘরোয়াফেসবুক পেজে মেসেজ বা ফোনে অর্ডার করতে পারবেনঢাকার মধ্যে হোম ডেলিভারি এবং ঢাকার বাইরে সুন্দরবন কুরিয়ারের মাধ্যমে ডেলিভারি দেয়া হয়

এত কিছু থাকতে উদ্যোক্তাকে তিনি নিজের পরিচয় গড়ার জন্য বেছে নিয়েছেন এখানে তিনি নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবেন নিজে কিছু করার জন্য শুধু চাকরিই  করতে হবে এমন চিন্তাধারায় বিশ্বাসী নন তিনি মনে করেন যার যে কাজের প্রতি ভালোবাসা আছে তার সে কাজ নিয়ে এগিয়ে যাওয়া উচিত

আত্মপ্রত্যয়ী বন্ধনের স্বপ্ন পূরণের সাফল্যগাথা

আত্মপ্রত্যয়ী বন্ধনের স্বপ্ন পূরণের সাফল্যগাথা

 

এক কন্যা সন্তানের জননী বন্ধনের স্বামী কাজী খায়রুল কবির বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন নিজের উদ্যোক্তা হওয়ার পিছনে স্বামীর সহযোগিতা অবদানকে স্বীকার করে বন্ধন বলেন, প্রথম থেকেই তিনি তার এই কাজে স্বামীর সাপোর্ট পেয়েছেন তার সহযোগিতাতেই এতদূর আসা সম্ভব হয়েছে 

ঘরোয়া নিয়ে আরো বহুদূর যাওয়ার স্বপ্নের কথা উল্লেখ্য করে বন্ধন বলেন, “তার চাওয়া ঘরোয়া একদিন সারাদেশে ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এর মাধ্যমে যাতে /১০জন মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন সে প্রত্যাশা রাখেন।”

তরুণ প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কোন কাজই ছোট নয়,সততার সাথে যে কাজটাই করা হবে সেটাই সম্মানের নেতিবাচক কথাগুলো কে নিজের শক্তি হিসেবে নিতে হবে, ওই নেগেটিভ কথা বলা মানুষগুলো কে দেখিয়ে দিতে হবে উদ্যোক্তা হওয়াটাও এতো সহজ কাজ না অন্যের প্রতিষ্ঠানে জব করার চেয়ে নিজে /১০ জন মানুষের কর্মসংস্থান এর ব্যবস্থা করতে পারাটা বেশি সম্মানের

আত্মপ্রত্যয়ী শারমিন বন্ধন এর পথচলার এই গল্পটি চাকুরি প্রত্যাশায় বেকারত্ব কমিয়ে  তরুণ প্রজন্মের   উদ্যোক্তাদের জন্য নিঃসন্দেহে অনুকরণীয় আদর্শ

 

আমাদের এমনই আরও ব্লগ নিয়ে জানতে এখানে ক্লিক করুন

 

রোকসানা বিনতে আলম

ইন্টার্ন, কন্টেন্ট রাইটিং ডিপার্টমেন্ট

YSSE



Source link